Mamata Banerjee: স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের সূচনা করলেন মমতা, কী শর্ত, কত দিনের জন্য ঋণ?

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের সূচনায় মমতা৷

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে (Student credit card) কী কী সুিবধে, কী শর্তে ঋণ পাওয়া যাবে, তাও বিশদে ব্যাখ্যা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)৷

  • Share this:

#কলকাতা: প্রতিশ্রুতি মতোই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এ দিন নবান্ন থেকে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, উচ্চশিক্ষার জন্য ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পাবেন ছাত্রছাত্রীরা৷ সর্বোচ্চ ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত এই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণের আবেদন করা যাবে৷

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে কী কী সুিবধে, কী শর্তে ঋণ পাওয়া যাবে, তাও বিশদে ব্যাখ্যা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, 'সরকার ক্ষমতায় এলে আমরা এটা করব বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম৷ সারা বিশ্বে এত বড় প্রকল্প এই প্রথম৷ কথা রাখাটাই আমাদের কথা৷ কথা রাখাটাই আমাদের কাজ৷ দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা ঋণ নিতে পারবে৷ এর জন্য কোনও গ্যারান্টার লাগবে না৷ রাজ্য সরকারই গ্যারান্টার থাকবে৷'

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা উত্তীর্ণ হওয়ার পরই এই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবে৷ এর পর স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ডিপ্লোমা, গবেষণার জন্য এই ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণ পাওয়া যাবে৷ এমন কি, বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আইএএস, আইপিএস, ডব্লিউবিসিএস -এর মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যাঁরা, তাঁরাও এই ঋণ নিতে পারবেন৷ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলায় বসবাসকারী যে কোনও ভারতীয় ছাত্রছাত্রী এই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন৷ রাজ্য, রাজ্যের বাইরে এমন কি বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্যও এই ঋণ কাজে লাগানো যাবে৷

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোর্স ফি, টিউশন ফি, হোস্টেল ফি, কম্পিউটার- ল্যাপটপ কেনার খরচের জন্যও এই প্রকল্প থেকে ঋণ পাওয়া যাবে৷

সর্বোচ্চ চল্লিশ বছর বয়স পর্যন্ত স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের আবেদন করা যাবে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমরা ইচ্ছে করেই চল্লিশ বছর পর্যন্ত বয়সসীমা রেখেছি৷ কারণ অর্থের অভাবে অনেকেই পড়াশোনা শেষ করতে পারে না৷ অনেকে আবার চাকরি করতে করতেও উচ্চশিক্ষার জন্যও পড়াশোনা করে৷ তাদেরকে সুযোগ করে দিতেই এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷' ঋণ নিয়ে যাতে শোধ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পান আবেদনকারীরা, সেই কারণে ঋণ শোধের মেয়াদ ১৫ বছর রাখা হয়েছে৷

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'বাবা মায়েদের আর কোনও চিন্তা থাকবে না, বাচ্চাদের মন খারাপ করে ঘুরে বেড়াতে হবে না৷ ঋণ পাওয়ার জন্য জুতোর শুকতলা খুইয়ে যাবে না৷ ছাত্রছাত্রীদের বলব টাকা পয়সার কথা না ভেবে মন দিয়ে পড়াশোনা করো৷ বাবা মায়েদেরও বলব চিন্তা করবেন না৷ আপনাদের স্বপ্নপূরণ হবেই৷ আপনাদের ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে আপনাদের মুখ উজ্জ্বল করবে৷ ' মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোনও আবেদনকারী চাইলে একবারেই ১০ লক্ষ টাকা ঋণ পাবেন৷ আবার চাইলে ধাপে ধাপে প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে৷

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শিক্ষা দফতরের ওয়েবসাইটে অনলাইনে এই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের আবেদন করা যাবে৷ সাধারণ ব্যাঙ্ক ছাড়াও কো অপারেটিভ ব্যাঙ্কের মাধ্যমে এই ঋণ পাওয়া যাবে৷ তবে ভ্যাকসিন কাণ্ডের উদাহরণ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষাসচিব সহ সরকারি আধিকারিক এবং ব্যাঙ্কগুলিকেও সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, এই ক্রেডিট কার্ডের নামে যাতে কোনওরকম প্রতারণা না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে৷ ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদেরও সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'কোনও জালিয়াতের খপ্পরে পড়বেন না৷'

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই নবম শ্রেণির আরও ১২ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে সবুজ সাথী প্রকল্পে সাইকেল দেওয়া হবে৷ এর পাশাপাশি 'তরুণের স্বপ্ন' প্রকল্পে দ্বাদশ শ্রেণির ৮ লক্ষ ৭৬ হাজার পড়ুয়াকে ট্যাব কিনতে দশ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে৷ একাদশ শ্রেণিতে এখন যারা পড়ছে, তারা দ্বাদশ শ্রেণিতে উঠলে আরও প্রায় ৯ লক্ষ পড়ুয়াকে ট্যাব কেনার টাকা দেওয়া হবে৷

Published by:Debamoy Ghosh
First published: