Lopamudra Mitra : তুলে দিলেন এক মাসের খাবার, কর্মহীন বিপন্ন কাঁথাশিল্পীদের পাশে গায়িকা

লোপামুদ্রা মিত্র, ছবি-ফেসবুক

সংস্থার তরফে শিল্পী লোপামুদ্রা মিত্র (Lopamudra Mitra) দুঃস্থ কাঁথাশিল্পীদের হাতে তুলে দিলেন চাল, ডাল, সয়াবিন, বিস্কুট-সহ এক মাসের খাবার ৷ সঙ্গে ছিল কাপড়ও ৷

  • Share this:

    কলকাতা : ঘরসংসার সামলে কাপড়ে সুতোয় কাঁথা-ফোঁড় ৷ সেই উপার্জনেই মূলত চলত সংসার ৷ অতিমারি ও লকডাউনের কোপ পড়েছে কাজে ৷ ফলে অজস্র কাঁথাশিল্পী আজ বিপন্ন ৷ তাঁদেরই একজন মেহেরুন্নিসা ৷ তাঁর বাড়ি বীরভূমের ভেরেন্দা গ্রামে ৷ তাঁর মতোই বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় আরও কয়েক জন কাঁথাশিল্পী ৷ তাঁদের পাশে চারণ ফাউন্ডেশন ৷

    সংস্থার তরফে শিল্পী লোপামুদ্রা মিত্র (Lopamudra Mitra) দুঃস্থ কাঁথাশিল্পীদের হাতে তুলে দিলেন চাল, ডাল, সয়াবিন, বিস্কুট-সহ এক মাসের খাবার ৷ সঙ্গে ছিল কাপড়ও ৷ তাঁদের উদ্যোগ ও কর্মসূচি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন লোপামুদ্রা ৷ লিখেছেন, তাঁদের তরফে ২০ জন কাঁথাশিল্পীর পরিবারকে সাহায্য করা হয়েছে ৷ গায়িকার কথায়, শিল্পী ও শিল্প বাঁচিয়ে রাখতে ‘চারণ’ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ৷ পাশে থাকার জন্য আবেদন করেছেন নেটিজেনদের কাছে ৷

    গত বছরও অতিমারি ও লকডাউন পরিস্থিতিতে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছিল ‘চারণ’ ৷ এ বছরও সেই ধারা পালন করা হয়েছে ৷ তবে এই কর্মসূচির মধ্যেও নিজেকে ‘ত্রাতা’ ভাবতে ভালবাসেন না লোপামুদ্রা ৷ বরং মনে করেন, তিনি সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছেন দুর্গতদের কাছে ৷ গত বছর আমফানের পরও বিপন্নদের জন্য বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সাহায্যের হাত ৷ এ বার ‘ইয়াস’-এর পরও তাঁর সেই ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়নি ৷  সহযোগীদের নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুট অঞ্চলের চারটি গ্রামে পৌঁছ গিয়েছিলেন তিনি ৷ বিরামপুর, বগুরান জলপাই, রঘুসর্দার বগুরান এবং হরিপুর ৷ ঘূর্ণিঝড়ধ্বস্ত এই চার জনপদের প্রায় ৩০০ পরিবারের হাতে তুলে দিলেন অত্যাবশ্যকীয় কিছু জিনিস ৷ তার মধ্যে চাল, ডাল, সয়াবিন, বিস্কুট যেমন ছিল, সেরকমই ছিল জিয়োলিন এবং জামাকাপড় ৷

    সাহায্য নিয়ে ইয়াসবিধ্বস্তদের মাঝে পৌঁছে যাওয়ার পাশাপাশি করোনারোগীদেরও জন্যও ভেবেছেন লোপামুদ্রা ৷ ভার্চুয়াল গান-আড্ডায় সময় কাটিয়েছেন নিভৃতবাসে থাকা রোগীদের সঙ্গে ৷ চেষ্টা করেছেন মুশকিল আসান হয়ে নিভৃতবাসীদের মন ভাল রাখার ৷

    জুন মাসে চারণ ফাউন্ডেশন গিয়েছিল পূর্ব মেদিনীপুরের রসুলপুর ও হরিপুরে ৷ ইয়াসতাণ্ডবে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় এই দু’টি জায়গা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল ৷ সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসে দু’টি জায়গাই চলে গিয়েছিল ৮ থেকে ১১ ফুট জলের নীচে ৷ সব হারিয়ে মানুষ আবার ফিরে আসার চেষ্টা করছে শূন্য থেকে শুরু করে ৷ তাঁদের ঘুরে দাঁড়ানোর সেই সংগ্রামের শরিক হতে হাজির ছিলেন লোপামুদ্রা মিত্র তথা চারণ ৷

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: