Home /News /education-career /
Board Exams 2022: ইতিহাসের জটিলতা কাটবে কী ভাবে, নম্বর পাওয়ার পরামর্শ দিলেন পাঠভবনের শিক্ষিকা

Board Exams 2022: ইতিহাসের জটিলতা কাটবে কী ভাবে, নম্বর পাওয়ার পরামর্শ দিলেন পাঠভবনের শিক্ষিকা

শিক্ষিকা ঊর্মি চৌধুরী

শিক্ষিকা ঊর্মি চৌধুরী

Madhyamik Examination 2022: ছোট প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি ব্যয় করলে বড় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় কমে যাবে। এগুলো মাথায় রাখতে হবে।

  • Share this:

    #কলকাতা: হাতে আর কয়েকদিন। ইতিহাসের মতো বিষয়ে কী ভাবে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নেবেন মাধ্যমিকের পড়ুয়ারা। পরামর্শ দিলেন পাঠভবনের শিক্ষিকা ঊর্মি চৌধুরী।

    তিনি বললেন, এ বারে অনেকটা সিলেবাস কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, চ্যাপ্টার ফাইভ পর্যন্ত আছে। মোট ৯০ নম্বরের পরীক্ষা, ১০ নম্বরের প্রজেক্ট করতে হয়। এমসিকিউ আছে, খুব খুঁটিয়ে প্রশ্ন আসে। সেই কারণে শেষ মুহূর্তে টেস্ট পেপার সলভ করা জরুরি। কারণ, একটা কোনও ফিক্স বই থেকে তো প্রশ্ন আসে না। বিশেষত ইংরাজি মাধ্যম পড়ুয়ারা যদি বাংলা বই দেখে নেয়, তা হলে ভাল হয়। যে টেস্ট পেপার বার হয়, সেগুলিতে অনেক প্রশ্ন থাকে, সেগুলি সলভ করলে ভাল হয়। যেমন বিটন কাপ (Beighton Cup) কোন খেলার জন্য চালু হয়েছিল, এর চারটি অপশন থাকবে, সঠিক উত্তর হবে হকি। ওদের একটি ম্যাপের পয়েন্টিং করার বিষয় থাকে। সেক্ষেত্রে ম্যাপ পয়েন্ট করার মাধ্যমেও কিছু নম্বর পাওয়া সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে শুধু নম্বর (মানে ১, ২) মিলিয়ে দিলেই হবে না, সঠিক উত্তরও লিখতে হবে।

    যেমন ধরা যাক, ভারতের সাংস্কৃতির রাজধানী কোনটি, সেটার উত্তরে শুধু সেই স্থানের নম্বরটি উল্লেখ করলে চলবে না, লিখতে হবে ১.কলকাতা, এভাবে। কারণ শুধু স্পটিং চাওয়া হচ্ছে না, পড়ুয়ারা উত্তরটা জানে কিনা, সেটাও দেখা হচ্ছে। এর পর কিছু একটি বাক্যে উত্তর দেওয়ার প্রশ্ন থাকে, সেটা শুধু একটি বাক্যেই উত্তর দিতে হবে। ছেলে মেয়েদের একটি ঝোঁক থাকে বেশি লেখার। কিন্তু ছোট প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি ব্যয় করলে বড় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় কমে যাবে। এগুলো মাথায় রাখতে হবে।

    আরও পড়ুন - সিলেবাস কম, তাই সবটাই খুঁটিয়ে পড়তে হবে, ভৌত বিজ্ঞান নিয়ে পরামর্শ শিক্ষিকা সৌমিতার

    এ ছাড়া স্তম্ভ মেলাও-এর ক্ষেত্রে, ক ও খ দুটি স্তম্ভ থাকে। অনেকে সেই স্তম্ভ ক্রিস-ক্রস করে মেলাতে চেষ্টা করে। সেটা না করে, আমার পরামর্শ যদি সেটা আবার লিখে দেওয়া হয়। যেমন একটি স্তম্ভের ১-এর সঙ্গে পাশের স্তম্ভের ৩ মিলবে, সে ক্ষেত্রে আলাদা করে একটি ছক কেটে এটিকে মিলিয়ে দিয়ে লিখে দেওয়াই ভাল, সেটাই নিয়ম। ওদের এক্সপ্ল্যানেশন যা যুক্তি দিয়ে লেখার একটি অংশ থাকে। এটিতে অনেক পড়ুয়া কিছু কিছু জিনিস বুঝতে পারে না, তাতে ওদের অনেকটা সময় চলে যায়, বুঝতে না পারায় নম্বরও চলে যায়।

    যেমন ধরুন,

    প্রশ্ন- বঙ্গদর্শনকে নির্ভরযোগ্য উপাদান হিসাবে গ্রহণ করা যায় না। উত্তরে যে অপশন থাকবে, ধরে নেওয়া যায়

    ১. কারণ এটি জমিদারদের পক্ষে লিখত ২. কারণ এটি কৃষকদের পক্ষে লিখত ৩. এই পত্রিকার মতামত স্ববিরোধী ছিল।

    সঠিক উত্তর - এই পত্রিকার মতামত স্ববিরোধী ছিল।

    এর পর তৃতীয় বিভাগ। এক্ষেত্রে তিন নম্বরের প্রশ্নের উত্তরের জন্য দুই-তিন বাক্যে উত্তর লিখতে হয়। এক্ষেত্রে সম্পাদক, বইয়ের নাম, ইত্যাদি মাথায় রাখা দরকার। তেমনই একটি তালিকা তৈরি করে নেওয়া দরকার। যেমন সত্যার্থ প্রকাশ - দয়ানন্দ সরস্বতী, পথের দাবি - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, এমন কয়েকটি তালিকা করে নিলে পড়তে সুবিধা হবে। কয়েকটি পত্রিকার বিষয়ও জানতে হবে। ওদের একটা অধ্যায় আছে আদিবাসী বিদ্রোহ। সেটা যদি একটু মন দিয়ে পড়ে, মানে কোন বিদ্রোহ কবে হয়েছিল, তাদের নেতা, স্থান। এটাও তালিকা করে পড়লে সুবিধা হয়। কারণ, সব বিদ্রোহেরই কারণ কাছাকাছি, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অত্যাচার। যে প্রশ্নই আসুক, পড়ুয়ারা লিখতে পারবে।

    আরও পড়ুন - কোনও প্রশ্ন ছেড়ে আসা নয়, ঠাণ্ডা মাথায় পরীক্ষা দেওয়ার পরামর্শ ভূগোলের শিক্ষিকা অনিন্দিতার

    এ বারের যে গুলি আমার মনে হয় আসতে পারে, যেমন হিন্দু মেলা, বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা, বটতলা সাহিত্য, বনবিভাগের আইন কেন করা হয়েছিল, বেঙ্গল গ্যাজেট ও বেঙ্গল গ্যাজেটি (এটা খুব ভুল করে ছেলে মেয়েরা, মাথায় রাখতে হবে এ দুটি আলাদা) এগুলো ছোট ছোট টিকা হিসাবে পড়তে পারে। টিকা মোট ছটি লিখতে হয়। মোটমুটি নীল বিদ্রোহ, ইলবার্ট বিল আন্দোলন, গোরা উপন্যাসে কী ভাবে জাতীয়তাবাদের প্রকাশ করেছেন রবীন্দ্রনাথ, মুদ্রণ ব্যবস্থার যে প্রগতি বাংলায়, সেটা কেমন, এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

    পরীক্ষার সময় সামগ্রিক যে বিষয়গুলি মাথায় রাখতে হবে

    ১. খাতায় মোটা করে মার্জিন, মাঝে কোনও স্টেপলিং নয়

    ২. বেশি প্রশ্নের জবাব দিতে হবে না, যতটা দরকার, পরপর উত্তর করলেই ভাল।

    ৩. যদি বড় প্রশ্ন লিখতে চায়, তাও পারে। তবে এক একটি গ্রুপ শেষ করে পরের গ্রুপে যেতে হবে।

    ৪. টিকায় সাব হেডিং দিতে হবে। যেমন, সূচনা, কারণ, বিস্তার, ফলাফল

    ৫. দুটো একটা কোটেশন বা উদ্ধৃতি দিতেই পারে।

    ৬. গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আন্ডারলাইন করতে হবে। যে কালিতে লিখছে, সে কালি দিয়েই করলে হবে। (যেমন কবে, কোথায়, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও নাম)

    ৭. সময় ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে আমার পরামর্শ ২৫-৩০ মিনিট এমসিকিউ-এর জন্য। এরপর ২ ও ৩ - এক ঘণ্টার মধ্যে করতে হবে। ১৫ মিনিট করে টিকা লিখতে নেবে। আর আধঘণ্টা বড় রচনার জন্য রাখতে হবে।

    ৮. সময় শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগে খাতা বাঁধতে হবে।

    ৯. কাগজে নম্বর দিতে, প্রতি পাতায় রোল নম্বর লিখতে হবে।

    Published by:Uddalak B
    First published:

    Tags: Board Exams 2022

    পরবর্তী খবর