• Home
  • »
  • News
  • »
  • entertainment
  • »
  • Asansol Flood : বিদায়বেলায় তাণ্ডব বর্ষার, আরও জল ছাড়ছে মাইথন, নাজেহাল পশ্চিম বর্ধমান

Asansol Flood : বিদায়বেলায় তাণ্ডব বর্ষার, আরও জল ছাড়ছে মাইথন, নাজেহাল পশ্চিম বর্ধমান

রেকর্ড পরিমান বৃষ্টি হয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলে। দুর্গাপুরের অধিকাংশ এলাকাও জলমগ্ন। সব মিলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জেলাজুড়ে।

রেকর্ড পরিমান বৃষ্টি হয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলে। দুর্গাপুরের অধিকাংশ এলাকাও জলমগ্ন। সব মিলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জেলাজুড়ে।

রেকর্ড পরিমান বৃষ্টি হয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলে। দুর্গাপুরের অধিকাংশ এলাকাও জলমগ্ন। সব মিলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জেলাজুড়ে।

  • Share this:

    #পশ্চিম বর্ধমান: শেষবেলায় পশ্চিম বর্ধমান জেলাবাসীকে 'তুর্কি নাচন' করিয়েছে বর্ষা। পুজোর দু সপ্তাহ আগে জেলাজুড়ে বন্যা পরিস্থিতি। পশ্চিম বর্ধমান ছাড়াও পুরুলিয়া, বাঁকুড়াতে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে। তবে বর্ষার শেষবেলায় রেকর্ড পরিমান বৃষ্টি হয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলে। দুর্গাপুরের অধিকাংশ এলাকাও জলমগ্ন। সব মিলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জেলাজুড়ে। মানুষের প্রাণহানি না ঘটলেও, প্রচুর গবাদিপশু প্রাণ হারিয়েছে। প্রচুর মানুষ আশ্রয়হীন।

    নিম্নচাপ কাটিয়ে শুক্রবার আকাশে সূর্য দেবের দেখা পাওয়া গিয়েছে। তবে এখনও কাটেনি আশঙ্কার মেঘ। জেলাবাসীর চিন্তা বাড়িয়ে আরও জল ছেড়েছে মাইথন এবং পাঞ্চেত ড্যাম। স্বাভাবিকভাবেই আরও জল ছাড়বে দুর্গাপুর ব্যারেজ। ফলে দামোদরের নিম্ন অববাহিকার গ্রামগুলির পাশাপাশি, চিন্তা বাড়ছে পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি জেলারও।

    বিপদ বাড়িয়ে আবার জল ছাড়ছে মাইথন এবং পাঞ্চেত ড্যাম। ডিভিসি সূত্রে খবর, মাইথন থেকে আরও এক লক্ষ ১৫ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। পাঞ্চেত থেকে ছাড়া হবে ৩৫ হাজার কিউসেক জল। সব মিলিয়ে এই দুটি জলাধার থেকে বিপুল পরিমান জল ছাড়া হচ্ছে। এই জল সন্ধ্যে নাগাদ পৌঁছবে দুর্গাপুর ব্যারেজে। শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়ায়, জল ছাড়া কমিয়েছিল দুর্গাপুর ব্যারেজ। তবে সন্ধ্যার পর জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    সূত্রের খবর,  মাইথন ও পাঞ্চেত দুটি জলাধার মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ কিউসেক জল এসে পৌঁছেছে। তার ফলেই এই বিপুল পরিমান জল নতুন করে ছাড়া হচ্ছে।

    অন্যদিকে আসানসোলে এসে পৌঁছেছেন রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর এর মন্ত্রী জাভেদ খান। আসানসোলের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটকের সঙ্গে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সেরেছেন বৈঠকও।

    প্রবল বৃষ্টির জেরে জেলার একাধিক জায়গায় ভেঙে পড়েছে বাড়ি। ভেঙেছে বিভিন্ন জায়গার রাস্তা। রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে। ভয়ঙ্কর এই দৃশ্য দেখে কার্যত দিশেহারা জেলার বিভিন্ন জায়গার মানুষ। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, আসানসোলে এক দিনে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। ৪৩৪.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে আসানসোলে। দুর্গাপুরে বৃষ্টি হয়েছে ২২০ মিলিমিটার। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রবল বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। যার মধ্যে ১৪ হাজার বাসিন্দাকে উদ্ধার করা হয়েছে শুক্রবার সকালের মধ্যে। এখনও জোরকদমে চলছে উদ্ধার কাজ।

    প্রবল বৃষ্টিতে কার্যত ভেসে গিয়েছিল আসানসোলের রেলপার এলাকার। সেখানকার ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কার্যত জলের তলায় চলে গিয়েছে। শুধুমাত্র এই তিনটি ওয়ার্ডে ৩০০ এর বেশি বাড়ি জলমগ্ন হয়েছে। স্টেশন রোডের রেল টানেল জলমগ্ন হয়ে যাওয়ায়, দুটি রাস্তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। রেলপাড়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল মূল আসানসোল শহরের। কালিপাহাড়ির একাধিক জায়গায় জল জমে সমস্যা অনেক বেড়েছে। বহু বাড়িতে জল ঢুকে যাওয়ায় আশ্রয় হারিয়েছেন বহু মানুষ। কেউ কেউ নিজেদের উদ্যোগেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

    বার্নপুর, কুলটির বিভিন্ন জায়গায় জল জমে সমস্যা বেড়েছে। একই অবস্থা দুর্গাপুরের। দুর্গাপুরের নিম্ন এলাকাগুলিতে জল জমে সমস্যা পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও কোথাও নৌকা নিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গিয়েছে মানুষকে। দুর্গাপুর ব্যারেজ সংলগ্ন এলাকায়গুলি কার্যত জলের তলায় ডুবে গিয়েছে। গলা পর্যন্ত জলে দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ চরম সমস্যার সম্মুখীন। কাঁকসার সিলামপুর সহ একাধিক অঞ্চল জলমগ্ন। অন্ডালে জলমগ্ন পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়েছে বেশ কিছু বাড়ি। প্রশাসনিক আধিকারিকরা বিভিন্নভাবে উদ্ধারকার্য চালাচ্ছেন।

    প্রবল বৃষ্টির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার বিভিন্ন রাস্তা। দুই নম্বর জাতীয় সড়কের বিভিন্ন জায়গায় জল জমে সমস্যায় পড়েছিলেন মানুষ। আসানসোল কাল্লা রোডের রাস্তার অনেকটা অংশ ভেসে গিয়েছে। ওই অঞ্চলে একটি হাসপাতাল রয়েছে। যার ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা মানুষজন। অনেক ক্ষেত্রেই অ্যাম্বুলেন্সকে ঘুরপথে পৌঁছতে হচ্ছে হাসপাতালে। এছাড়াও ছোট ছোট সেতুগুলির অবস্থা সঙ্কটজনক। যে সমস্ত সেতুগুলি জলের তলায় চলে গিয়েছে, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে যাতায়াত আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

    প্রবল বৃষ্টির জেরে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাটির বাড়িগুলি। বারাবনি পঞ্চায়েতের রামপুরে বেশ কয়েকটি মাটির বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আসানসোল, সালানপুর, গোপালপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে পড়েছে। দুর্গাপুরে পাইপলাইনে কাজ হওয়ার ফলে ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের ধ্স নেমেছে। পাশাপাশি এই এলাকায় প্রায় ৫০ টি বাড়ি বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে রানীগঞ্জে প্রায় ৫০০ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্ডালে। সব মিলিয়ে বহু মানুষ দুদিনের ভারী বৃষ্টিতে আজ আশ্রয় হারিয়েছেন। গ্রামীণ এলাকার গুলিতে প্রাণ গিয়েছে বহু গবাদিপশুর। যদিও জল পুরোপুরি না নেমে যাওয়া পর্যন্ত, কত গবাদিপশুর প্রাণ গিয়েছে, তার পরিসংখ্যান এই মুহূর্তে জেলা প্রশাসন সূত্রে পাওয়া যাবে না।

    প্রবল বৃষ্টির জেরে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি জমিগুলি। পশ্চিম বর্ধমানের কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর, প্রায় ২৫৫০ হেক্টর জমি জলমগ্ন হয়েছে. পাশাপাশি দুর্গাপুর সংলগ্ন বাঁকুড়ার সোনাই চন্ডীপুর, কাঁকসার সিলামপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় ৫০০ বিঘা জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। যদিও জেলা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জল দ্রুত নেমে যাচ্ছে। ফলে জমির ফসল নষ্ট না হওয়ার আশা এখনও পর্যন্ত রয়েছে। তবে নিম্নবর্তী এলাকাগুলির জমি এখনও জলমগ্ন রয়েছে।

    রেকর্ড বৃষ্টির জেরে জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার সঙ্গে মোকাবিলা করতে প্রশাসনের তরফ থেকে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক। আসানসোলের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন সেরেছেন রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের মন্ত্রী জাভেদ খান। তাছাড়াও এই বন্যা পরিস্থিতিতে আসানসোলের রেলপারের মানুষকে নিকটবর্তী স্কুল, মসজিদে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ব্লক প্রশাসনের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির বাসিন্দাদের উঁচু জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর ছটি দল, সেনার তিনটি দল উদ্ধার কার্য চালিয়েছে। অন্ডাল, রানীগঞ্জ এর ৩০০ এর বেশি বাসিন্দাকে উদ্ধার করেছে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর এর কর্মীরা। প্রায় পাঁচটি ত্রাণশিবিরে ২৭০ জনকে রাখা হয়েছে। তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে কাঁকসার সিলামপুরের এবং দুর্গাপুরের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ির মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: