Surekha Sikri : ‘যেন আরও কাজ পাই’, শত অর্থকষ্টেও সাহায্য ফিরিয়ে দেওয়া সুরেখাকে শ্রদ্ধার্ঘ্য আয়ুষ্মানের

সুরেখা সীকরী, ছবি-ফেসবুক

সুরেখা সীকরীর (Surekha Sikri) প্রয়াণে ‘বধাই হো’ ছবির পরিবারের কথা মনে পড়ছে আয়ুষ্মান খুরানার (Ayushmann Khurrana) ৷ সামাজিক মাধ্যমে এক মর্মস্পর্শী বার্তায় প্রবীণ অভিনেত্রীকে স্মরণ করেছেন তিনি ৷

  • Share this:

    মুম্বই : প্রত্যেক ছবি করার সময় তাঁরা একটি নতুন পরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন ৷ নিজের পরিবারের তুলনায় শ্যুটিং ফ্লোরের সেই পরিবারের সঙ্গেই বেশি সময় কাটান ৷ সুরেখা সীকরীর (Surekha Sikri) প্রয়াণে ‘বধাই হো’ ছবির পরিবারের কথা মনে পড়ছে আয়ুষ্মান খুরানার (Ayushmann Khurrana) ৷ সামাজিক মাধ্যমে এক মর্মস্পর্শী বার্তায় প্রবীণ অভিনেত্রীকে স্মরণ করেছেন তিনি ৷

    ‘বধাই হো’ ছবির জন্য তৃতীয় জাতীয় পুরস্কার পান সুরেখা ৷ পুরস্কার গ্রহণ করতে গিয়েছিলেন হুইল চেয়ারে৷ আয়ুষ্মানের কথায়, ‘‘বধাই হো ছবির পরিবার ছিল সেরা ৷ পরিবারের প্রধান ছিলেন সুরেখা ৷ মানসিকতায় তিনিই ছিলেন বাকি সকলের তুলনায় অনেক এগিয়ে ৷’’ পর্দার বাইরে বাস্তব জীবনেও তিনি ছিলেন সেরকমই ৷ বয়সের ছাপ পড়েনি সুরেখার মনে ৷ মানসিকভাবে তিনি ছিলেন নবীন ৷ উপলব্ধি আয়ুষ্মানের  ৷

    পরাধীন ভারতের দিল্লিতে ১৯৪৫-এর ১৯ এপ্রিল জন্ম সুরেখার ৷ ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলটের মেয়ে সুরেখার আশৈশব লালিত ইচ্ছে ছিল সাংবাদিক হবেন ৷ কিন্তু তিনিই আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করার পর ভর্তি হন ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় ৷ সুরেখা সৎ বোন ছিলেন মানারা ৷ তিনি নিজের জন্য এনএসডি-র ফর্ম এনেছিলেন৷ কিন্তু পরে মত পাল্টে ডাক্তারি পড়েন ৷ মায়ের কথায় সেই ফর্ম পূরণ করে আবেদন করেন সুরেখা ৷

    থিয়েটার ছিল প্রথম প্রেম ৷ সেখান থেকে আত্মপ্রকাশ ছবিতে ৷ প্রথম ছবি ‘কিস্সা কুর্সী কা’ মুক্তি পায় ১৯৭৮ সালে ৷ এর পর ‘নজর’, ‘সরদারী বেগম’, ‘সরফরোশ’, ‘দিল্লগি’, ‘জুবেইদা’, ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আইয়ার’, ‘রেনকোট’, ‘দেব ডি’, ‘তুম সা নঁহি দেখা’, ‘জো বোলে সো নিহাল’-সহ একাধিক ছবিতে বাণিজ্যিক ও সমান্তরাল দুই ধারার ছবিতে স্বকীয়তার ছাপ রেখেছেন তিনি ৷ প্রথম দুটি জাতীয় পুরস্কার পান গোবিন্দ নিহালনির ‘তমস’ এবং শ্যাম বেনেগালের ‘মাম্মো’-তে অভিনয়ের জন্য ৷ ছোট পর্দায় ‘বালিকা বধূ’ ধারাবাহিকে সুরেখার ‘দাদীসা’ চরিত্রটি নতুন করে লিখেছিল টেলিভিশনে চরিত্রাভিনয়ের সংজ্ঞা৷

    ২০১৯ সালে সুরেখা ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন মহাবালেশ্বের শ্যুটিঙের সময় ৷ সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছিলেন শ্যুটিং ফ্লোরে ৷ সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, দীর্ঘকালীন চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে তাঁর অর্থ প্রয়োজন৷ কিন্তু তিনি সাহায্য বা দাক্ষিণ্য চান না ৷ বরং অভিনয় করে তাঁর সাম্মানিক চান ৷ বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন অর্থসাহায্যও ৷

    সুরেখার এই দৃঢ় মনোভাবের কথা মনে পড়েছে আয়ুষ্মানেরও ৷ ‘বধাই হো’-র স্ক্রিনিংয়ের পর সুরেখা অটোরিকশা নিতে যাচ্ছিলেন বাড়ি ফিরবেন বলে ৷ আয়ুষ্মান ও তাহিরা তাঁকে গাড়িতে করে পৌঁছে দেন ৷ আয়ুষ্মান বলেছিলেন, ‘‘আপনিই আমাদের ছবির প্রধান তারকা ৷ উত্তরে তিনি বলেছিলেন, আরও যেন কাজ পাই৷’’ শুনে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন আয়ুষ্মান-তাহিরা ৷

    সুরেখার সৎ বোন মানারা ছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহের প্রাক্তন স্ত্রী ৷ শত প্রতিবন্ধকতাতেও অনু্গ্রহপ্রার্থী হননি নাসিরুদ্দিন শাহের প্রাক্তন শ্যালিকা, সুরেখা ৷ অনমনীয় অথচ কোমল মানসিকতা নিয়েই চলে গেলেন তিনি ৷ স্বামী প্রয়াত হয়েছিলেন আগেই ৷ রেখে গেলেন পুত্র রাহুল, পরিজন-সহ অগণিত অনুরাগীকে ৷

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: