• Home
  • »
  • News
  • »
  • entertainment
  • »
  • Exclusive: সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু যেন সাসপেন্স ছবি, আগাথা ক্রিস্টির গল্প : শেখর সুমন

Exclusive: সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু যেন সাসপেন্স ছবি, আগাথা ক্রিস্টির গল্প : শেখর সুমন

আমার বক্তব্য খুবই সোজা, বিষয়টা এত যখন জটিল, কেন সিবিআই-এর হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে না। প্রায় দু’মাসেও কিন্তু তেমন কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি পুলিশ।

আমার বক্তব্য খুবই সোজা, বিষয়টা এত যখন জটিল, কেন সিবিআই-এর হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে না। প্রায় দু’মাসেও কিন্তু তেমন কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি পুলিশ।

আমার বক্তব্য খুবই সোজা, বিষয়টা এত যখন জটিল, কেন সিবিআই-এর হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে না। প্রায় দু’মাসেও কিন্তু তেমন কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি পুলিশ।

  • Share this:

#মুম্বই: সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু রহস্য, নিচ্ছে একাধিক নয়া মোড়। বিহার পুলিশ তদন্তে নামার পর মিলছে অনেক নতুন তথ্য। তাহলে কি রিয়া চক্রবর্তী-ই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী, নাকি অন্য কিছু? কেন সিবিআইকে তদন্তের ভার দেওয়া হচ্ছে না। মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগত সিং কোশারি-র সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে, নিউজ 18 বাংলার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এই সমস্ত প্রশ্ন তুললেন অভিনেতা শেখর সুমন।

প্রশ্ন- আপনি প্রথম দিন থেকে সুশান্তের জন্য বিচার চাইছেন। বিহার পুলিশ মাঠে নেমেছে। এই মুহূর্তের পরিস্থিতির সম্পর্কে আপনার কী মত?

এই মুহূর্তের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। এখন বিষয়টা মারাত্মক জটিল হয়ে উঠেছে। এটা কিন্তু শুধুমাত্র একজনের খুন কিংবা আত্মহত্যার মামলা হয়ে আটকে নেই। এর মধ্যে অনেক রহস্য রয়েছে।

প্রশ্ন- একটু খুলে বলুন।

প্রতিদিন নতুন কোনও তথ্য-প্রমাণ উঠে আসছে। কিছুই তেমন বোঝা যাচ্ছে না। বিহার পুলিশ তদন্তে এসেছে। মুম্বই পুলিশ তাঁদের সহযোগিতা করছেন না। অনিল দেশমুখ কেন এতটা গোড়া হয়ে রয়েছেন। কেন তিনি সিবিআই তদন্তের বিরোধিতা করছেন? অনেক প্রশ্ন উঠে আসছে। আমার খোলা চোখে দেখে মনে হচ্ছে না সকলে একসঙ্গে মিলে এই মামলার নিষ্পত্তি করতে চায়। একাধিক শিবির রয়েছে। তবে আমি প্রতিবাদ করে যাব। দেশবাসী যা চাইছেন, তা ঠিকই হবে। আরও একটি বিষয় আছে।

প্রশ্ন- কী সেটা?

সুশান্তের মানসিক অবস্থা নিয়ে এত আলোচনা। তাঁর হাত থেকে ছবি চলে যাওয়া। প্রেমিকা-প্রাক্তন প্রেমিকার এত বক্তব্য। রাজনৈতিক প্রভাব এই মামলার ওপর পড়তে চলেছে বলে আমার বিশ্বাস। সামনে বিহারের নির্বাচন রয়েছে, সেটা ভুললেও চলবে না।

প্রশ্ন- অন্যদিকে সুশান্তের এক বন্ধু মুম্বই পুলিশকে মেল করে জানিয়েছেন যে, সুশান্তের বাড়ির চাপেই তিনি নাকি রিয়ার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তাহলে কী রিয়ার ব্যাপারে ভুল ভাবা হচ্ছে?

দেখুন আমার বক্তব্য খুবই সোজা, বিষয়টা এত যখন জটিল, কেন সিবিআই-এর হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে না। প্রায় দু’মাসেও কিন্তু তেমন কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি পুলিশ। রিয়া ঠিক বলছেন, না সুশান্ত তাঁর জন্যই অবসাদে চলে গিয়েছিলেন, সেটা তদন্ত করেই বার করা হোক।

প্রশ্ন- সুশান্ত চলে যাওয়ার পর, আপনি ওঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পাটনা গিয়েছিলেন। অভিনেতার বাবা মামলা দায়ের করার পর, আপনার সঙ্গে কোনও কথা হয়েছে?

না আমার কোনও কথা হয়নি। আমি কথা বলার প্রয়োজন বোধ করিনি। উনি চুপ ছিলেন এতদিন, নিশ্চয়ই তার পিছনে কোনও কারণ ছিল। আমি ওঁকে বিরক্ত করতে চাইনি। আমিও ছেলের বাবা। আমি সুশান্তের বাবার কষ্ট বুঝি। আমি পাটনাতে গিয়েও ওঁকে কোনও প্রশ্ন করিনি। চুপ করে ১০ মিনিট বসে ছিলাম। যাঁর ছেলে এমন ভাবে চলে গেল তাঁকে কী বলবো !  ওই পরিবারের দুঃখ ভাগ করে নিতে আামি পাটনায় গিয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখ একটাই ক’জন ইন্ডাস্ট্রির লোক পাটনা গিয়েছিল? সকলে সোশ্যাল সাইটে ‘রেস্ট ইন পিস’ লিখেই দায়িত্ব সেরে নিলেন।

প্রশ্ন- এই প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয়, কঙ্গনা রানাওয়াত প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেছেন। নায়িকার সঙ্গে আপনার ছেলে অধ্যয়নের সম্পর্ক ছিল। সে সম্পর্ক ভেঙে যায়। তখন আপনি কঙ্গনাকেই দোষ দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন এই বিষয়ে আপনি ওঁর পাশেই দাঁড়ালেন। কী বলবেন আপনি?

ব্যক্তি নয় সত্যের পাশে দাঁড়িয়েছি। বন্ধু-শত্রু, অপরিচিত ব্যক্তি যেই সত্যি বলে, তাঁর পাশে দাঁড়ানো উচিত, আমার শিক্ষা তাই বলে। গোটা বিশ্ব এই ব্যাপারে এক জোট হয়ে গিয়েছে। তবু তদন্তের কিনারা হচ্ছে না। প্রতিবাদ জোরালো করতে কঙ্গনা যদি এগিয়ে আসে, কেন ওঁর পাশে দাঁড়াবো না? আর সময়ের সঙ্গে তিক্ততা কমে আসে, এটাও সত্যি। অধ্যয়নের সঙ্গে যা হয়েছে, সেটা ভুল, একথা আমি এখনও মানি। তবে এখন অধ্যয়নের নয়, সুশান্তের কথা ভাবার সময়।

প্রশ্ন- আজ আপনি রাজ্যপালের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলন, উনি কী বললেন?

সিবিআই তদন্তের কথাই বললাম। ২৫০ শো-র ওপর ট্যুইট করেছি এই বিষয়ে। রাজ্যপালকেও বোঝানোর চেষ্টা করলাম। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ চলতেই থাকবে। ছেলেটার জন্য ন্যায় চাই। তার জন্য সিবিআই-এর দ্বারস্থ হতে ক্ষতি কী? ভগতজিও বলেন উনি এই ব্যাপারে এক মত।

প্রশ্ন- আপনার মনে হয় মুম্বই পুলিশ ঠিক ভাবে তদন্ত করেনি?

আপনি আমাকে একটা সোজা কথা বলুন, বড় ব্যানারের প্রযোজকদের জেরা করে কী হবে? সুশান্ত কাজ পেত কী পেত না। সেটা কী এখন আলোচ্য বিষয়? বরং পোস্টমর্টম রিপোর্ট, অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট, সুশান্তের বন্ধু-বান্ধব, যাঁরা মৃত্যুর আগের রাতেও সুশান্তের সঙ্গে ছিল, তাঁদের বয়ান নেওয়া উচিত ছিল না পুলিশের? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন সিসিটিভি ফুটেজ কোথায় গেল? এ তো সাসপেন্স ছবি, আগাথা ক্রিস্টির উপন্যাসের মতো রহস্যময় বিষয়।

প্রশ্ন- একেবারেই তাই।

ওই ফুটেজ কেন পাওয়া যাচ্ছে না। আর যাচ্ছে না যখন, তখন কে গায়েব করলো? তলিয়ে দেখতে হবে বৈকি। মাস্টারমাইন্ডকে খুঁজে বের করতে হবে। নেপটিজমের জন্য হয়তো সুশান্ত অবসাদে ছিল, কিন্ত আসল ব্যাপার সেটা নয়। আর ওঁর মৃত্যুর দিন, এই করোনার বাজারে এক নিমেষের মধ্যে তালা খোলার লোক পাওয়া গেল। চট করে তালা খোলাও হয়ে গেল। বিষয়টা আশ্চর্যের নয়? আমি প্রতিবাদ চালিয়ে যাব। করোনার জন্য রাস্তায় নামতে পারবো না। কিন্তু ছেড়ে দেব না।

ARUNIMA DEY

Published by:Piya Banerjee
First published: