Coronavirus: দেশে কি ভ্যাকসিন সঙ্কট? টিকার অভাব একাধিক রাজ্য়ে, অভিযোগ খারিজ করল কেন্দ্র

Coronavirus: দেশে কি ভ্যাকসিন সঙ্কট? টিকার অভাব একাধিক রাজ্য়ে, অভিযোগ খারিজ করল কেন্দ্র

প্রতীকী ছবি৷

  • Share this:

    #দিল্লি: দেশে আছড়ে পড়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ৷ প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা৷ আর এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে ভ্যাকসিনের ঘাটতির অভিযোগ৷ বিরোধী শাসিত বেশ কয়েকটি রাজ্যের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় তাদের হাতে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন নেই৷ ফলে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ভ্যাকসিনের সঙ্কট তৈরি হচ্ছে ভারতে?

    যদিও এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন৷ তাঁর দাবি, ভারতের হাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক ভ্যাকসিন রয়েছে৷ ভবিষ্যতে কোনও রাজ্যেই ভ্যাকসিনের অভাব হবে না৷ এই সংক্রান্ত সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী৷

    তবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী যাই বলুন না কেন, পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন না থাকার অভিযোগে সরব হয়েছে একাধিক রাজ্য৷ সবথেকে খারাপ অবস্থা মহারাষ্ট্রের৷ কারণ দেশের মোট সক্রিয় রোগীর ৫৬ শতাংশেরও বেশি রয়েছে এই রাজ্যে৷ অথচ মহারাষ্ট্রের হাতে এই মুহূর্তে যে সংখ্যক ভ্যাকসিন রয়েছে, তাতে আর তিন দিন হয়তো টিকাকরণের কাজ চালানো যাবে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ টোপে৷ মহারাষ্ট্রে এখনও পর্যন্ত ৮৬ লক্ষের কাছাকাছি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে৷ দৈনিক সেখানে ৪ লক্ষ মানুষকে টিকা দেওয়া হচ্ছে৷ অথচ বুধবার সকালের হিসেব অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের হাতে ১৪ লক্ষ ভ্যাকসিন রয়েছে৷ এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৬ লক্ষ ভ্যাকসিনের ডোজ পেয়েছে মহারাষ্ট্র৷

    মহারাষ্ট্রে মোট ৩ শতাংশ ভ্যাকসিন নষ্ট হয়েছে৷ টিকার চাহিদার কথা মাথায় রেখে প্রতি সপ্তাহে ৪০ লক্ষ ডোজ ভ্যাকসিনের দাবি জানিয়েছে মহারাষ্ট্র৷ রাজ্য সরকারের অভিযোগ, ভ্যাকসিনের সরবরাহের গতি অত্যন্ত শ্লথ৷

    যদিও মহারাষ্ট্র সরকারের এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন হর্ষ বর্ধন৷ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পাল্টা অভিযোগ, রাজ্যে অতিমারি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েই মানুষের নজর ঘোরাতে এই ধরনের অভিযোগ করছে উদ্ধব ঠাকরে সরকার৷

    তবে শুধু মহারাষ্ট্র নয়, আক্রান্তের নিরিখে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ছত্তীসগড়েরও অভিযোগ, গত সোমবারই তাদের হাতে থাকা ভ্যাকসিনের স্টক প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল৷ কারণ দৈনিক ২ লক্ষ মানুষকে টিকা দেওয়া হচ্ছে ছত্তীসগড়ে, অথচ সোমবার রাজ্য সরকারের হাতে মোট ২ লক্ষ ভ্যাকসিনই ছিল৷ রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী টি এস সিং দেও-র অভিযোগ, কেন্দ্রের তরফে ভ্যাকসিনের সরবরাহ অনিয়মিত ভাবে হচ্ছে৷

    দক্ষিণের রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশ অবিলম্বে ১ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন পাঠানোর দাবি জানিয়েছে৷ কারণ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী অন্ধ্র সরকারের হাতে ৩.৭ লক্ষ ডোজ ভ্যাকসিন রয়েছে, অথচ দৈনিক ১.৩ লক্ষ মানুষকে ভ্যাকসিন দিচ্ছে তারা৷ নেল্লোর, পশ্চিম গোদাভরীর মতো জেলায় ইতিমধ্যেই ভ্যাকসিন শেষ হয়ে গিয়েছে, রাজ্যের বাকি অংশেও খুব বেশি হলে আর তিন দিন মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হবে৷

    ওড়িশার সরকারের তরফেও অবিলম্বে কেন্দ্রের কাছে ১৫ থেকে ২০ লক্ষ ভ্যাকসিনের ডোজ চেয়ে পাঠানো হয়েছে৷ কারণ তাদের হাতে যে সংখ্যক ভ্যাকসিন রয়েছে, তাতে আর তিন দিন চলবে৷ তেলেঙ্গানার পরিস্থিতিও একই রকম বলে জানিয়েছেন সেখানকার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়েতালা রাজেন্দার৷

    কেন্দ্র অবশ্য এই সমস্ত অভিযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে না৷ গত শনিবারও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ট্যুইট করে দাবি করেছিলেন দেশে ভ্যাকসিনের ঘাটতি নেই৷ গত মাসে রাজস্থান সরকার একই ধরনের অভিযোগ করলেও তা তথ্য পরিসংখ্যান দিয়ে খারিজ করে দিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রক৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: