তিনিও পড়েন প্রতারকের হাতে, অল্পের জন্য রক্ষা, মিমির ঘটনা রেশ ধরে জানালেন ভাস্বর

ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়, ছবি-ফেসবুক

প্রতারিত হতে হতে একটুর জন্য বেঁচে গিয়েছেন ৷ তিক্ত সেই অভিজ্ঞতা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করলেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় (Bhaswar Chatterjee) ৷

  • Share this:

    কলকাতা : প্রতারিত হতে হতে একটুর জন্য বেঁচে গিয়েছেন ৷ তিক্ত সেই অভিজ্ঞতা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করলেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় (Bhaswar Chatterjee) ৷ ভাস্বর জানিয়েছেন, গত বছর এক জন টলিউডের কিছু অভিনেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেন, প্রাচীন সভ্যতা নিয়ে বড় মাপের কাজ হতে চলেছে ৷ তাঁর দাবি ছিল, ছবি প্রযোজনার দায়িত্ব ভারত সরকারের ৷ কুশীলব নির্বাচনের দায়িত্ব ওঁর উপর পড়েছে ৷ ওঁর সঙ্গে আরও দু’জন মহিলাও ছিলেন ৷

    ভাস্বর লিখেছেন, এর পর মিটিং হয়৷ প্রোমো শ্যুট হয় ৷ কিন্তু ছবির কাজ আর শুরু হয় না! তার উপর টাকার কথা বললেই তিনি রেগে যেতেন ৷ এমনকি, হোয়াটসঅ্যাপে তাঁকে দীর্ঘ বার্তাও পাঠাতেন বলে দাবি ভাস্বরে ৷ কিছু দিন পর ভাস্বরের সন্দেহ হতে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে ওই ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে ৷ তিনি নিজেকে বড় মাপের সরকারি আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়েছিলেন ৷ কিন্তু তিনি সামাজিক মাধ্যমে নেই! এমনকি, গুগলে খুঁজতে গেলেও বার্তা আসত ‘সার্চ নট ফাউন্ড’ বলে ৷

    আচমকাই ভাস্বর আবিষ্কার করেন, ওই ব্যক্তি বড় প্রতারণা চক্রে জড়িত থেকে এক সময় সাজা ভোগ করেছেন ৷ জেল থেকে বেরিয়ে কিছু দিন গা ঢাকা দিয়েছিলেন ৷ তার পর আবার ফিরে যান নিজের পুরনো ‘কারবারে’ ৷

    গণ্ডগোল আঁচ করতে পেরে ওই পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন ভাস্বর ৷ লিখেছেন, ‘‘আমরা সব বুঝে এখান থেকে বেরিয়ে এলাম, লোকটিকে আমি বললাম আপনার সরূপ বুঝে গেছি।তিনি আবার গা ঢাকা দিয়েছেন।’’ নেটমাধ্যমে এই পোস্ট করে সকলকে সাবধান করেছেন অভিনেতা ৷ যাতে এই দুষ্ট চক্রে আর কেউ পা না দেন ৷

    ভাস্বরের পোস্টে নিজেদের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন টলিউডের অনেকেই ৷ বলেছেন, তাঁদের কাছেও ওই প্রতারকের কাছে থেকে সুযোগের হাতছানি এসেছিল ৷ কেউ কেউ কাজ শুরুও করে দিয়েছিলেন ৷ কারও কারও কথায়, ইন্ডাস্ট্রির অন্যত্রও এ রকম প্রতারক জাল বিছিয়ে বসে আছে ৷

    সম্প্রতি কসবার এক প্রতিষেধক শিবিরে প্রতারিত হন মিমি চক্রবর্তী ৷ ভুয়ো আইএএস সেজে তাঁর কাছে পরিচয় দেন ওই শিবিরেরে আয়োজক দেবাঞ্জন দেব ৷ তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে উৎসাহ দেবেন বলে মিমি নিজেই ওই শিবির থেকে কোভিশিল্ডের প্রথম ডোজ নেন ৷ তাঁর সঙ্গে ১০ দিন ধরে ওই শিবির থেকে টিকা পেয়েছেন আরও অসংখ্য শহরবাসী ৷ কিন্তু টিকার কোনও শংসাপত্র না পেয়ে সন্দেহ হয় মিমির ৷ আয়োজকদের কাছ থেকে সদুত্তর না পেয়ে সাংসদ যোগাযোগ করেন পুলিশের সঙ্গে ৷ এর পর বন্ধ করে দেওয়া হয় ওই শিবির ৷ ফাঁস হয় পুরো চক্রটি ৷

    সেই ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ না করেও ভাস্বর তাঁর লেখার শুরুতে বলেছেন, ‘‘এখন এটা বলা যায়৷’’ তা হলে কি দুই প্রতারণাকাণ্ডের মধ্যে কোনও যোগসূত্র আছে? ভাস্বরের পোস্টের প্রেক্ষিতে প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা ৷

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: