corona virus btn
corona virus btn
Loading

‘‘আমি চাই নির্ভয়া কেসের দোষীদের অবিলম্বে কঠিন শাস্তি হোক’’: শেফালি শাহ

‘‘আমি চাই নির্ভয়া কেসের দোষীদের অবিলম্বে কঠিন শাস্তি হোক’’: শেফালি শাহ

কেরিযারের নানা ওঠা-পড়া নিয়ে মন খোলা আড্ডা দিলেন শেফালি শাহ।

  • Share this:

ARUNIMA DEY

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে অভিনয় করছেন তিনি। তবে ‘দিল্লি ক্রাইম’ তাঁকে অন্য চূড়ায় পৌঁছে দেয়। তিনি শেফালি শাহ। সিজন টু এর শ্যুটিং শুরু হবে কয়েক দিনের মধ্যেই। নতুন সিরিজ নিয়ে কিছু বলতে নারাজ। তবে কেরিযারের নানা ওঠা-পড়া নিয়ে মন খোলা আড্ডা দিলেন শেফালি শাহ।

প্রথমেই ‘দিল্লি ক্রাইম’-এর সাফল্যের জন্য অনেক অনেক অভিনন্দন।

শেফালি: ধন্যবাদ

‘দিল্লি ক্রাইম’-এর অফার পাওয়ার সময়, কিংবা শ্যুটিং করার সময় বুঝেছিলেন এই শো এতো সফল হবে?

শেফালি: সত্যি বলতে স্ক্রিপ্ট পরার সময় বুঝিনি কিছু। তবে যখন শ্যুটিং করতে শুরু করলাম, তখন বুঝতে পারলাম আমি খুব বিশেষ কিছুর সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। রিচি মহেতা এমন একটা কাজের দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন যা নিয়ে আগামী দিনে আমার গর্ব হবে।

ঠিক তেমটাই হলো?

শেফালি: (হেসে) কোনও কাজে কমিট করার আগে আমি তার আউটকাম নিয়ে ভাবি না। অভিনয় শৈলিটাই আমি ভালবাসি। এমন চরিত্র পেতে চাই, যার স্ক্রিপ্ট পড়লে মনে হবে, আমি কিছুতেই পারব না। প্রশংসা, পুরস্কার ভাল লাগে। তবে ক্যামেরার সামনের মুহূর্তটাই আমার কাছে আসল। ‘দিল্লি ক্রাইম’-এর সাফল্যের পর চাইব আমি আরও ভাল কাজ পাই। ইন্ডাস্ট্রির যারা আমাকে ভাল বলছেন তাঁরা আমাকে কাজ দিক। কাজ পাচ্ছি না এমন নয়। কিন্তু ‘দিল্লি ক্রাইম’-এর পর এক্সপেকটেশন বেড়ে গিয়েছে। এর চেয়ে ভাল অভিনয় করার চাপটা তো রয়েছেই।

দিল্লি ক্রাইম-এর ভার্তিকার সঙ্গে আপনার কতটা মিল রয়েছে?

শেফালি: অনেক মিল রয়েছে। তার মধ্য সবচেয়ে বড় মিল হলো, ভর্তিকার মতো আমিও কাজে ডুবে যাই। যখন যে চরিত্র করি তার মধ্যেই থাকি। এমন কোনও চরিত্র করি না, যেটা আমাকে কনজিউম করবে না। চরিত্র থেকে বেরোতে আমার সময় লাগে। ‘দিল্লি ক্রাই’ম করার সময় আমি সেফালি নয় ভার্তিকাই ছিলাম। আমরা দিল্লিতে শ্যুট করেছি সেটা ভাল। বাড়িতে থাকলে হয়তো এতোটা ডুবে যেতে পারতাম না।

‘দিল্লি ক্রাইম’-এর পর সকলে আপনাকে নিয়ে কথা বলছে। কিন্তু ২৫ বছর ধরে অভিনয় করছেন আপনি। এতে অবাক লাগে?

শেফালি: দেখুন আমি বহু বছর ধরে কাজ করছি ঠিকই। কিন্তু আমার ফিল্মোগ্রাফিতে খুব কম ছবিই আছে। তবে ‘সত্যা’ , ‘মনসুন ওয়েডিং’, ‘গান্ধী মাই ফাদার’, যে ক’টা ছবির অংশ হয়েছি, সেগুলোতে আমার কিছু করার ছিল। শুধুমাত্র সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ছবি কখনওই করবো না। তবে ‘জুস’, ‘ওয়ান্স এগেন’ ও ‘দিল্লি ক্রাইম’ আমার জন্য অনেক অ্যাভিনিউ খুলে দিয়েছে।

যখন শুরু করেছিলেন, তখন ভাল ছবির প্রস্তাব কি কম পেতেন?

শেফালি: কিছুটা সত্যি। মহিলাদের জন্য তখন ভাল চরিত্র খুব কমই লেখা হতো। স্টার সিসটেম ছিল। আমার ক্ষেত্রে আরও একটা সমস্যা ছিল যে আমি কুড়ি বছর বয়সেই পয়ত্রিশ, চল্লিশ বছরের মহিলার চরিত্র করেছি। আবার আমার তিরিশ বছর বয়স যখন আমি অমিতাভ বচ্চনের স্ত্রীয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছি ‘ওয়াক্ত’-এ, যার অনস্ক্রিন বয়স পঞ্চাশ। তাতে আমি টাইপকাস্ট হয়ে গিয়েছিলাম। কেরিয়ারের গোড়ার দিক থেকেই আমি নিজের বেশি বয়সের মহিলার চরিত্রই পেতাম। ‘জুস’, ‘ওয়ান্স এগেন’ ও ‘দিল্লি ক্রাইম’-এই আমি নিজের বয়স প্লে করার সুযোগ পেয়েছি।

‘দিল ধড়কনে দো’ করার সময় প্রথমটা আপনি করবেন না বলেছিলেন? বয়সের জন্যই কী?

শেফালি: দিল ধড়কনে দো-র ছবির স্ক্রিপ্ট আমার অসাধারণ লেগেছিল। কিন্তু সেখানেও আমি যাঁদের মায়ের চরিত্র করছিলাম তাঁরা আমার চেয়ে কয়েক বছরেরই ছোট। টাইপকাস্ট হয়ে যাব, ভয় পেয়েছিলাম। এর পরই আমি ‘নির্জা’ এবং ‘কাপুর অ্যান্ড সন্স’-এর অফার পাই। দু‘টোর চিত্রনাট্যই আমায় মুগ্ধ করেছিল। কিন্তু জেনে বুঝেই রাজি হইনি।

আপনার মনে হয়, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম গুলোর জন্য অনেক অভিনেতারা নতুন ভাবে আবিষ্কৃত হচ্ছেন?

শেফালি: অভিনেতারা তো বটেই। অনেক পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, টেকনিশিয়ান ভাল কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের কাজ হচ্ছে ওয়েব-এ। এই গল্পগুলো শুধু নায়ক-নায়িকা নির্ভর নয়, চরিত্র নির্ভর। সিনে জগতটাকে অনেক বিস্তার করেছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম।

সত্যা’ (satya) তে আপনার ৭ মিনিটের স্ক্রিন টাইম ছিল। আপনি ডিউরেশন নিয়ে কখনও ভাবেননি। ‘দিল্লি ক্রাইম’-এর পরও কি আপনি এমনটাই ভাবেন?

শেফালি: দেখুন ওয়েব সিরিজ মানে আট ঘন্টার ছবি। সেখানে এক বা দু’টো সিন করলে এমপ্যাক্ট ফেলা সম্ভব নয়। খুব দারুণ কিছু না পেলে ওয়েবের জন্য কম মেয়াদের চরিত্র করব না। কিন্তু ছবির ক্ষেত্রে আমার কাছে টাইম স্প্যানটা ইমপর্টেন্ট নয়। ছাপ ফেলার মতো কিছু পেলেই করব।

আপনি অনস্ক্রিন যেটা নিয়ে আসেন, সেটা অসম্ভব ভাল। তবে বিশ্লেষণ করা মুশকিল। কিন্তু ‘দিল্লি ক্রাইম’-এর একটা সিনে নাকি আপনি পরিচালককে ডেকে বলেছিলেন আপনি পারবেন না?

শেফালি: আমি এরকমই। এমনই চরিত্র করতে রাজি হই, যেটা আমার রাতের ঘুম কেড়ে নেবে। কিন্তু শট দেওয়ার আগে খুব নার্ভাস লাগে। আমার মনে হয়, পরিচালক অ্যাকশন বলবেন, আর আমি কিছুই করতে পারব না। বোকার মতো দাড়িয়ে থাকবো। আসলে আমি ইনসিংক্ট-এ বিশ্বাসী। টেকনিক নিয়ে চর্চা করি। কিন্তু ক্যামেরার সামনে ঠিক কী করবো সেটা সিনের আগে আমিও বলতে পারব না। যে সিনের কথা আপনি বলছেন তখন আমার মনে হচ্ছিলো ইনসিংক্ট কাজ না করলে কী করব? শট দিতে যাওয়ার আগে ভ্যানিটি-র টোয়লেট ফ্লোরে বসে আমি কাঁদছিলাম।

সিনটা দেখে কেউ বলতে পারবে না আপনি এতোটা নার্ভাস ছিলেন। ভার্তিকা হোক কিংবা ‘লক্ষ্মী’-র দেহ কর্মীর চরিত্র এদের সকলের সঙ্গে আপনার মিল থাকা সম্ভব নয়। আপনি কী ভাবে চরিত্রে প্রবেশ করেন?

শেফালি: আমি ব্যাক স্টোরি তৈরি করি। সেটা গল্পে থাকুক না থাকুক। কোনও চরিত্রের ছোটবেলা কেমন ছিল। সে আজ যা করছে সেটার বীজ কী বহু পুরনো? সে সব প্রশ্নের উত্তর নিজেই খুঁজি। চরিত্রটাকে বুঝলে আমার করতে অসুবিধে হয় না।

আপনি ঋতুপর্ণ ঘোষের সঙ্গে ‘দ্য লাস্ট লিয়র’ করেছেন বাংলা ছবি করার ইচ্ছে নেই?

শেফালি: প্রচণ্ড ভাবে করতে চাই। বাংলা ছবিতে মহিলাদের চরিত্র নির্মাণ, খুব যত্ন নিয়ে করা হয়। লেয়ার্ড চরিত্র লেখা হয় মহিলাদের জন্য। প্রস্তাব পাই না। অপেক্ষায় আছি।

‘দিল্লি ক্রাইম’-এর কথাই হচ্ছে যখন, তখন জানতে চাইব, যে কোনও মুহূর্তে নির্ভয়া কেসের রায় শোনানো হতে পারে। মনে করা হচ্ছে ১৬ ডিসেম্বরই ফাঁসি হতে পারে। ওয়েব সিরিজ করার দরুণ ঘটনাটা অন্তর দিয়ে অনুভব করেছেন আপনি। কী বলবেন?

শেফালি: ‘দিল্লি ক্রাইম’-এ অভিনয় না করলেও আমি প্রচন্ড কানেকটেড বোধ করতাম। একটা ঘৃণ্য পাপ হয়েছে। নারী, শিল্পী হিসেবে আমার রাগ, দুঃখ হয়েছে তো বটেই। অপমানিত বোধ করেছি। আমি চাই অবিলম্বে কঠিন শাস্তি হোক। আমি কেন গোটা দেশ, গোটা মানবজাতি তাই চায়।

Published by: Akash Misra
First published: December 12, 2019, 9:21 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर