'বাংলায় অনেক ছবি হচ্ছে কিন্তু সাহসিকতার অভাব বোধ করি' জয় সেনগুপ্ত

Photo Courtesy : Joy Sengupta

"নিজের সৃজনশীলতা নিয়েই তো এগোতে চাই ৷ টাকার পিছোনে ছোটার কোন তাগিদ কোনদিনই অনুভব করিনি ৷ যখন বড় হচ্ছি তখন গোবিন্দ নিহালিনির ছবি দারুণ লাগত ৷ আমার কাজও শুরু হয় হাজার চুরাশি কি মা দিয়ে ৷ এরপর একে একে পাতালঘর, চতুরঙ্গ, বিলু রাক্ষস-এর মত ছবি করেছি বাংলায় ৷"

  • Share this:

    #মুম্বই: মুম্বইয়ের ভরসোভার ফ্ল্যাট থেকে সমুদ্র দেখা যায় ৷ উত্তাল সমুদ্রই তাঁকে শান্ত করে, স্ট্রেস কমায় ৷ দিনের শেষে বাড়ি ফিরে এসে অভিনেতা জয় সেনগুপ্ত মন দেন সিনেমায় বা বইয়ে ৷ আর মাঝেমাঝে নজরে থাকে আরব সাগর ৷ "আসলে সমুদ্র যেন আমার সব খারাপ লাগাগুলো ভাসিয়ে নিয়ে, দিয়ে যায় মুঠো মুঠো আশা ৷ পাহাড় যেমন মানুষকে বিনয়ী করে, সমুদ্রের স্রোতে বয়ে যায় আমাদের দুঃখ ৷" মত জয়ের ৷ আপাতত তিনি ব্যস্ত তাঁর থিয়েটার, ছবি, অ্যাডের শ্যুট নিয়ে ৷

    নিজের বাড়িতে খোশমেজাজে অভিনেতা ৷ Photo Courtesy : Joy Sengupta নিজের বাড়িতে খোশমেজাজে অভিনেতা ৷ Photo Courtesy : Joy Sengupta

    থিয়েটার থেকেই অভিনয়ের যাত্রা শুরু ৷ তাই সেই মঞ্চ তাঁর বরাবরের প্রিয় ৷ তবে থিয়েটার প্রিয় হওয়ার আরও একটা কারণ রয়েছে ৷

    অনর্গল বলে চললেন জয়

    "এখনও থিয়েটার আমার কাছে ব্যক্তিগত মাধ্যম ৷ নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরার জন্য উপযুক্ত ৷ আসলে সিনেমা তৈরি করার সময় অনেক বিষয় মাথায় রাখতে হয় ৷ ব্যবসায়ীক স্বার্থ যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৷ ব্যক্তিগত কারণ থেকে বাহ্যিক কারণ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সিনেমার মাধ্যম ৷ শিল্পী হিসেবে তাই কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয় ৷ তবে সিনেমার প্রতি আমার অগাদ সম্মান রয়েছে ৷ সিনেমাই তো আমাদের জনপ্রিয় করে৷"

    তাহলে সিনেমায় প্রধান চরিত্রে কেন পাওয়া যায় না ?

    একটু থেমে জয়ের উত্তর,

    "আসলে কিছু কিছু চরিত্র মানুষের মনে দাগ কেটে যায়, কয়েকটা সিন হলেও স্মরণীয় হয়ে থাকে ৷ সেই চরিত্রগুলোই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ৷ মানুষ মনে রাখেন ৷ আর মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য এতেই আমার ভরসা ৷" তাই ব্যোমকেশের ছেলের চরিত্র হোক বা ঘরে এন্ড বাইরে নায়িকার বাগদত্তা অনায়াস অভিনয় জয়ের ৷ আপাতত হতে বেশ কিছু প্রোজেক্ট ৷ প্রশ্ন করতেই গড়গড়িয়ে বলে গেলেন একের পর এক নাম ৷ কৈলাশ সত্যার্থীর বচপন বাঁচাও আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছবি ঝলকি-র এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন তিনি ৷ এছাড়াও কি এন্ড কসমস, তৃতীয়ত, আমার আর্তনাদ-এর মত ছবি সঙ্গে নেটফ্লিক্সের একটি সিরিজ বিউটিফুল হ্যান্ড অফ দিল্লি ৷

    মুম্বইয়ের বাড়িতে জয় ৷ Photo Courtesy : Joy Sengupta মুম্বইয়ের বাড়িতে জয় ৷ Photo Courtesy : Joy Sengupta

    ছবি, অ্যাড, থিয়েটার সব একসঙ্গে সামলান কী করে ?

    এর উত্তর যেন তৈরিই ছিল , 

    "নিজের সৃজনশীলতা নিয়েই তো এগোতে চাই ৷ টাকার পিছোনে ছোটার কোন তাগিদ কোনদিনই অনুভব করিনি ৷ যখন বড় হচ্ছি তখন গোবিন্দ নিহালিনির ছবি দারুণ লাগত ৷ আমার কাজও শুরু হয় হাজার চুরাশি কি মা দিয়ে ৷ এরপর একে একে পাতালঘর, চতুরঙ্গ, বিলু রাক্ষস-এর মত ছবি করেছি বাংলায় ৷" কোথাও কি মুম্বইয়ের শিল্পী হলে কলকাতার বাজারে কদর বাড়ে ? "এগুলো আগে হত, এখন এমন কিছুই নেই ৷ চরিত্রে ফিট হলেই আমি কাজটা করি ৷"

    বাংলায় এখন তো অনেক কাজ হচ্ছে...প্রশ্ন শেষ হতে না হতেই বাংলা ছবির বাজার নিয়ে মতামত দিলেন জয় ...

    জয়ের কথায়,

    "কাজ হচ্ছে, অনেক রকম কাজ ৷ কিন্তু কোথায় একটু সাহসিকতার অভাব বোধ হয় ৷ ছয় বা সাতের দশকে যেমন উচ্চতায় পৌঁছেছিল বাংলা ছবি, এখন সেখানে অনেক ছবি হলেও উন্নতমানের নয় ৷ বিশ্বায়নের যুগে ফিল্ম আর্টের বদলে ভোগ্যপণ্য পরিণত হয়েছে ৷ মানুষ যেন সেভাবেই তৈরি হয়েছে ৷ নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সাহিত্যের দূরত্ব তৈরি হয়েছে ৷ সাহিত্য নির্ভরতা কমে গিয়েছে ৷"

    Photo Courtesy : Joy Sengupta Photo Courtesy : Joy Sengupta

    কাদের পরিচালনা ভাল লাগে ?

    একটুও না থেমে,

    "বাংলায় কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, আদিত্যবিক্রম সেনগুপ্ত , হিন্দিতে বিশাল ভরদ্বাজ, দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ আর অনুরাগ বসু, অনুরাগ কাশ্যপ তো বন্ধু , ওদের কাজ সবসময়ই ভাল লাগে ৷"

    ইন্টারভিউয়ের শেষে প্রেম বা বিয়ের কথা উঠতেই একটু যেন রোম্যান্টিক হয়ে উঠলেন জয় সেনগুপ্ত ...

    হালকা হেসে, জয় জানালেন

    "প্রেম আমার কাছে দারুণ অভিজ্ঞতা ৷ আমার প্রেম সোশ্যাল মিডিয়া প্রেম নয় ৷ প্রেম মানেই তাতে থাকবে গভীরতা ৷ প্রেম আমায় সমৃদ্ধ করেছে ৷ যে পেয়েছি, যা হারিয়েছি সবই প্রতিফলিত হয়েছে আমার অভিনয়ে ৷"

    First published: