সলিলকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে একরোখা মৃণাল, প্রবাদতুল্য বন্ধুত্বের স্মৃতিতর্পণ দেবজ্যোতি মিশ্রর

মৃণাল সেনের সঙ্গে দেবজ্যোতি মিশ্র, ছবি-ফেসবুক

দেবজ্যোতিকে পাশে বসিয়ে পরিচালক বলেছিলেন কেন তিনি সঙ্গীত পরিচালকের আপত্তির পরেও গানটি রাখলেন ছবিতে ৷

  • Share this:

    কলকাতা: মৃণাল সেনের শেষ ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা সামাজিক মাধ্যমের পাতায় সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন দেবজ্যোতি মিশ্র ৷ স্মৃতিচারণার মাধ্যমে নিবেদন করলেন শ্রদ্ধার্ঘ্য ৷

    ২০০২ সালে মুক্তি পেয়েছিল পরিচালকের শেষ ছবি ‘আমার ভুবন’ ৷ সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন দেবজ্যোতি মিশ্র ৷ সেদিনের কাজের অভিজ্ঞতার টুকরো স্মৃতি ভিড় করে এসেছিল তাঁর মনে, শুক্রবার, পরিচালকের ৯৮ তম জন্মবার্ষিকীতে ৷ দেবজ্যোতি লিখছেন, ‘‘রূপঙ্কর, শ্রীকান্তর গান গাওয়া হয়ে গিয়েছে। বিশেষ একটি দৃশ্যে মৃণালদা বললেন 'ও আলোর পথযাত্রী' গানটি ব্যবহার করতে চান । আমি সংশয় প্রকাশ করলাম যে এরকম একটা গান ওই বিশেষ সিকোয়েন্স মানানসই হবে কিনা এই ভেবে... ।’’

     তাঁর সংশয়ে নিমরাজি হন পরিচালক ৷ বলেন, ওই সিকোয়েন্সের জন্য মিউজিক কম্পোজ করতে ৷ অধ্যায়ের পরের চমক সঙ্গীত পরিচালকের জন্য অপেক্ষা করে ছিল স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ের সময়৷ দেখেন, ছবিতে ‘ও আলোর পথযাত্রী’ গানটা দিব্যি ব্যবহার করেছেন বরেণ্য পরিচালক ৷ এর পর বিস্মিত দেবজ্যোতিকে পাশে বসিয়ে পরিচালক বলেছিলেন কেন তিনি সঙ্গীত পরিচালকের আপত্তির পরেও গানটি রাখলেন ছবিতে ৷

    ‘‘আমাকে পাশে বসিয়ে মৃণালদা বললেন...‘শোনো দেবজ্যোতি আমার আর কখনো ছবি করা হয়ে উঠবে কিনা জানি না ....বুঝলে... সলিলকে একটা ট্রিবিউট দিতে চেয়েছিলাম ! তুমি সঙ্গীত পরিচালক তোমাকে জানানো উচিত ছিল... তুমি কিছু মনে কোরো না...’  আজও মনে হয় নিজের ছবির একটা সিকোয়েন্সের থেকে বন্ধুত্বেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন মৃণালদা…’’৷ কালজয়ী পরিচালকের প্রজন্মজয়ী বন্ধুত্ব উদযাপনের স্মৃতি এভাবেই ফিরে্ এসেছে পরিচালকের মনে ৷ মৃণাল-সলিলের এই বন্ধুত্ব দেবজ্যোতির মনে হয়েছে ‘প্রবাদতুল্য’৷

    অফসর আহমেদের উপন্যাস ‘ধানজ্যোৎস্না’ অবলম্বনে ‘আমার ভুবন’-এ মূল ভূমিকায় ছিলেন নন্দিতা দাস, কৌশিক সেন, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় এবং বিভাস চক্রবর্তী ৷ ২০০২ সালে কায়রো চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ পরিচালক বিভাগে ছবিটি পুরস্কৃত হয়েছিল ৷

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: