মৃণাল সেনের জন্মবার্ষিকীতে প্রকাশিত বিশেষ ক্যালেন্ডার ও ‘পদাতিক’-এর পোস্টার

ছবি সৌজন্য-উদ্যোক্তা

অরিন্দম জানালেন, কুণাল সেন তাঁদের দিয়েছেন মৃণালের সংগ্রহে থাকা প্রচুর বই, দিয়েছেন প্রয়াত পরিচালকের ব্যবহৃত পাইপ, চশমা, কলম, পায়জামা ও পাঞ্জাবী ৷

  • Share this:
    কলকাতা : হাঁটি হাঁটি পা করে যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৮ সালে  ৷  হুগলির উত্তরপাড়ায় ‘জীবনস্মৃতি ডিজিটাল আর্কাইভ’ আজ গবেষকদের কাছে আকর৷ গবেষণার কাজে লাগে এমন সম্পদে সংস্থার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ  ৷ সংগ্রহ সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি সংস্থার তরফে প্রতি বছর কিছু ব্যক্তিত্বের জন্মদিনে ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হয়  ৷ তাঁরা  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যজিৎ রায় এবং মৃণাল সেন ৷ এ বছরও মৃণাল সেনের জন্মদিনে তাঁরা প্রকাশ করেছেন বিশেষ ক্যালেন্ডার ৷ ‘জীবনস্মৃতি ডিজিটাল আর্কাইভ’-এর তরফে অরিন্দম সাহা সরদার জানালেন, ‘‘ এ বছর তো করোনা পরিস্থিতির জন্য ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান না করে উপায় নেই ৷ তাই সেভাবেই বিদেশের মাটিতে ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেন মৃণাল সেনের ছেলে কুণাল সেন এবং পুত্রবধূ নিশা রূপারেল সেন৷’’ মৃণালের ছবি ‘ক্যালকাটা ৭১’  ৫০ বছরে পা রাখল এ বছর ৷  সেই উপলক্ষে ছবিটির  পুস্তিকার ছবি রয়েছে ক্যালেন্ডারে ৷ বাংলা তারিখ সম্বলিত এই ক্যালেন্ডারের পাশাপাশি প্রকাশিত হয়েছে ‘পদাতিক’ ছবির একটি পোস্টার ৷ প্রকাশ করেছেন অভিনেতা ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় ৷ উৎসাহীদের জন্য এই ক্যালেন্ডার ও পোস্টার ক্যুরিয়র বা অনলাইনে কিনতে পাওয়ার কথা ৷ কিন্তু অতিমারি পরিস্থিতির জন্য সব ব্যবস্থা করে উঠতে পারেননি তাঁরা৷ জানালেন অরিন্দম৷ তবে প্রতিকূল সময় হলেও সংগ্রহশালাকে তিলে তিলে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলছেন তাঁরা ৷ অরিন্দম জানালেন, কুণাল সেন তাঁদের দিয়েছেন মৃণালের সংগ্রহে থাকা প্রচুর বই, দিয়েছেন প্রয়াত পরিচালকের ব্যবহৃত পাইপ, চশমা, কলম, পায়জামা ও পাঞ্জাবী ৷ এছাড়াও তাঁদের সংগ্রহ সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করেছেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, রাজা সেনের মতো ব্যক্তিত্ব ৷ উত্তরপাড়ায় তাঁদের সংগ্রহে আছে ১৮৮৪ থেকে প্রকাশিত বাংলাভাষার নামী সাময়িক পত্রিকা৷ ‘জন্মভূমি’, ‘মানসী’, ‘ভারতী’, ‘ভারতবর্ষ’, ‘সবুজপত্র’, ‘রূপমঞ্চ’, ‘চিত্রভাষ’-এর মতো দুর্লভ পত্রিকা তাঁদের আর্কাইভে রক্ষিত সযত্নে৷ বিভিন্ন জায়গা থেকে খুঁজে খুঁজে সংগ্রহ করা হয়েছে এই রত্নগুলি ৷ ডিজিটালের পাশাপাশি তৈরি করা হচ্ছে বড় সংগ্রহশালাও৷ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে গবেষকরা ভিড় করেন তাঁদের আর্কাইভে ৷ এখন করোনা পরিস্থিতিতে সে সবই স্তব্ধ ৷ কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সময় পেরিয়ে গেলে ক্রেতা তাঁদের ক্যালেন্ডার সংগ্রহ করবেন কেন? বছর এগিয়ে গেলে ক্যালেন্ডারের কি আর গুরুত্ব থাকে? অরিন্দম জানালেন, ‘‘ এ তো আর নিছক বাংলা তারিখের দিনপঞ্জি নয়৷ এ হল সংগ্রহে রাখার জিনিস ৷ তাই উৎসাহীর কাছে এর গুরুত্ব থাকবেই৷’’ উদ্যোক্তার কণ্ঠ প্রত্যয়ী ৷
    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: