Dilip Ghosh Exclusive Interview: এসআইআর হলেই ফল ঘুরবে! 'ভুয়ো ভোট বাদ পড়লেই...' বাংলায় BJP-র জয় দেখছেন দিলীপ ঘোষ
- Published by:Tias Banerjee
Last Updated:
Dilip Ghosh Exclusive Interview: বঙ্গ রাজনীতির কামব্যাক কিং! খড়গপুর সদরে ফিরলেন দিলীপ ঘোষ! কেন ফের দিলীপেই আস্থা বিজেপির? ব্রিগেডের মঞ্চে কী বললেন নরেন্দ্র মোদি? বিয়ে নিয়ে বিতর্ক থেকে জামাবদলের রাজনীতি, হটসিটে বিস্ফোরক দিলীপ। বিশ্ব মজুমদারের সঙ্গে সোজাসাপটায় চাঁচাছোলা জবাব দিলীপের। ভোটার তালিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁর মন্তব্য, “৬০ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও ঝুলে রয়েছে। একজনও বৈধ ভোটার যেন বাদ না যায়, একজনও অবৈধ যেন ঢুকতে না পারে—না হলে এটা গণতন্ত্রের অপমান।” তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ডমিসাইল ও বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করে ভুয়ো ভোটার তৈরি করা হয়েছে।
ভোটের আগে ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশ—সবকিছু নিয়েই চাঁচাছোলা মন্তব্য তাঁর। বিজেপি তাঁকে ফের ভরসা করেছে খড়গপুর সদরে। নিউজ১৮ বাংলার ‘সোজাসাপ্টা’ এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে একাধিক ইস্যুতে সরাসরি মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। একসময় এই আসনেই তাঁর শক্ত ঘাঁটি ছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ধাক্কার পর আবার পুরোনো কেন্দ্রে ফেরা—এটা নিছক প্রার্থী ঘোষণা নয়, এটা স্পষ্ট বার্তা! সংগঠনের পুরোনো যোদ্ধাদের ফের সামনে আনা হচ্ছে। ব্রিগেড সমাবেশে তাঁর উপস্থিতি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যায় তাঁকে। এমনকি তাঁদের মধ্যে হালকা মজার কথোপকথনও হয়—মোদী তাঁর বিয়ে নিয়ে মিষ্টি চেয়েছিলেন, আর দিলীপের জবাব, “ভোটের পর।” এই ছোট্ট ঘটনাই দেখিয়ে দেয়—তিনি এখনও দলের ভেতরে প্রাসঙ্গিক এবং স্বচ্ছন্দ।
এসআইআর প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে বলেই দাবি করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক ভুয়ো নাম থাকাই নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলছে, আর সেই কারণেই এসআইআর বা বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে চিত্র বদলাতে পারে।
advertisement
advertisement

ভোটার তালিকা নিয়ে তিনি তীব্র প্রশ্ন তোলেন। প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তকে তিনি “গণতন্ত্রের অপমান” বলে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, একজনও বৈধ ভোটার যেন তালিকা থেকে বাদ না যায় এবং একজনও অবৈধ ব্যক্তি যেন তালিকায় না ঢোকে—এটাই নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবে পরিকল্পিতভাবে ডমিসাইল সার্টিফিকেট এবং ব্যাকডেটেড জন্ম শংসাপত্র ইস্যুর মাধ্যমে ভুয়ো ভোটার তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিশেষ করে বিধাননগরের এসডিও অফিস ও সরকারি হাসপাতালের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
advertisement
অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গা ইস্যুতেও সরব হন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ পর্যন্ত সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অনুপ্রবেশ একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং দেশে এক কোটিরও বেশি অনুপ্রবেশকারী রয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০০৫ সালে সংসদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই ইস্যুতে সরব হয়েছিলেন, অথচ এখন তা অস্বীকার করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে—জম্মু-কাশ্মীর থেকে তামিলনাড়ু, মুম্বই থেকে দিল্লি—বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় মানুষের সুযোগ-সুবিধায় ভাগ বসাচ্ছে। ধর্মতলার হকারদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এই অভিযোগকে আরও জোরালো করেন।
advertisement
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। রাজ্য পুলিশকে “অযোগ্য” বলে উল্লেখ করে তাঁর দাবি, অনেক ক্ষেত্রে পুলিশই অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গিরিশ পার্কের ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে গন্ডগোলের সময় পুলিশের উপস্থিতি ছিল না, অথচ পরে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তবে নির্বাচন কমিশনের কম দফায় ভোট করানোর সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানিয়ে বলেন, যদি তা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক হবে।
advertisement
বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা নিয়েও আত্মবিশ্বাসী শোনায় তাঁকে। তাঁর বক্তব্য, বহু কেন্দ্রে বিজেপি অল্প ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলেও ভোটার তালিকায় থাকা ভুয়ো ভোটই মূল কারণ। তিনি দাবি করেন, যেখানে ১০ হাজার ভোটে বিজেপি পিছিয়ে, সেখানে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার পর্যন্ত ভুয়ো ভোট রয়েছে। এই ভুয়ো ভোট বাদ গেলে ফল সম্পূর্ণ পাল্টে যেতে পারে বলেই তাঁর বিশ্বাস। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এই কারণেই তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্নায় বসতে বাধ্য হয়েছেন।
advertisement
সব মিলিয়ে, নিউজ১৮ বাংলার এই এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ তাঁর চেনা আগ্রাসী ভঙ্গিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন, যা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নির্বাচন কমিশনের কম দফায় ভোট করানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যদি দুই ফেজে আগের চেয়ে শান্তিপূর্ণ ভোট হয়, তাহলে সেটা ঐতিহাসিক হবে।”
Location :
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
First Published :
Mar 18, 2026 12:07 AM IST










