corona virus btn
corona virus btn
Loading

#Exclusive: ইন্ডাস্ট্রিতে অনেককেই বিশ্বাস করে ঠকেছি, তাই এখন অনেক সাবধানী: প্রিয়াঙ্কা

#Exclusive: ইন্ডাস্ট্রিতে অনেককেই বিশ্বাস করে ঠকেছি, তাই এখন অনেক সাবধানী: প্রিয়াঙ্কা

‘আমরা দেখতেও একরকম, সবাই বলে আমি নাকি অপা মা’র নিজের মেয়ে’, মন খুলে আড্ডা দিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য্য।

  • Share this:

মাত্র ১৩ বছরে টলি-পাড়ায় পা । কোনও গডফাদার ছাড়াই আজ তিনি ছোট পর্দা, ওয়েবের জনপ্রিয় মুখ । হাতে পরপর ছবির কাজ । বছর শেষে পাড়ি জমাবেন মুম্বইয়ে । শূন্য থেকে শুরু... স্ট্রাগল... সাফল্য... মন খোলা আড্ডায় News18 বাংলার সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য্য

প্র: মেগা’কে কি পাকাপাকি ভাবে বিদায় জানালে?

উ: হ্যাঁ... মেগাকে ফাইনালি বিদায় জানালাম। তবে মেগা আমার কাছে সত্যি খুব স্পেশ্যাল জায়গায় । কারণ টেলিভিশনেই আমি সবটা পেয়েছি । যতটুকু পরিচিতি আমি পেয়েছি, সবটাই মেগা থেকে । কেরিয়ারের শুরুটাই মেগা । তাই মেগা সবসময় আমার কাছে স্পেশ্যাল । তবে হ্যাঁ, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, কেরিয়ারের গ্রোথের সঙ্গে সঙ্গে, নিজের স্বপ্নগুলো পূরণের তাগিদে আপাতত মেগাকে বিদায় জানিয়েছি। তাই এখন বড় পর্দায় একটু বেশি ফোকাস করছি ।

প্র: সত্যি! কী ছবি করছো?

উ: আপাতত দু’টো ছবি হাতে আছে। কিন্তু ওরা কিছু অ্যানাউন্স না করলে আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না। কিছুদিনের মধ্যেই সবাই জানতে পারবে । (হাসি)

প্র: বেশ... অন্তত এটা তো বলা যাবে অফারটা এল কী করে?

উ: নিশ্চয়ই বলা যাবে । আমাকে মাস দুয়েক আগে এক কাস্টিং ডিরেক্টর ফোন করে ছবিটার জন্য অফার করেন । আমাকে দেখে সিলেক্টও করেন । তারপর সেখান থেকেই আরও কয়েকটা কাজের অফার পাই ।

 ‘সীমারেখা’ আর ‘মা’ লিরিয়ালে প্রিয়াঙ্কা ।
‘সীমারেখা’ আর ‘মা’ লিরিয়ালে প্রিয়াঙ্কা ।

প্র: তুমি তো ছোট পর্দা, বড় পর্দা, ওয়েব সবেতেই কাজ করে ফেলেছ... কোনটা সবচেয়ে ভাল লাগল?

উ: হ্যাঁ তা করেছি... আসলে মেগা’তে অভিনয়টা খুব লাউড হয় । ওয়েব সিরিজে আবার ভীষণ স্বাভাবিক অভিনয় করতে হয় । আর ছবিতে অভিনয় করাটা একদম আলাদা একটা অভিজ্ঞতা । ওটাই আমার স্বপ্ন ছিল । আর সবচেয়ে বেশি আনন্দ বোধহয় সিনেমাতে অভিনয় করেই পেলাম ।

View this post on Instagram

A post shared by Priyanka bhattacharjee (@priyankabhattacharjeebubly) on

প্র: অত ছোট বয়সে টলি-পাড়ায় এলে কী করে?

উ: দেখো, মাত্র ১৩ বছর বয়সে আমার জার্নি শুরু হয় এই ইন্ডাস্ট্রিতে । তখন কিছুই বুঝতাম না । হাওড়ার আন্দুলে আমার বাড়ি । বলতে পারো একেবারে গ্রাম । সেখান থেকে টলিগঞ্জে এসে এই লড়াইটা করা একদমই সহজ ছিল না । তাও বিভিন্ন জায়গায় অভিশন দেওয়া, বিভিন্ন প্রোডাকশন হাউজ ঘুরে বেরানো... সবটাই করেছি । বাবা-মা সবসময় আমার পাশে থেকেছে । সব জায়গায় ওঁনারাই আমাকে নিয়ে গিয়েছেন।

প্র: শুরুতে এই সেজেগুজে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো...এ গুলো কেমন লাগত?

উ: ছোটবেলায় অতটা সাজ অ্যালাউড ছিল না আমাদের । তবে প্রথম প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে খুব ভয় পেতাম । পরে সেটা এনজয় করতে শুরু করি । ভালবাসা জন্মে যায় ।

প্র: আর পড়াশোনা?

উ: খুব ছোটবেলায় শুরুটা হয়েছে বলে পড়াশোনা আর অভিনয়টা সমানতালে করতে হয়েছে । যেটা খুব চাপ । মেকআপ করতে করতে পরীক্ষার পড়া মুখস্থ করতাম । একবার স্ক্রিপ্ট পড়তাম, একবার হোম ওয়ার্ক করতাম । এইভাবে উচ্চ-মাধ্যমিক পাশ করি । গ্র্যাজুয়েশনে যখন পলিটিক্যাল সায়েন্স নিয়ে ভর্তি হলাম, তখন আর এ ভাবে চালানো সম্ভব হচ্ছিল না । মেগা ছাড়লাম তখন । সে সময়ই পরপর দু’টো ওয়েব সিরিজ করি । ‘হলি ফাঁক’ আর ‘ব্যোমকেশ’ । এ বছর গ্র্যাজুয়েশন শেষ হল আমার ।

 ‘হইচই’-এর ‘হলি ফাক’ ওয়েব সিরিজের সেটে ।
‘হইচই’-এর ‘হলি ফাঁক’ ওয়েব সিরিজের সেটে ।

প্র: পরিবারের সমর্থন পেয়েছ?

উ: পরিবার ভীষণ সাপোর্টিভ । আমার স্বপ্ন কখন যেন বাবা-মার স্বপ্ন হয়ে গিয়েছে । যখন স্ট্রাগল করেছি মা প্রত্যেকটা মুহূর্তে আমার পাশে ছিল। এখনও রয়েছে। কিন্তু ছোটবেলায় বাবা আমাকে গাড়ি দিতেন না । বলতেন, নিজে খেটে স্ট্রাগলটা না করলে ভিতরে অহঙ্কার চলে আসবে । এটার দাম দিতে পারবি না । লকডাউনের আগে আমাকে মুম্বইয়ে একটা অডিশনের জন্য ডেকে পাঠায় । বাবা রাতারাতি ফ্লাইটের টিকিট কেটে আমাকে নিয়ে গিয়ে আবার পরেরদিন বাড়ি ফিরিয়ে আনেন । কাজের দাম বাবা-মা’র কাছে সবার আগে ।

প্র: এমন একটা স্বভাব বলো যাঁর জন্য প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হয় তোমাকে...

উ: একটা সমস্যা রয়েছে । খুব সহজেই আমি মানুষকে বিশ্বাস করে ফেলি । আর ভাবি সে আমার কোনও ক্ষতি করতেই পারে না । এটা করে বহুবার ঠকেছি । লোককে বিশ্বাস করে বোকা বনে যাই আমি ।

 অপা মা বা মামণির সঙ্গে দারুণ বন্ডিং প্রিয়াঙ্কার ।
অপা মা বা মামণির সঙ্গে দারুণ বন্ডিং প্রিয়াঙ্কার ।

প্র: লোকে বলে তোমার আর এক মা নাকি অপরাজিতা আঢ্য... এটা কী করে হল?

উ: হ্যাঁ সবাই বলে এটা... তবে সত্যিই মামণির সঙ্গে আমার মা-মেয়ের মতোই সম্পর্ক । আমরা ভীষণ ভীষণ ক্লোজ । ‘মা’ সিরিয়ালের সময় থেকে আমাদের সম্পর্ক । ওখানে আমার নাম হয়েছিল ‘বাবলি’ । ওই নামে এখনও ইন্ডাস্ট্রির অনেকে ডাকে আমায় । অপা মা-ও আমাকে বাবলি বলেই ডাকেন । আর আমাদের দু’জনের মুখের অনেক মিল রয়েছে বলে অনেকে তো আমাকে মামণির মেয়েই ভাবে ।

 ‘হইচই’-এর ‘ব্যোমকেশ’-এর সেটে ।
‘হইচই’-এর ‘ব্যোমকেশ’-এর সেটে ।

প্র: এই পেশায় না এলে অন্য কী হতে?

উ: সত্যি বলতে মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে নিজেকে খুব ধন্য মনে করি । আর এতে নিজের মন সব থেকে পবিত্র থাকে। সমাজের কথা ভাবি... তাঁদের জন্য কিছু করতে পারলে ভাল লাগে । হয়তো অভিনেত্রী না হলে লিডার হতাম ।

প্র: ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকদিন হয়ে গেল... কী মনে হয় এখানে নেপোটিজম বা ফেভারিটিজম কতটা রয়েছে?

উ: হ্যাঁ আছে । তবে নেপোটিজমটা হয়তো সব জায়গাতেই থাকে । ডাক্তারের ছেলেও তো ডাক্তার হয়, ব্যবসায়ীর ছেলেও বিজনেসম্যান হয়। একজন অভিনেতার ছেলেও অভিনেতা হতেই পারেন । কিন্তু বিষয়টা আসে দক্ষতা এবং যোগ্যতার । তাঁকে অবশ্যই অভিনয়টাও ভাল জানতে হবে । তবে ফেভারিটজমের যাঁতাকলে মনে হয় অনেক প্রতিভার মৃত্যু হয় । যদি কোয়েল দি, শুভ দি’দের আমরা আগের প্রজন্মের ধরি, তা হলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে আমাদের জেনারেশনের ক’টা হিরো, ক’টা হিরোইন আছে বলো । ইন্ডাস্ট্রিটা এক জায়গায় সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে । এটা বন্ধ হওয়া উচিত।

 বেড়াতে যেতে খুব ভালবাসেন ।
বেড়াতে যেতে খুব ভালবাসেন ।

প্র: লকডাউনে বাড়িতে কী করলে?

উ: প্রচুর প্রচুর রান্না করেছি... গান শুনেছি... সিনেমা দেখেছি । বাবা-মা-ভাইয়ের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা দিয়েছি । অপা মা (অপরাজিতা আঢ্য)-র শর্ট ফিল্ম ‘শামুক’ আর ‘বদ্ধ ঘরে রবি’ করেছি ঘরে বসেই ।

প্র: আর প্রেম? (মিথ্যে বলা যাবে না)

উ: হ্যাঁ আছে... খুব আছে... মাখোমাখো প্রেম আছে । তবে সেটা আমার কাজের সঙ্গে । এই মুহূর্তে কাজ ছাড়া আর কাউকে নিয়ে ভাবতেই পারছি না । (হাসি)

প্র: ভবিষ্যতের প্ল্যান কী?

উ: নিজের কেরিয়ারে আরও ফোকাসড হবো । এটাই এক এবং একমাত্র লক্ষ্য । আর এখন মুম্বইয়ের বেশ কিছু প্রডাকশন হাউজের সঙ্গে কথা চলছে । সম্ভবত পাকাপাকি ভাবে মুম্বইয়েই শিফ্ট করব । ফিঙ্গার ক্রসড...(হাসি) ।

Published by: Simli Raha
First published: September 14, 2020, 11:49 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर