corona virus btn
corona virus btn
Loading

জয়তু জটায়ু: ‘জটায়ু’কে ফেলুদা গল্পে কেন এনেছিলেন সত্যজিৎ ?

জয়তু জটায়ু: ‘জটায়ু’কে ফেলুদা গল্পে কেন এনেছিলেন সত্যজিৎ ?

মাথায় টাক, নাকের নিচে ঝাঁটা গোঁফ ৷ পরনে ধুতি পঞ্জাবি ও চপ্পল ৷ ট্রেনের কামরায় কুলির সঙ্গে ভাড়া নিয়ে দরদস্তুর, ‘তং মত করো !’ ‘সোনার কেল্লা’তে আগমণ সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা সিরিজের নতুন চরিত্র ‘জটায়ু’ ওরফে লালমোহন গাঙ্গুলী ৷

  • Share this:

#কলকাতা: মাথায় টাক, নাকের নিচে ঝাঁটা গোঁফ ৷ পরনে ধুতি পঞ্জাবি ও চপ্পল ৷ ট্রেনের কামরায় কুলির সঙ্গে ভাড়া নিয়ে দরদস্তুর, ‘তং মত করো !’ ‘সোনার কেল্লা’তে আগমণ সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা সিরিজের নতুন চরিত্র ‘জটায়ু’ ওরফে লালমোহন গাঙ্গুলী ৷ বই থেকে পর্দায় সত্যজিৎ এই চরিত্রকে রাখলেন একেবারে অবিকল ৷ তাঁর আদব-কায়দায়, সংলাপে, ফেলুদার সঙ্গে বার্তালাপের মাঝখানে, ফেলুদা-র পাশাপাশি বাঙালি পেল নতুন এক আইকোনিক চরিত্র জটায়ুকে ৷ যে চরিত্র ফেলুদার পাশাপাশি সমান উজ্জ্বল, সমান জনপ্রিয় ৷  তবে এই জটায়ুকে কিন্তু ফেলুদা গল্পে অনেক দিন পরে এনেছেন সত্যজিৎ ! কেন জানেন?

১৯৬৫ সালে ‘সন্দেশ’ পত্রিকায় প্রথম ফেলুদার গল্পের সূত্রপাত ৷ তারপর একে একে বাদশাহী আংটি, কৈলাশ চৌধুরীর পাথর, শেয়াল দেবতার রহস্য, গ্যাংটকে গণ্ডগোল, তারপর আসে  সোনার কেল্লা ৷ সত্যজিৎ রায় কিন্তু সোনার কেল্লার আগের এই সব কটি গল্পে একটি-তেও লালমোহন গাঙ্গুলী ওরফে জটায়ু-র চরিত্র আনেননি ৷ তাহলে হঠাৎ সোনারকেল্লাতে কেন প্রয়োজন হয়ে পড়ল আরেক নতুন চরিত্রের?

জয় বাবা ফেলুনাথের দৃশ্য জয় বাবা ফেলুনাথের দৃশ্য

জনপ্রিয় ফিল্ম সমালোচক ও অধ্যাপক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় মনে করেন, ‘জটায়ু চরিত্র সত্যিই এক কাল্ট চরিত্র তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই ৷ সন্তোষ দত্ত ও পরে রবি ঘোষ যেভাবে এই চরিত্রকে পর্দায় তুলে ধরেছিলেন তা বাঙালি কোনও দিন ভুলতে পারবে না ৷ মুগ্ধ শব্দটা বললে কম বলা হবে ৷ এতো গেল অন্য কথা ৷ কিন্তু যে ময়ূরকে দেখে ন্যাশনাল বার্ড বলে আপ্লুত হয় কিংবা সাহারায় শিহরন নামে বই লেখে, এরকম একটা চরিত্রকে সত্যজিৎ রায় কেন নিয়ে আসলেন ফেলুদাতে? আমার বরাবরই ফেলুদা পড়ে বা ছবিগুলো দেখে মনে হয়েছে, সত্যজিৎ জটায়ু চরিত্রটি দিয়ে সমগ্র বাংলা গোয়েন্দা গল্পকে ঠাট্টা করছেন ৷ এটা একধরণের রিফ্লেক্সিভিটি ৷ জটায়ুর মধ্যে দিয়ে সত্যজিৎ রায় নিজেই নিজের গোয়েন্দা গল্পকে প্রশ্ন করছেন, ভারি বাংলায় একে বলে প্রতিবর্ততা৷ এর অর্থ হল, এতদিন ধরে যে গোয়েন্দা গল্প বাংলায় প্রচলিত ছিল যেমন হেমেন্দ্র কুমার রায় থেকে দস্যুমোহন, সস্তার স্বপনকুমারের মতো লেখকের গোয়েন্দা গল্প, সেখানে বরাবরই একজন সর্বজ্ঞ, যিনি সব জানেন, এমন একজন রাষ্ট্রশক্তির বিকল্প প্রতিনিধির উপস্থিতি থাকত ৷ কিন্তু সত্যজিতের জটায়ু এমন একজন যিনি গোয়েন্দা গল্পের লেখক, অনেক কিছু জানেন এবং আমাদের সে বিষয়ে অনেক তথ্য দেন ৷ আসলে গোয়েন্দা গল্প প্রকৃত কী? সত্যজিৎ রায় যেহেতু শালর্কহোমস ও আগাথা ক্রিস্টি-র সম্পর্কে জানতেন, সেহেতু আমার মনে হয় সত্যজিৎ অন্য ছবির ক্ষেত্রেও যেমন আন্তর্জাতিক মাত্রাটা তুলে ধরতে চেয়েছেন, এখানেও সেই জটায়ু চরিত্রের ঠাট্টা, পরিহাসের মধ্যে দিয়ে বাংলা গোয়েন্দা গল্পের চলে আসা ট্র্যাডিশনকে প্রশ্ন করেছেন  ৷’

সোনারকেল্লার শ্যুটিংয়ে সোনারকেল্লার শ্যুটিংয়ে

সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা গল্পে ভ্রমণ রয়েছে ৷ আর তা লেখনি এতটাই পিকটোরিয়াল যে, যদি কেউ কোনও দিন দার্জিলিং বা গ্যাংটক না যান, তাও তাঁর চোখের সামনে দার্জিলিং ম্যাল, গান্ধি রোড ফুটে উঠবে ৷ এটা একজন ফিল্ম মেকারই পারেন ৷ তবে জটায়ু সত্যজিৎ রায়ের তৈরি এমন এক চরিত্র, যা কিনা গোয়েন্দা গল্প বলার সঙ্গে সঙ্গে গোয়েন্দা গল্প বলার ট্র্যাডিশনকেও সমানে সমালোচনা করে চলেছে ৷ আর এই সমালোচনার জন্যই মনে হয়, ইচ্ছে করে বা খুবই সচেতনভাবে জটায়ু চরিত্র নিয়ে আসেন সত্যজিৎ ৷ এক কথায় জটায়ু হল গোয়েন্দা গল্পের কাউন্টার পয়েন্ট ৷ ’

সত্যজিতের ‘জটায়ু’ যে শুধুই সমালোচনা বা কাউন্টার তা নয়, তাঁর গল্পের বা ছবির ক্ষেত্রে এক বুদ্ধিদীপ্ত কমিক রিলিফও ৷ যা কিনা গোয়েন্দা গল্পের টানটান উত্তেজনা থেকে একটু অন্য স্রোতে গেলেও, গোয়েন্দার গল্পের সঙ্গেই এগিয়ে যায় এবং অনেক সময়ই রহস্য সমাধানের ‘ক্লু’কে ধরিয়ে দেয় !

ফেলুদা গল্পে সত্যজিৎ যতটা ফেলুদা, ততটাই তোপসে, আবার ততটাই জটায়ু নিজেই ৷ আর তাই তো জটায়ু চরিত্র আসার আগেই ‘গ্যাংটকে গণ্ডগোল’ নামেই জটায়ুকে অল্প করে পরিচয় করিয়ে দেন ৷ তার পরেও সত্যজিতের গল্পের নামকরণে জটায়ুর হাতছানি, যেমন বোম্বাইয়ের বোম্বেটে, গোঁসাইপুর সরগরম, কৈলাশে কেলেঙ্কারি ৷ দেখুন মিলিয়ে ঠিক যেন, সাহারায় শিহরন, দুর্ধর্ষ দুশমন, ভ্যাংকুভারে ভ্যাম্পায়ার, হন্ডুরাসে হাহাকার, লন্ডনে লন্ডভন্ড !

First published: May 4, 2020, 2:55 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर