#MohenjodaroReview: পুরনো সভ্যতায়, বলিউডের পুরনো গল্প !

#MohenjodaroReview: পুরনো সভ্যতায়, বলিউডের পুরনো গল্প !
ঠিক কী কী আশা করে, কী কী ভেবে ‘মহেঞ্জো দারো’ সিনেমাটা দেখতে ঢুকছেন, সেটার যদি হিসেব নিকেশ করা থাকে,

ঠিক কী কী আশা করে, কী কী ভেবে ‘মহেঞ্জো দারো’ সিনেমাটা দেখতে ঢুকছেন, সেটার যদি হিসেব নিকেশ করা থাকে,

  • Share this:

    #কলকাতা: ঠিক কী কী আশা করে, কী কী ভেবে ‘মহেঞ্জো দারো’ সিনেমাটা দেখতে ঢুকছেন, সেটার যদি হিসেব নিকেশ করা থাকে, তাহলে হয়তো সিনেমাটা দেখে আসার পর আপনি সঠিক অর্থে বলতে পারবেন আপনি কী দেখলেন? যা দেখেছেন তা ভালো লাগল নাকি মন্দ? নাকি মোটামুটি ! আশুতোষ গোয়ারিকরের ‘মহেঞ্জো দারো’ ছবি দেখার পর এগুলোই আপনাকে ভাবাবে৷ কারণ, ছোটোবেলায় ইতিহাস বইয়ের পাতায় পড়া সবচেয়ে প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতাই যে ছবির প্রেক্ষাপট সেখানে মনের ভিতর কৌতুহলটা থেকেই যায়, কীরকম সেই দুনিয়া ! কিন্তু পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর, একেবারে দায়িত্ব নিয়ে সেই কল্পনায় বলিউডের রং চড়ালেন !

    তবে আশুতোষ যে এটা করে অপরাধ করেছেন তা কিন্তু একেবারেই নয়, কারণ তিনি তো আগেভাগেই বলে দিয়েছিলেন, ‘মহেঞ্জো দারো’ ঐতিহাসিক ছবি, পিরিয়াড ফিল্ম ! বঙ্কিমচচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘রাজসিংহ’ লেখার সময় লিখেছিলেন, সব ঐতিহাসিক গল্পকেই যে পুরোমাত্রায় ঐতিহাসিক হয়ে উঠতে হবে তার কোনও মানে নেই ৷ আশুতোষ কিন্তু বঙ্কিমের এই কথাকে আপাদমস্তক এগিয়ে নিয়ে চলেছেন ৷ তা বলে ঐতিহাসিক তথ্যের ভান্ডার একেবারেই শূন্য !

    নিন্দুকেরা ছবি মুক্তি পাওয়ার আগে থেকেই প্রতিবাদ করেছিলেন, আশুতোষ নাকি এই ছবিতে সিন্ধু সভ্যতার ইতিহাসকে বিকৃত করেছেন ৷ আশা করি, ছবি দেখার পর প্রতিবাদীরা চুপ করে যাবেন কারণ, বিকৃত কী? ইতিহাসের ধার-কাছ দিয়েও যাননি আশুতোষ ! তাহলে কী রয়েছে ছবিতে?


    ‘মহেঞ্জো দারো’ ছবির গল্প অন্যান্য বলিউডি ছবি থেকে পৃথক নয় ৷ কারণ, এখানেও সেই এক হিরোর আগমণ, সভ্যতার রক্ষক, প্রজার বিরুদ্ধে রাজা অত্যাচারে প্রতিবাদ, সঙ্গে রাজকন্যার সঙ্গে প্রেম ! আশুতোষ অবশ্য ‘মহেঞ্জো দারো’র চিত্রনাট্যের মধ্যে সুন্দর করে নিয়ে এসেছেন কৃষ্ণ অবতারের কাহিনি, আবার কখনও নিয়ে এসেছেন মহাভারত ! ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে পৌরাণিক গল্পই বলার প্রয়াস করেছেন আশুতোষ ৷

    সরমন (হৃত্বিক রোশন) বাণিজ্য করার জন্য বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে পা রাখেন সিন্ধু সভ্যতায় ৷ মহেঞ্জো দারোতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে ছোটোবেলাতে স্বপ্নে দেখা এক অবয়বকে চাক্ষুষ করে মহেঞ্জো দারোতে৷ গল্পটা শুরু হয় এই জাতিশ্মরের পর্যায় থেকেই !

    ‘মহেঞ্জো দারো’ ছবির সবচেয়ে দুর্বল জায়গা হল অভিনয় ! দুর্দান্ত সিনেমা সেটের মাঝখানে পড়ে কোনও অভিনেতাই অভিনয়কে ফুটিয়ে তুলতে পারিনি ৷ হৃত্বিক রোশনও খুব একঘেয়ে ! ছবিতে নায়িকা পূজা হেগড়েকে দেখতে সুন্দর লেগেছে ! এআর রহমানের সঙ্গীতও খুব একটা আমেজ ধরে রাখতে পারেনি !

    আশুতোষ গোয়ারিকের ‘মহেঞ্জো দারো’ দেখতে সুন্দর একটা ছবি ৷ যা বড় পর্দাকে সুন্দর করে তোলে৷ তবে অভিনয়, গল্পের দিক থেকে এই ছবি বলিউডকে নতুন কিছু দিতে অসমর্থ ! এককথায় বলা ভালো ‘মহেঞ্জো দারো’ পুরনো সভ্যতায়, বলিউডের পুরনো গল্পই বলে !

    First published:

    লেটেস্ট খবর