নিজেদের জীবনের পরোয়া নেই, করোনা আক্রান্তদের সেবায় এই যুবকদল, চিনুন তাঁদের

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্য হিসাবে বীরভূমের সিউড়িতে কোভিড কেয়ার নেটওয়ার্কের অক্সিজেন অন হুইলসে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে যুক্ত করা হয়েছে সৌভিককে।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্য হিসাবে বীরভূমের সিউড়িতে কোভিড কেয়ার নেটওয়ার্কের অক্সিজেন অন হুইলসে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে যুক্ত করা হয়েছে সৌভিককে।

  • Share this:

#বীরভূম: কয়েকদিন আগেও যখন দিনের পর দিন যখন করোনার গ্রাফ বেড়ে চলেছিল বীরভূমে (COVI19 Birbhum), তখনই ভয় বাদ দিয়ে মনের মধ্যে ইচ্ছা জেগেছিল মানুষকে সাহায্য করার। করোনা প্রথম ঢেউ সামলে তখন দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তে শুরু করেছিল। কিন্তু থেকেও থাকেনি ওরা। করোনায় প্রথম থেকেই মানুষের সেবা করবে বলে নাছোড়বান্দা ছিল এই নবীন প্রজন্মের যুবকরা। এরা হলেন সৌভিক দাস বৈরাগ্য। বর্তমানে উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচার ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র। গতবছর করোনার সময় থেকেই মানুষের পাশে থাকার জন্য উদগ্রীব ছিলেন। কয়েক সপ্তাহ আগেই যখন অক্সিজেনের সঙ্কটের সময় বীরভূমে অক্সিজেন অন হুইল (Oxygen on Wheels) পরিসেবা চালু হয়, তখন তাদের সাথে থেকে মানুষকে সাহায্য করার জন্য  দাবি জানান তিনি৷ বারবার অনুরোধ জানাতে থাকেন কোভিড কেয়ার নেটওয়ার্কের সদস্যদের। বারবার একটাই অনুরোধ "স্যার আমাকে সঙ্গে নিন, এই অতিমারীর সময় আপনাদের সঙ্গে কিছু করতে চাই।"  কিন্তু ২০২০ সালে তার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা থাকায় তাকে সঙ্গে নেওয়া সম্ভব হয়নি৷ ২০২১-এ এই  দ্বিতীয় ঢেউ আসা মাত্রই আবার তাঁর একই  দাবি সামনে আসে৷ তবে এবারে তিনি স্বার্থক।  শেষ অবধি পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্য হিসাবে বীরভূমের সিউড়িতে কোভিড কেয়ার নেটওয়ার্কের অক্সিজেন অন হুইলসে  স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে যুক্ত করা হয়েছে সৌভিককে।

তাঁর সাথে আছে সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজের ফাইনাল বর্ষের ছাত্ৰ সৌম্যকান্তি আচার্য। তিনি দিল্লি ক্যাডেট, এন.সি.সি র সাথেও যুক্ত । অক্সিজেন  অন হুইলসে প্রথম দিন থেকে যৌথ ও একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা। শুধু এই দুই দৃষ্টান্তই নয় অর্ক কর, দেবাশিস মন্ডল  সহ আরও অনেক নবীন প্রজন্মরা অক্সিজেন অন হুইলসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে কোভিড আক্রান্তদের। এই আগামী ভবিষ্যতরা কোনও রকম প্রচার ছাড়া যেভাবে  ঝাঁপিয়ে পড়েছে তাতে প্রশংসার সব ভাষায় কম পরে । এরা প্রচুর করোনা আক্রান্ত মানুষকে দিনরাত এক করে সাহায্য করে চলেছেন। কারও যখন অক্সিজেন লেভেল কমেছে,  ফোন আসা মাত্রই অক্সিজেন কন্সেন্ট্রেশন নিয়ে রওনা দিয়েছেন তার কাছে৷ রাত জেগে অক্সিজেন দিয়ে লেভেল ঠিক না হওয়া পর্যন্ত দু’চোখের পাতা এক করেনি এরা। সত্যিই এদের কুর্ণিশ জানাতে হয়৷

Published by:Suman Majumder
First published: