Bhaswar Chatterjee: ‘আত্মহত্যার চিন্তা থেকে বাঁচার আনন্দে’, খাদের কিনারা থেকে জীবন নিয়ে অকপট ভাস্বর

ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়, ছবি-ফেসবুক

খাদের কিনারায় পৌঁছে সেখান থেকে ফের জীবনের পথে ফিরে আসার কথা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় (Bhaswar Chatterjee) ৷

  • Share this:

    কলকাতা:  অবসাদগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন ৷ খাদের কিনারায় পৌঁছে সেখান থেকে ফের জীবনের পথে ফিরে আসার কথা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় (Bhaswar Chatterjee) ৷ তাঁর কথায়, তিনি সবকিছুই ফেসবুকে শেয়ার করেন ৷ মনে করেন, তালা লাগিয়ে রাখতে কেউ সোশ্যাল মিডিয়া করে না ৷

    অন্ধকার দিন আজ অতীত ৷ ভাস্বর জানিয়েছেন, আজ তিনি খুব ভাল আছেন ৷ ভাষা শিখছেন, নানা ভাষার গান গাইছেন, গল্প লিখে প্রকাশ করছেন, শর্ট ফিল্ম বানাচ্ছেন ৷ নিজের ভাললাগার সময় থেকে বেশ কিছুটা নিয়ে সমাজের জন্যও কাজ করছেন ৷

    সামাজিক মাধ্যমে সবকিছু শেয়ার করলেও সব সময়েই যে অভিজ্ঞতা সুখকর, তা নয় ৷ কারণ রোজা রেখে তীব্র ট্রোলড হয়েছেন তিনি ৷ ট্রোলিংয়ের শিকার হয়েছেন কাশ্মীরের দুর্গতদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েও ৷ কিন্তু ট্রোলিং তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি ৷ বরং, ভাস্বরের কথায় তিনি বেশ উপভোগই করেছেন ট্রোলিং ৷

    ফেসবুকে ভাস্বর বেশ সক্রিয় ৷ সেখানেই তিনি দিয়েছিলেন কাশ্মীরভ্রমণের খুঁটিনাটি ৷ সম্প্রতি শেষ করেছেন ‘দ্য কাশ্মীর সাগা’ উপন্যাস ৷ তাঁর ইচ্ছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রথম উপন্যাসকে কিন্ডল-এ মুক্তি দিয়ে বই আকারে প্রকাশ করবেন ৷ ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় উপন্যাস নিয়েও কাজকর্ম শুরু করেছেন, জানিয়েছেন ভাস্বর ৷

    পাশাপাশি, অতিমারি পরিস্থিতিতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছেন ভাস্বর ৷ তিনি এখন পুরোদস্তুর সমাজকর্মী ৷ মায়ের নামে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শুরু করেছেন অভিনেতা ৷ সংস্থার নাম ‘অপর্ণা ফাউন্ডেশন৷’ কোভিড পরিস্থিতিতে সংস্থার উদ্যোগে দরিদ্রদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে ৷ কলকাতার বিভিন্ন অংশে বহু জনের কাছে নিখরচায় দুপুর ও রাতের খাবার পৌঁছে দিচ্ছে ভাস্বরের তৈরি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ৷

    সবকিছুর সঙ্গেই আছে অভিনয় ৷ ‘কৃষ্ণভক্ত মীরা’ ধারাবাহিকে তাঁকে এ বার দেখা যাবে খলনায়ক রাজ পুরোহিতের ভূমিকায় ৷ ফেসবুকে সেই লুক তিনি শেয়ার করেছিলেন ৷ নেটিজেনদের বাহবা পেয়েছে ভাস্বরের ‘খলনায়ক রূপ’ ৷

    পর্দার বাইরেও খলনায়ক পরিচয় পেয়েছেন তিনি ৷ যখন দু’বার ভেঙে গিয়েছে তাঁর সংসার ৷ অভিযোগের আঙুল উঠেছে ৷ কাঁটাছেঁড়াও হয়েছে তাঁর পারিবারিক জীবন নিয়েও ৷ কিন্তু সে সবে ভাস্বরের আর কিছু এসে যায় না ৷ তিনি মনে করেন, ‘‘জীবনকে উপভোগ করা একটা শিল্প ৷ এক বার শিখে গেলে কোনও ব্যথা বেদনা আর কষ্ট দেয় না,’’ উপলব্ধি অভিনেতার ৷ তাঁর কথায়, ‘‘কারওর জন্য কিছু আটকায় না থেমেও থাকে না, আমার জন্য ও থাকবে না । জীবন একটাই, যা ভাল লাগে সাধ্যের মধ্যে থাকলে করে ফেলা উচিত।’’

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: