EXCLUSIVE: ‘পিঙ্ক’ নিয়ে অমিতাভ বচ্চনের সাক্ষাৎকার

PHOTO- PRADESH18

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: ‘পিঙ্ক’ ছবি নিয়ে উচ্ছ্বসিত গোটা বলিউড ৷ উচ্ছ্বসিত অমিতাভ বচ্চনও ৷ সম্প্রতি দিল্লিতে ছবির প্রোমোশনে এসেছিলেন তিনি ৷ প্রদেশ১৮-এর সংবাদদাতা পূজা বাত্রাকে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বিগবি জানালেন, ছবি নিয়ে নানা কথা ৷

    ছবি শেষে হলভর্তি লোকের হাততালি শুনে কেমন লাগল আপনার?

    অমিতাভ: দারুণ খুশি হয়েছিলাম ৷ মনে হল আমার পরিশ্রম সঠিক মাত্রা পেল ৷ যে উদ্দেশ্যকে মাথায় রেখে আমরা ছবি তৈরি করি৷ তা ঠিকঠাক যদি দর্শকের কাছে গিয়ে পৌঁছয় তাহলে মনে হয় হ্যাঁ, কাজ করাটা স্বার্থক হয়েছে ৷ এই ছবিটি বিশেষ করে মহিলাদের পছন্দ হয়েছে জেনে খুশি হয়েছি ৷

    ছবির নাম ‘পিঙ্ক’ কেন ?

    অমিতাভ: ছবির নাম ‘পিঙ্ক’ হওয়ার কারণ, আমরা জানি যে গোলাপি রংটি মেয়েরা বেশি পছন্দ করে ৷ আর এই ছবিটি মূলত মেয়েদের জন্যই তৈরি হয়েছে ৷ তাই ছবির নাম ‘পিঙ্ক’ ৷

    আরও পড়ুন 

    #PINKReview: দারুণ অভিনয় ও সঠিক চিত্রনাট্যের মিশেল

    ছবির এমন কোনও দৃশ্য যা আপনাকে কাঁদিয়ে দিয়েছে ?

    অমিতাভ: গোটা ছবিটাই বেদনাদায়ক ৷ প্রায় প্রত্যেকটি দৃশ্যই চোখে জল এনে দেওয়ার মতো ৷ সত্যি কথা বলতে, ছবিতে আমি একবারের জন্যও গ্লিসারিন ব্যবহার করিনি ৷ তবে কোর্ট রুমে যখনই আমি তাপসী পান্নুকে জিজ্ঞাসাবাদ করতাম, ওই সময় আমার চোখে জল চলে আসত ৷ সত্যি মেয়েদেরকে কত কী সহ্য করতে হয় ৷

    ছবিতে আপনি আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, আইন-ধারা এই সব মনে করতে অসুবিধা হয়েছে অভিনয়ের সময় ?

    অমিতাভ: খুব একটা না ৷ কারণ শ্যুটিংয়ের সময় আমাদের সঙ্গে বাস্তবের আইনজীবীরা থাকত ৷ যারা আমাদের সাহায্য করেছে ৷

    ‘পিঙ্ক’ মুক্তি পাওয়ার কিছুদিন আগে আপনি নভ্যা ও আরাধ্যার জন্য একটা চিঠি লিখেছিলেন, ছবির প্রোমোশনের জন্য এই স্টাইল কীভাবে আপনার মাথায় এল?

    অমিতাভ: আসলে ব্যাপারটা হল, আমি চেয়েছিলাম এমন এক প্রোমোশন স্টাইল নিতে যাতে ছবির গল্পটা পুরোপুরিভাবে সামনেও আসবে না, আবার সিনেমার বার্তাটাও পরিষ্কার ভাবে সবার কাছে পৌঁছে যাবে ৷ আমাকে ছবির প্রযোজক সুজিত সরকারই এই আইডিয়াটা দিয়েছিল ৷

    আরও পড়ুন 

    প্রকাশ্যে ‘পিঙ্ক’ ছবির ট্রেলার, বিগবি-র বাজিমাত !

    আপনার মনে হয়নি, এই ধরণের একটা চিঠি ছেলেদের জন্যও লেখা উচিত?

    অমিতাভ: আপনি একদম ঠিক বলেছেন ৷ আমাদের এরকমটা করা উচিত ৷ কারণ, সব সময়ই সব প্রশ্নই মেয়েদের জন্য ওঠে ৷ ছেলেদের জন্য নয় ৷ আমি সমস্ত মা-বাবাকে বলতে চাই একজন ছেলেকে যেভাবে বড় করবেন, একজন মেয়েকেও একইভাবে বড় করুন ৷ একই শিক্ষা দিন ৷ আমি আমার স্ত্রী (জয়া বচ্চন)কে বলেছি, আমি মেয়েদের জন্য চিঠি লিখছি ৷ তুমি ছেলেদের জন্য চিঠি লেখ ৷

    ‘পিঙ্ক’ ছবিতে আমার সবচেয়ে যে দৃশ্যটি ভালো লেগেছে সেটা হল, পার্কে হাঁটতে হাঁটতে তাপসী পান্নুর মাথা থেকে হুডটা খুলে দেওয়া৷

    অমিতাভ: হ্যাঁ, আমি তো এটাই বলতে চেয়েছি ৷ তুমি ভুল নও ৷ তাই সবার সামনে মাথা নিচু করার কোনও দরকার নেই ৷

    আরও পড়ুন 

    ‘পিঙ্ক’ দেখে কেঁদেই দিলেন কঙ্গনা রানাওয়াত !

    তাপসী পান্নুকেও জিজ্ঞেস করা হল একটা প্রশ্ন ৷ ‘পিঙ্ক’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে কেমন লাগল আপনার? ধর্ষিতার কষ্টের সঙ্গে কী নিজেকে রিলেট করতে পারলেন?

    তাপসী পান্নু: একজন ধর্ষিতার দুঃখকে কেউ অনুভব করতে পারে না ৷ ওই যন্ত্রণা কেউ ভাগ করে নিতে পারে না ৷ সিনেমার শ্যুটিংয়ের পর যখন বাড়িতে যেতাম, নিজেকে অদ্ভুত লাগত ৷ কখনও একা একাই বসে থাকতাম ৷ চুপচাপ ভেবেই যেতাম৷ ‘পিঙ্ক’ ছবি মহিলাদের এই যন্ত্রণা, সমাজের তাঁদের অবস্থান নিয়েই৷

    First published: