Exclusive Mithai: "আমি একদম সিঙ্গল! মনের মানুষ পেলেই এনগেজমেন্ট করে নেব," সোজাসাপটা মিঠাই

মিঠাই, সৌমিতৃষা কুন্ডু

জনপ্রিয়তা তুঙ্গে, তবু এখনও সাধারণ ইমেজই ধরে রাখেন নায়িকা৷ বলেন, বদলে কী হবে?

  • Share this:

বাংলা ধারাবাহিকগুলির মধ্যে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই শীর্ষে রয়েছে মিঠাই৷ হইচই করা পরিবারে মিঠাই-উচ্ছেবাবুর অম্লমধুর সম্পর্ক নিয়ে টানটান এগোচ্ছে গল্প৷ এক এপিসোড শেষ হতে না হতেই পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকে দর্শক৷ আর সেই সুবাদে মিঠাই অর্থাৎ সৌমিতৃষা কুণ্ডু ও সিদ্ধার্থ অর্থাৎ অদৃত সুপার ডুপার হিট! ব্যস্ততার মাঝেই ফোনে ধরা গেল মিঠাইকে৷ বেশ বোঝা গেল যে মিঠাই চরিত্রের সঙ্গে বাস্তবে অনেকটাই মিল রয়েছে সৌমিতৃষার৷ সহজ, সরল অভিনেত্রীর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ চলল কথোপকথন৷

১) তোমার তো এখন বাংলা জোড়া খ্যাতি৷ কতটা বদলেছে সৌমিতৃষা?

উত্তর- যাঁরা আমায় চেনেন তাঁরা বলতে পারবেন আমি বদলেছি কিনা৷ তবে আমি নিজে বলতে পারি যে আমি বদলাইনি৷ বদলে কী হবে বল৷ আমি মানুষটা এক আছি৷ তবে হ্যাঁ, কাজের ক্ষেত্রে বদলেছি নিশ্চয়ই৷ কাজে আরও উন্নতি করার জন্য বদলেছি৷

২)তোমার ধারাবাহিক সম্প্রতি প্রতি সপ্তাহে ১ নম্বর৷ এবং এই টিআরপির লড়াইটা খুব সাংঘাতিক৷ সেই চাপটা কী অনুভব করেন?

উত্তর- দেখুন ধাপে ধাপে এগিয়েছে পরীক্ষাটা৷ প্রথম পরীক্ষা ছিল স্লট নেওয়ার৷ তখন টেনশন হত স্লটটা ঠিকঠাক পাব কিনা৷ সেটা পাওয়ার পর হল বেঙ্গল টপার হতে পারব কিনা৷ তারপর সেই জায়গাটা ধরে রাখার লড়াই৷ আর আমাদের কাঁধে সেই দায়িত্ব, জায়গা ধরে রাখার৷ ফলে প্রতি বুধবার খুব টেনশনে থাকি৷ আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি৷ গোপালে বিশ্বাস করি৷ আমি যা চাই, ঈশ্বর আমায় দিয়েছেন৷ যা দেননি, তার থেকে বেশি কিছুই আমি পেয়েছি৷ বা অনেক সময় মনে হয়েছে যে কোনও কিছু থেকে ঈশ্বর আমায় বঞ্চিত করল৷ তারপর বুঝেছি সেটা আমার জন্য ছিলই না৷ তাই সেই ঈশ্বরকে ডেকেই একের পর এক সপ্তাহ এগোচ্ছি৷

৩)যদিও এখন কার্যত লকডাউন চলছে রাজ্যে৷ কিন্তু তার আগে করোনা আবহে কাজ করছিলেন৷ কতটা আতঙ্কের মধ্যে কাজ চলছিল? কী ধরণের ব্যবস্থা নিচ্ছিলেন?

উত্তর-এখন কাজ বন্ধ৷ কবে শ্যুটিং শুরু হবে জানা যায়নি৷ তবে এর আগে যখন কাজ চলছিল তখন খুবই সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছিলাম৷ ব্লকে ব্লকে কাজ হচ্ছিল৷ সেগুলি একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছিল৷ সিন শ্যুট হওয়ার পরপরই মাস্ক পরে নিচ্ছিলাম৷ বারবার তাই টাচআপ করতে হচ্ছিল৷ কারণ মাস্ক পরলে লিপস্টিক উঠে যায়, মেকআপে দাগ পড়ে৷ আসলে আমার মনে হয়, আমরাও একধরনের জরুরি কাজ করছি, মানুষকে আনন্দ দিয়ে৷ ঘরে বসে দর্শক আমাদের দেখে একটু আনন্দে সময় কাটাতে পারছেন৷ এটাও এক ধরণের সেবা বলে আমি মনে করি৷ পুলিশ বা ডাক্তার নিরলস কাজ করে মানুষের সেবা করছেন, আমারাও মনোরঞ্জন করে মানুষের মন ভাল রাখার চেষ্টা করছি৷ কেউ যখন লেখেন যে, দিদি অফিস থেকে ফিরেই তোমার সিরিয়ালটা দেখার জন্য অপেক্ষা করি, মন ভরে ওঠে৷ এমন কমেন্টের থেকে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে৷

ধারাবাহিক মিঠাই ধারাবাহিক মিঠাই

৪)আপনার ছোটবেলার কথা কিছু বলুন৷

উত্তর- ছোটবেলা বারাসতে কেটেছে৷ বাবা-মায়ের প্রচন্ড আদুরে মেয়ে আমি৷ একমাত্র মেয়ে, তাই বাড়ির কোনও কাজ করি না৷ ছোটবেলায় খুব দুষ্টু ছিলাম৷ তাই মা ভয়ে কিছু করতে দিতেন না৷ গ্যাস জ্বালাতে দিতেন না কারণ যদি আগুন ধরিয়ে দি! এখনও তো মা আমায় খাইয়ে দেন ছোট বাচ্চাদের মতো৷ আমি নিজে হাতে খেতে পারি না৷ সকালে বাড়ি থেকে বেরনোর আগে মা খাইয়ে দেন৷ আর শ্যুটিং-এ ওটস বা দই নিয়ে যাই, ওটা নিজে হাতে খাই৷

৫)উচ্ছেবাবু বা অদৃতের সঙ্গে বাস্তবে কেমন সম্পর্ক?

উত্তর- ও বাবা, পুরো টম অ্যান্ড জেরি৷ একেবারে চরিত্র দুটোর মতোই৷ সারাক্ষণ ঝগড়া করছি, একে অপরকে সেটেও অপমান করছি৷ কিছুদিন আগেই আমায় কী একটা বলল, এত মাথা গরম হয়েছিল যে হাতুরি নিয়ে তেড়ে গিয়েছিলাম মারব বলে! কোনদিন আপনাদের খবর করতে হবে যে নায়িকার হাতে নিহত নায়ক! (খুব হাসি)

৬)কতগুলো প্রপোজাল পেয়েছেন?

উত্তর- সে তো আছেই৷ তবে আসল প্রশ্নটা করুন৷ প্রেম করি কি না৷

৭)হ্যাঁ বলুন, প্রেম করেন?

উত্তর- না আমি পুরোপুরি সিঙ্গল! মনের মানুষ পায়নি এখনও৷ মনের মানুষ পেলে সোজা এনগেজমেন্ট করব৷ তারপর ৮-১০বছর পর বিয়ে করব৷ একেবারে আমার মতোই একজন মানুষ চাই জীবন সঙ্গী হিসেবে৷

৮)এত জনপ্রিয়তা? কীভাবে সামলান? বাড়িতে মিঠাই কেমন?

উত্তর- বাড়িতে আমার কোনও সম্মান নেই৷ (বলেই হাসি) আমি তো হাতে-পায়ে লক্ষ্মী! কিছু করতে পারি না৷ মা এখনও খুব বকে৷ মায়ের কাছে এখনও বকুনি খাই, কোনও ছাড় নেই৷

৯)বাড়িতে কে কে আছেন?

উত্তর- বাবা, মা আর আমি৷ একা মেয়ে তাই একটু বেশি প্যামপার্ড!

১০) শ্যুটিং চলাকালীন আপনার দিনের শিডিউলটা কেমন?

উত্তর- খুব ব্যস্ততার মধ্যে কাটে৷ সকাল ৭টায় থাকে কল টাইম৷ যদি কখনও ৮টায় কল টাইম থাকে তাহলে সকালে একটু বেশি সময় পাই ঘুমোনের৷ প্যাক আপ হয় প্রায় রাত ৮৷ আর মিঠাইয়ের চরিত্রটা যেহেতু খুব চনমনে তাই সবসময় খুব এনার্জি ধরে রাখতে হয়৷ কখনও যদিও একটু ক্লান্তির ছাপ পড়ে তাহলে সকলে প্রশ্ন করেন৷ ফলে আমি চেষ্টা করি বাড়ি ফিরে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে৷ খুব ধকল পড়ে৷

১১)আচ্ছা প্রেমের ব্যাপারে কথা হল, কিন্তু এটা জানা হল না যে কেমন পাত্র চান? নিজেই খুঁজবেন, নাকি গোপালের হেল্প চাইবেন?

উত্তর- না না, আমার মতো চাই তো৷ কোনও উচ্ছে বাবু নয়৷ কে জানে কীভাবে পাব৷ দেখা গেল হয়ত অ্যাসকিডেন্ট (এই ভাষায় মিঠাই কথা বলে) হয়ে ধাক্কা লেগে মনের মানুষের সঙ্গে দেখা হয় গেল৷ গোপালের দয়ায়!

Published by:Pooja Basu
First published: