করোনার কাছে হারল প্রেতাত্মা! ভয় সরিয়ে 'ভূত গ্রাম'ই আদর্শ কোয়ারেন্টাইন সেন্টার

ভূত গ্রাম (সংগৃহীত ছবি)

প্রথম থেকেই করোনা যুদ্ধে তাই নজির সৃষ্টি করেছে পাউরি জেলা প্রশাসন। তাঁরা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার বানিয়ে ফেলেছেন গ্রামে । ভিনরাজ্য থেকে আসা পরিযায়ীদের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলিতে রেখে সংক্রমণ রোখার যুদ্ধ জারি ।

  • Share this:

    #দেরাদুনঃ দিনের বেলা যে গ্রামে মানুষ যেতে ভয় পায়, সেই ভূতের গ্রামই এখন উত্তরাখণ্ডের কোয়ারেন্টাইন সেন্টার । শুনেই চোখ কপালে উঠছে তো ! ভাবছেন, তেনারা নিশ্চয় নেমে আসছেন সন্ধ্যা হলেই ! তা যাই হোক, জনমানবশূন্য এই গ্রাম যে করোনা চিকিৎসার আদর্শ কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হয়ে উঠেছে, তা বলার অপেক্ষা নেই ।

    গ্রামে কর্ম সংস্থান নেই । পাহাড়ি এলাকায় কৃষিকাজ ভাল হয় না। তাই গত কয়েক বছর ধরেই উত্তরাখণ্ডের পাউরি জেলার পাহাড়ি গ্রামগুলি থেকে বাসিন্দারা শহরে চলে গিয়েছেন । জীবনযাত্রার তাগিদে একপ্রকার বাধ্য হয়েই গ্রাম ছেড়েছেন। ফলে আস্তে আস্তে মানবশূন্য হয়েছে গ্রাম। এমনকি অবস্থা এমনই সেগুলি 'ভূতের গ্রাম'  নামে পরিচিত হয়ে গিয়েছে । ফলে দিনের বেলাতেও গ্রামে পা রাখেন না আশপাশের মানুষ । ছবির মত প্রকৃতি সাজান পাহাড়ি গ্রামে আসেন না পর্যটক । গ্রামের নাম শুনলেই তেনাদের কথা মনে পড়ে, আর ধারে ঘেঁষেন না কেউ ।

    আর সেটাই শাপে বর হয়েছে উত্তরাখণ্ড প্রশাসনের কাছে । প্রথম থেকেই করোনা যুদ্ধে তাই নজির সৃষ্টি করেছে পাউরি জেলা প্রশাসন। তাঁরা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার বানিয়ে ফেলেছেন গ্রামে । ভিনরাজ্য থেকে আসা পরিযায়ীদের  কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলিতে রেখে সংক্রমণ রোখার যুদ্ধ জারি । এ প্রসঙ্গে পাউরি জেলার রিখনিকাল ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক এসপি থালিয়াল বলেন, ‘বহু পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি ফিরছেন । তাঁদের কোয়ারেন্টাইন সেন্টার রাখার ক্ষেত্রে জনমানববর্জিত ওই গ্রামগুলি কাজে আসছে । তবে সাধারণ বাসিন্দাদের ছেড়ে যাওয়া বাড়িগুলি এখনও ব্যবহার করার দরকার হয়নি । গ্রামগুলিতে থাকা পঞ্চায়েত ভবন ও স্কুলগুলিতেই প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খোলা হয়েছে । এখনও পর্যন্ত ৫৭৬ জন ভিনরাজ্যে থেকে আসা মানুষ কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলিতে রাখা রয়েছেন ।’ প্রসঙ্গত, ১৩ মে পর্যন্ত ভিনরাজ্য থেকে ১৯,৮৪৬ জন মানুষ পাউরি জেলার ১০৪৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ফিরেছেন ।

    Published by:Shubhagata Dey
    First published: