বিনোদন

corona virus btn
corona virus btn
Loading

#Kahani 2 Review: বিদ্যা আর সুজয় থাকলেই কহানি হয় না !

#Kahani 2 Review: বিদ্যা আর সুজয় থাকলেই কহানি হয় না !

শিরোনাম মোটেই ইঙ্গিত দিচ্ছে না, যে সুজয় ঘোষের নতুন ছবি ‘কহানি ২’ খারাপ ছবি ! তবে কাহানি ২-যে প্রথম কহানি-র মতোই

  • Share this:

#কলকাতা: শিরোনাম মোটেই ইঙ্গিত দিচ্ছে না, যে সুজয় ঘোষের নতুন ছবি ‘কহানি ২’ খারাপ ছবি ! তবে কাহানি ২-যে প্রথম কহানি-র মতোই ত্রুটি মুক্ত, হাড় হিম করা, রহস্যে ঠাসা, বলিউডের এ যাবৎ সেরা থ্রিলার ছবির যোগ্য সিকোয়েল হয়েছে, তা বলতে গিয়েই আটকাতে হয় ৷ আর এই আটকানো থেকেই ছবির দুর্বলতা শুরু হয় ৷

সহজ কথায় বলতে গেলে, মগজে পাঁচবছর আগের ‘কাহানি’ ছবিই, কাহানি ২-এর আসল শত্রু ! যদি এই ছবি শুধুমাত্র সুজয়ের দুর্গা রানি সিং নামে হয়ে মুক্তি পেত, তাহলে হয়তো খুব একটা দোষ হতো না ৷ আবার হয়তো এটাও হতে পারে, সুজয় বুঝতে পেরেছিলেন, তাই ছবির ভাগ্য নির্ণয় করতেই ইচ্ছে করে, দুর্গা রানি সিংয়ের গল্পের পাশে লিখে ফেললেন কহানি ২ ! আর বিদ্যা বাগচী-র জায়গায়, নিয়ে আসলেন বিদ্যা সিনহাকে ! আর তারপর যা ঘটল, তাই আসলে কহানি ২, থুড়ি দুর্গা রানি সিং !

কহানি ২ যেহেতু থ্রিলার ছবি ৷ তাই ছবির সমালোচনায় গল্পটার আঁচ না-ই বা দিলাম ৷ তবে এটুকু বলাই যায়, এই ছবির সবচেয়ে দুর্বল পয়েন্ট কিন্তু এই গল্পই ! থ্রিলারের নিয়ম মেনে চললেও, স্ক্রিপ্টে থাকা বহু ফাঁক কাহানি ২-কে বলিউডে বহুবার তৈরি হওয়া সাধারণ থ্রিলার ছবিতেই পরিণত করেছে ৷ একজন মা, একটি বাচ্চা, কয়েকটি খুন, শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন, একটা বানানো গল্প ! মোদ্দা কথা এটাই ৷ তবে এই কহানি ২-এর এই বানানো গল্প (পড়ুন ছবির ভিতর) এত বেশি অনুমান করা গিয়েছে যে, তাতে ছবি থেকে সাসপেন্স গায়েব!

তাহলে কহানি ২-তে রয়েছে কী?

খুব সহজভাবে বলতে গেলে, কহানি ২ ছবি একেবারেই দাঁড়িয়ে বিদ্যার অভিনয়ের ওপর ৷ অবশ্যই এই ছবিতে অসম্ভব ভালো অভিনয় করেছেন অর্জুন রামপাল ৷ তবে বিদ্যা বালন যদি এই ছবিটিকে টেনে না নিয়ে যেতেন, তাহলে, কহানি ২-এর গল্পই এগিয়ে চলত না !

লেখার শুরুরু দিকেই জানিয়ে ছিলাম, কহানি ২-এর শত্রু হল কহানি ১ ! আর পরিচালক সুজয় ঘোষ, প্রথম কহানিকেই রেফার করে কহানি ২ এগোতে চেয়েছেন, ফলে ব্যাপারটি একেবারে হয়ে গিয়েছে বুমেরাং ! প্রথম কহানি-র বিদ্যা বাগচীকে টেনে এনে, কহানি ২-এ বিদ্যা সিনহা ! বার বার বিদ্যা সিনহা নামটা মাথায় আসায়, বাধ্য তা বিদ্যা বাগচীর সঙ্গে মিলিয়ে, গুলিয়ে ফেলার ! ফলে বার বার মনে হতেই থাকেই, প্রথম ছবিটার মতো মোটেই জমজমাট নয়, এই ছবি !

প্রথম কাহানিতেও, মাতৃত্ব ব্যাপারটাকে রহস্যের এক মূল উপাদান তৈরি করেছিলেন সুজয় ঘোষ ৷ নতুন কহানিতেও করলেন তাই ৷ তবে এবার ছবির গল্পের মূল সুতোটা বেঁধে দিলেন একজন নারী ও তাঁর মাতৃসুলভ আচরণের মধ্যে ! সে জায়গা থেকে একেবারে সফল সুজয় ঘোষ !

অভিনয় ছাড়া এই ছবির আরও একটি শক্তপোক্ত উপাদান হল সিনেম্যাটোগ্রাফি! চন্দননগর থেকে কালিম্পং ৷ প্রতিটি জায়গায় ক্যামেরা যেন এগিয়ে গিয়েছে গল্পকে বহন করে ৷ প্রতিটা মুহূর্তে বিদ্যাকে কখনও অনুসরণ করেছে, কখনও সাপোর্ট করে গিয়েছে সিনেম্যাটোগ্রাফার তাপস সুষার বসু-র ক্যামেরা ! যা সত্যিই বাহবা দেওয়ার মতো ৷

শেষমেশ কহানি ২ সাধারণ মাপের এক থ্রিলার ! যেখানে থ্রিলারকে চাপিয়ে গিয়েছে সম্পর্কের গল্প ৷ এমনকী, রহস্যের জটও ছাড়িয়েছে সেই সম্পর্কই ৷ সেখান থেকে দাঁড়িয়েই পাঁচ বছর পরেও, কহানি ২-কে ১০০ গোল দিয়েছে সুজয়ের প্রথম কহানি ! তাই সব শেষে বলতেই হয়, সুজয়-বিদ্যা থাকলেই কহানি হয় না ! যোগ্য সিকোয়েল না হয়ে, শুধুমাত্র দুর্গা রানি সিং হয়ে থেকে যায় !

First published: December 5, 2016, 6:52 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर