corona virus btn
corona virus btn
Loading

Exclusive: ‘অনেকের চেয়ে আমি, আপনি ভাল আছি, এটা মিথ্যে নয়’- মাধুরী দীক্ষিত

Exclusive: ‘অনেকের চেয়ে আমি, আপনি ভাল আছি, এটা মিথ্যে নয়’- মাধুরী দীক্ষিত

সংগীত জগতে পা রাখলেন মাধুরী দীক্ষিত নেনে। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তাঁর প্রথম সিঙ্গল ‘ক্যান্ডেল’। কেরিয়ার, লকডাউন, সন্তান এই সব কিছু নিয়ে নিউজ 18 বাংলার সঙ্গে গল্প জমালেন মাধুরী।

  • Share this:

#মুম্বই: তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। হৃদয় ভেদি দৃষ্টি, গল্প বলে। তাঁর নরম হাসি, বাড়িয়ে দেয় মনের ধুকপুকানি। কান পাতলে শোনা যায়, দশর্কের মনের ধক ধক শব্দ। অভিনয়, নাচ দিয়ে মুগ্ধ করে রেখেছেন দীর্ঘ ৩৫ বছর। নতুন করে কিছু পাওয়ার নেই তাঁর। তবুও তিনি শিখতে চান। নিজেকে আরও একবার আবিষ্কার করতে চান। সেই তাগিদেই আবার শূণ্য থেকে শুরু করলেন। সংগীত জগতে পা রাখলেন মাধুরী দীক্ষিত নেনে। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তাঁর প্রথম সিঙ্গল ‘ক্যান্ডেল’। কেরিয়ার, লকডাউন, সন্তান এই সব কিছু নিয়ে নিউজ 18 বাংলার সঙ্গে গল্প জমালেন মাধুরী। প্রশ্ন - আপনি ভারতবর্ষের একজন আইকন। অভিনয়ে, নাচে তিন দশকের চেয়েও বেশি সময় ধরে দর্শককে মজিয়ে রেখেছেন। নতুন করে অন্য একটা ফিল্ডে পা রাখলেন। নিজেকে ফ্রেশার বলে মনে হচ্ছে? উত্তর-- প্রশ্নটা দারুণ লাগলো। সেভাবে বলতে গেলে সংগীত জগতে তো আমি ফ্রেশারই। এই প্রথম পেশাগত ভাবে গান গাইলাম। একেবারেই অনকোরা। তবে জানেন নার্ভাস লাগেনি। কিন্তু একটু টেনশন ছিল। যে কোনও কাজে একটু ভয় থাকা ভাল। বলে না ‘সমটাইমস বাটার ফ্লাইজ আর গুড ইন স্টমাক’।

প্রশ্ন- তবে ‘অবোধ’-এর মাধুরীর চেয়ে ‘ক্যান্ডেল’-এর মাধুরী অনেক বেশি আত্মবিস্বাসী। অনেক বেশি প্রস্তুত। তাই না? উত্তর--নিঃসন্দেহে। অভিনয় জীবন শুরু করার সময় আমি অনেক অন্য রকম ছিলাম। সাধারণ মারাঠি পরিবারের মেয়ে আমি। আমার পরিবারের ত্রিসীমানার মধ্যে অভিনয় বা অভিনেতা ছিল না। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি কীভাবে চলে, কোনও ধারণাই ছিল না। ক্যামেরার সামনেও তখন প্রথমবার অভিনয় করছি। এর আগে মঞ্চে অভিনয় করেছি। তবে মঞ্চে সংলাপ বলা আর ক্যামেরার সামনে পারফর্ম করা দু’টো একেবারেই আলাদা জিনিস। তখন প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিলাম। এখন সে ভয়টা নেই। প্রশ্ন- নাটক, নাচের পাশাপাশি আপনি তো গানও গাইতেন? উত্তর--স্কুলে গাইতাম। আমি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়তাম, তাই মূলত ইংরেজিতেই গান গেয়েছি। স্কুলে পড়ার সময়, আমাকে ক্লাসরুমের থেকে স্টেজেই বেশি পাওয়া যেত। (খিলখিল করে হেসে উঠলেন মাধুরী) প্রশ্ন- তাহলে গানটাকে নিয়ে এগোলেন না কেন? উত্তর--খুব অল্প বয়সে ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছি। তখন ১৬-১৭ বছর বয়স আমার। ১৯-২০ যখন, তখন দর্শকের আশীর্বাদে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছি। সেই সময় ইন্ডাস্ট্রি, এখনকার মতো কাজ করতো না। নিঃশ্বাস ফেলার সময় পেতাম না। দু’টো, তিনটে শিফ্টে একসঙ্গে কাজ করতে হতো। কতো ছবি হতো তখন। একটু ফাঁকা হলাম, যখন, তখন গাঁটছড়া বেঁধে মিসেস নেনে হয়ে গেলাম। সন্তানরা এলো। আর সময় কোথায় পেলাম। প্রশ্ন- আফশোস হয়? উত্তর--একেবারে না। আমি যখন যেটা করতে চেয়েছি, সেটা করেছি। তবে গান গাইতে খুব ভালবাসতাম। আমার মা শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পী। মা খুব আমাকে গান করতে বলতেন। সবসময় বলতেন, 'আমার সঙ্গে বসে রেওয়াজ করো।' তবে, নাচ, অভিনয় করে আমি শাস্ত্রীয় সংগীত শেখার সময় পেতাম না। আমার কাছে গান গাওয়া মানে নিজেকে প্রকাশ করা। অভিনয় করার সময় আমরা কন্ঠস্বর, চেহারা, চোখ এসবকিছু টুল হিসেবে ব্যবহার করি। নাচের ক্ষেত্রে শরীর, এক্সপ্রেশন, হাতে মুদ্রা এগুলো আমার অস্ত্র। গানের ক্ষেত্রে শুধুই আমার কন্ঠস্বর। সমস্ত অনুভূতি গলার স্বর দিয়ে বোঝাতে হয়। সেটা বেশ কঠিন। প্রশ্ন- তাই সংগীত জগতে পা রাখার আগে তালিম নিলেন? উত্তর--আমি কোনও কিছু শুধু করার জন্য করি না। অভিনয়, নাচ, সংসার সবকিছু, মন দিয়ে করেছি। আগেই ঠিক করেছিলাম, মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে যদি গান গাই, তবে প্রশিক্ষণ না নিয়ে গাইবো না। অ্যায়সেহি স্টুডিও মে নেহি গানা হ্যায়। আমার মা একজন গায়িকা। এরকম করলে সকলে বলতেন, ‘মা এতো ভাল গায়, মেয়ে দ্যাখো কী করছে?’ সেটা হতে দেওয়া যায় না। প্রশ্ন- কার কাছে শিখলেন? উত্তর--আমি রন অ্যান্ডাসনের কাছে তালিম নেওয়া শুরু করি। ভোকাল ট্রেনিং নিলাম। কীভাবে উচ্চারণ করা উচিত, কীভাবে পিচ কন্টোল করা উচিত, এসব খুঁটিনাটি শিখলাম। প্রশ্ন- আপনি যেমন নতুন করে শুরু করলেন, ঠিক তেমনই আপনার ছেলেরও তো ডেবিউ হলো আই ফর ইন্ডিয়া কনসার্টে? আইরিন পিয়ানো বাজিলো আপনি গাইলেন। উত্তর-- হ্যাঁ। এটা আমার কাছে খুব স্পেশ্যাল। একজন আমাকে মনে করালেন, ওর বয়সেই আমি অভিনয় জীবন শুরু করেছিলাম। ভাবলে কেমন অবাক লাগে। প্রশ্ন- আপনি ডেবিউ করেছিলেন ‘অবোধ’ ছবিতে দিয়ে, তাপস পালের সঙ্গে। মনে পড়ে সে কথা? উত্তর-- সব মনে আছে। তবে তাপস আর নেই, ভাবলেই অবাক লাগে। ওঁর মৃত্যুতে আমি খুব দুঃখ পেয়েছি। তবে এগিয়ে যেতে হবে, সেটাই জীবন। প্রশ্ন- আপনার ছেলে কিন্তু বেশ কনফিডেন্ট। উত্তর--এই প্রজন্মের বাচ্চারা প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী। ওরা অনেক প্রিপেয়ার্ড। কোনও স্কুল কলেজে যাওয়ার আগেই ওরা গুগল ইউনিভার্সিটিতে নাম লেখায়। ওদের শেখার অপশন অনেক বেশি। আমার ছেলেরা আমার কাজ দেখেছে। মাঝে মধ্যে আমার সঙ্গে শ্যুটে গিয়েছে। ওদের দেখে শেখার ক্ষমতা অনেক বেশি। আমি ওর জন্য খুব গর্বিত। ও খুব ভাল পিয়ানো বাজায়। কনসার্টে খুব ভাল বাজিয়েছে। প্রশ্ন- আইরিন কত্থকে আপনাকে তবলায় সঙ্গত দেয়। আপনার সঙ্গে নাচেও। উত্তর--ও খুব স্পোর্টি। তবলাটা ভাল বাজায়। একদিন সখ করে বললাম একটু আমার সঙ্গে নাচো। নাচলো। প্রশ্ন- আপনার ছেলেরা আপনার অভিনীত ছবি দেখে? উত্তর-- দেখে। তবে সবক’টা দেখেছে এমন নয়। ‘দেবদাস’ ওদের খুব পছন্দের ছবি। গান-নাচ এসব খুব ভালবাসে। সাবটাইটেল দেওয়া ছবিগুলো দেখে। মুম্বইয়ে থেকে হিন্দি শিখে গিয়েছে ওরা। তবে হিন্দি ছবিতে বেশ কিছু ঊর্দু শব্দ থাকে। ওগুলো বোঝে না। প্রশ্ন- ওরা বোঝে, ওদের মা হলেন স্টার মাধুরী দীক্ষিত? উত্তর-- ২০১১ থেকে আমরা মুম্বইয়ে থাকি, মনে হয় বোঝে। তবে বুঝলেও, সব বাচ্চারা যেমন হয় তাঁদের মায়েদের সঙ্গে, ওরাও তেমনই। কোনও বাড়তি কদর পাই না। একদিনের ঘটনা মনে আছে। তখন সবে মাত্র আমরা মুম্বইয়ে শিফ্ট করেছি। আমার ছেলের এক বন্ধু ওকে বলেছিল, ‘তুই কী লাকি। তোর মা মাধুরী দীক্ষিত।’ বাড়িতে এসে ও আমাকে গল্পটা বলে। তারপর জিজ্ঞেস করে ‘তুমি মাধুরী দীক্ষিত তো কী? তুমি তো শুধু মা।’ আমি হেসে বলেছিলাম, হ্যাঁ আমি শুধুই মা। প্রশ্ন- খুব মিষ্টি বিষয়টা। তবে আপনার ছেলে ও স্বামী মাল্টি ট্যালেন্টেড। ‘ক্যান্ডেল’-এর ভিডিওটা তো আপনার বাড়িতে ওরাই শ্যুট করেছেন? উত্তর-- এই লকডাউনের মধ্যেই গান মুক্তি পাওয়ানো নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো ভিডিওটা শ্যুট করবো কী করে? বাইরে তো বেরোতে পারবো না। আমার কর্তাই কোমড় বেঁধে লেগে পড়লেন। আমরা প্রচুর মানুষের সঙ্গে কথা বললাম, অনলাইন পড়াশোনো করলাম। তারপর ঠিক করলাম বাড়িতেই শ্যুট করবো। লাইটিং করা খুব মুশকিল। অনেক গবেষণা করে একটা জায়গায় আসা গেল। ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল সম্পর্কে আমার ধারণা আছে, শট ডিভিশন আমি করলাম। দু’টো আইফোন আর একটা ক্যামেরা দিয়ে শ্যুট করলাম। প্রশ্ন- বহু নামী পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন। আপনার অনেক গান সারোজ খান কোরিওগ্রাফ করেছেন। স্বামীর নির্দেশনায় কাজ করে কেমন লাগলো? উত্তর-- পরিচালক স্বামী হলে ব্যাপারটা খানিক আলাদা তো বটেই, তাও আবার ডাক্তার স্বামী। কিন্তু শ্যুটিংটা ভাল হয়েছে। আমরা অনেকবার লাইট শিফ্ট করেছি। তবে মিস্টার নেনে কিন্তু বেশ ভাল কাজ করেছেন, আপনি কী বলেন? প্রশ্ন- হ্যাঁ ভিডিওটা দেখলে বোঝার উপায় নেই, এটা পেশাদার কারও করা নয়। আপনি ডাক্তার স্বামীকে বেশ ফিল্মি করে তুলেছেন। উত্তর--- তা বলতে পারেন। এখন ওঁ সব শ্যুট করতে পারে। আমার ডান্স দিওয়ানে-র প্রোমো, আই ফর ইন্ডিয়ার গান, আমার স্বামী ও ছেলে মিলে শ্যুট করেছে। তা ছাড়াও এখন স্বয়ং সপন্ন হয়ে ওঠার সময়। প্রশ্ন- এখন যেমন সমস্ত তারকারা ‘আত্মনির্ভর’ হয়ে উঠছেন। নিজের বাড়ির কাজ নিজে করছেন, বহু বছর আগে বিয়ে পর বিদেশে গিয়ে আপনিও এরকম কিছু করেছিলেন। ঘরকন্না একাই সামলেছেন। কঠিন ছিলো সেটা? উত্তর-- বিদেশে সকলে স্বাবলম্বী। নিজের কাজ নিজেকেই করতে হয়। এটা খুব বড় ব্যাপার নয়। ওয়াশিং মেশিন, ডিশ ওয়াসার সব ছিল, খুব কষ্ট হয়নি। প্রশ্ন- তবুও আপনি স্টার মাধুরী দীক্ষিত, অভিনেতারা কেমন জীবনযাপন করেন আমরা জানি। উত্তর-- সুপার স্টার ছিলাম। তবে সব শেষে মানুষই তো। আর আমি খুব সাধারণ ভাবে বড় হয়েছি। যখন এক নম্বর নায়য়িকা ছিলাম, তখনও আমার মা বকতেন। নিজের ঘর অগোছানো করে রাখলে, রেগে যেতেন। বলতেন, ‘এক্ষুনি ঠিক করো।’। আমার পেশাটা অভিনয় তাই স্টার ছিলাম, মানুষ হিসেবে এতে কোনও হেরফের হয় না। বাড়িতে কোনও আলাদা ট্রিটমেন্ট পাইনি কখনও। আমার স্বামী এখনও বলেন, কেউ যতো বড়ই স্টার হোক না কেন এক সময় একটা পা-ই প্যান্টে গলাতে পারেন, তারকা বলে একসঙ্গে দু’টো পারেন না। প্রশ্ন- গান তো ঠিক আছে, বড় পর্দায় ফেরার কথা কিছু ভাবছেন? উত্তর-- ধর্মা প্রোডাকশনের সঙ্গে একটা সিরিজ করছি। বাকি স্ক্রিপ্ট পড়ছি। কিন্তু মাথায় কিছু নেওয়ার মতো পরিস্থিতি এটা নয়। মন ভালো নেই। তাই এখনই কিছু করবো ভাবছি না। তবে আগামী দিনে আরও গান গাইবো। প্রশ্ন- এই পরিস্থিতি-তে আপনার ভক্তদের কী বলবেন? উত্তর-- এটাই বলবো এখন ধৈর্য ধরার সময়। আশা ছাড়বেন না। ঠিক সব হবেই, সময় লাগবে হয়তো। নতুন জিনিস শিখুন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। এমন কিছু করুন যেটা কখনও করেননি আগে। আপনাদের থেকে খারাপ যাঁরা আছেন, তাঁদের প্রতি সহমর্মি হন। প্রশ্ন- এই সময় তারকাদের বেশ সমালোচনা হচ্ছে। নানা রকমের ভিডিও বানাচ্ছেন তাঁরা। পোস্ট করছেন। এই নিয়ে অনেকেই কু কথা বলছেন। আপনি কী বলবেন? উত্তর-- দেখুন অনেকের চেয়ে আমি আপনি ভাল আছি, এটা মিথ্যে নয়। আমাদের মাথার ওপর ছাদ আছে। দু’বেলার খাবার নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। আমরা বাড়িতে থেকে কাজ করতে পারি, অনেকের বাড়িই নেই। আমরা সমস্যায় নেই এটাও দোষের নয়। ওই যে বললাম সহমর্মি হওয়া প্রয়োজন। এটা বিশ্বাস করি।

Published by: Akash Misra
First published: May 31, 2020, 12:51 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर