Home /News /education-career /
QS World Rankings List: গবেষণায় সেরা বেঙ্গালুরুর IISc, QS-এর বিশ্ব তালিকায় দেশের কোন ৪১টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ?

QS World Rankings List: গবেষণায় সেরা বেঙ্গালুরুর IISc, QS-এর বিশ্ব তালিকায় দেশের কোন ৪১টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ?

গবেষণা ক্ষেত্রে নতুন মাইলস্টোন ছুঁয়ে এসেছে ভারত। আর তাও সেই ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের (IISc)-এর হাত ধরেই।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: Quacquarelli Symonds, সংক্ষেপে QS-এর সমীক্ষা অনুযায়ী ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের বিশ্ব তালিকায় স্থান করে নিল ভারতের ৪১টি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয় গত বছরও ছিল এই তালিকায়, তবে তাদের স্থান পরিবর্তন হয়েছে। আর নতুন করে সেরার খাতায় নাম লেখাতে পেরেছে আরও ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়। শুধু তাই নয়, প্রথম ২০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে ভারতের তিনটি।

এর মধ্যে রয়েছে বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (Indian Institute of Science)। শুধু ক্রম তালিকায় থাকাই নয়, এই প্রতিষ্ঠানের মুকুটে যোগ হয়েছে নতুন পালক। সারা বিশ্বে ১৫৫ নম্বর স্থানে রয়েছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স। তথ্য বলছে গত বছরের ১৮৬ নম্বরে ছিল দক্ষিণ ভারতের এই বিজ্ঞান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে একা IISc নয়। প্রথম ২০০ জনের তালিকায় রয়েছে বম্বে আইআইটি (IIT Bombay) এবং দিল্লি আইআইটি (IIT Delhi)।

গবেষণা ক্ষেত্রে নতুন মাইলস্টোন ছুঁয়ে এসেছে ভারত। আর তাও সেই ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের (IISc)-এর হাত ধরেই। সারা বিশ্বে গবেষণায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে IISc। ‘সিটেশন পার ফ্যাকাল্টি’ (citations per faculty/CpF indicator) সূচকে শীর্ষে রয়েছে ভারতীয় এই প্রতিষ্ঠান। আসলে এই সূচক নির্ণয় করে বিগত পাঁচ বছরের হিসেব। এই সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানে যত শিক্ষক, অধ্যাপক রয়েছেন তাঁরা কতগুলি গবেষণা পত্র দাখিল করেছেন তার নিরিখেই বিচার করা হয়। Quacquarelli Symonds বা QS এই পর্যায়েই বিচার করে দেখে উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে গবেষণার হার কেমন। CpF সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানের চেষ্টা করা হয়। বেঙ্গালুরু IISc সেই হিসেবেই সারা বিশ্বে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে শ্রেষ্ট স্থান অধিকার করেছে। ভারতীয় এই প্রতিষ্ঠান CpF সূচকে পেয়েছে ১০০/১০০।

তবে এ ক্ষেত্রেও শুধু বেঙ্গালুরু নয়। সেরা ৫০-এর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে আরও তিনটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান। CpF সূচকে ১০০-র মধ্যে ৩৭ পেয়েছে গুয়াহাটি আইআইটি (IIT Guwahati)। আরও একটু এগিয়ে রয়েছে রুরকি আইআইটি (IIT Roorkee)। তাদের সংগ্রহে রয়েছে ৪৭/১০০। আর প্রথম বার তালিকায় নাম তুলে একেবারে দ্বিতীয় (ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে) হয়ে গিয়েছে মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় (University of Madras)। CpF সূচকে ১০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৮।

QS-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বেন সটার (Ben Sowter) বলেন, ‘এই ফলাফল থেকে বোঝাই যাচ্ছে গবেষণা ক্ষেত্রে ভারতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি কী ভাবে নিজেদের শক্তিশালী করে তুলছে। সারা বিশ্বে তাদের পদচিহ্ন আঁকা হচ্ছে।’

তবে শুধু ভালো কথাই নয়। বেন সটার প্রকাশ করেছেন উদ্বেগও। তিনি জানান, তাদের তথ্য ভাণ্ডার বলছে উল্টোটাও ঘটে চলেছে ভারতে। এ দেশের শিক্ষা ক্ষেত্র এখনও পর্যাপ্ত শিক্ষক পাচ্ছে না। বেন বলেন, ‘নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে গেলে ভারতে আরও শিক্ষা বিস্তারের প্রয়োজন রয়েছে। তা যেমন বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে, তেমনই সার্বিক ভাবে।’

তালিকায় নাম তোলা ৪১টি ভারতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২টি গত বছরের তুলনায় উন্নতি করে। অন্য ১২টি রয়েছে একই জায়গায়। তবে ১০ প্রতিষ্ঠানের মান পড়েছে বলে মনে করছে QS। তালিকায় নতুন করে জায়গা করে নিয়েছে ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়।

তালিকা বলছে ভারতের সমস্ত IIT প্রতিষ্ঠানই গত বছরের তুলনায় উন্নতি করেছে। বম্বে আইআইটি গত বছরের তুলনায় পাঁচ ধাপ উঠে ১৭২তম স্থানে রয়েছে। গত বছরের তুলনায় ১১ ধাপ উঠেছে আইআইটি দিল্লি, তার স্থান এ বছর ১৭৪। এ ছাড়া সেরা ৩০০-র মধ্যে ২৫০তম স্থানে রয়েছে মাদ্রাজ আইআইটি, ২৬৪তম স্থানে রয়েছে কানপুর আইআইটি (IIT Kanpur)। পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুর (IIT Kharagpur) দখল করেছে ২৭০তম স্থান।

IISc, IITB, IITD, IITM, and IIT-Kgp-র মতো পাবলিক ইনস্টিটিউটের উন্নতি যেমন হয়েছে। তেমনই অবনমন ঘটেছে দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় (University of Delhi) এবং হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় (University of Hyderabad)-এর স্থানাঙ্ক নেমেছে। একই স্থান ধরে রাখতে পেরেছে একটি প্রতিষ্ঠান বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটি বিভাগ (IIT-Banaras Hindu University)।

দু’টি প্রাইভেট ইনস্টিটিউটের মধ্যে ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি (OP Jindal Global University) উন্নতি করেছে। ৬৫১তম স্থানে থেকে তারা সেরা ৭০০-র তালিকায় নাম তুলেছে। গত বছরের স্থানাঙ্ক ধরে রাখতে পেরেছে আরও দু’টি ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান। এ দু’টি হল— মণিপাল অ্যাকাডেমি অফ হায়ার এডুকেশন (Manipal Academy of Higher Education) এবং বিড়লা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্স (Birla Institute of Technology and Science)।

নতুন যে সব ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সেরা ১০০০-এর তালিকায় নাম তুলেছে তার মধ্যে রয়েছে চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয় (Chandigarh University)। মাত্র ১০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে তাই উৎসাহ বাড়ছে।

সারা বিশ্বে QS World University Ranking-কে সর্ববৃহৎ বলে ধরা হয়। এ বছর ১০০টি স্থানের ১,৪১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মূল্যায়ন করেছে এই প্রতিষ্ঠান। গত বছর ছিল ১,৩০০টি প্রতিষ্ঠান।

গত এগারো বছর ধরে এই সমীক্ষায় শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (Massachusetts Institute of Technology/MIT)। অন্য দিকে, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় (University of Cambridge) রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় (Stanford University)।

Published by:Rukmini Mazumder
First published:

Tags: QS World Rankings List

পরবর্তী খবর