corona virus btn
corona virus btn
Loading

Exclusive: ‘রাজ্য চায় পুরনো অ্যাডভাইজারি মেনেই হোক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা’, UGC-কে চিঠি দিয়ে গাইডলাইন পুনর্বিবেচনার আর্জি

Exclusive: ‘রাজ্য চায় পুরনো অ্যাডভাইজারি মেনেই হোক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা’, UGC-কে চিঠি দিয়ে গাইডলাইন পুনর্বিবেচনার আর্জি
শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়

শুধু তাই নয় চিঠি পাঠিয়ে ইউজিসিকে কার্যত প্রশ্ন তোলা হয়েছে যেখানে শিক্ষা যুগ্ম তালিকার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সেখানে ইউজিসি কিভাবে একতরফাভাবে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল?

  • Share this:

#কলকাতা: শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন পরীক্ষা নিয়ে ইউজিসির তরফে নয়া গাইডলাইন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে। অন্তত মঙ্গলবার এমনটাই জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই খানিকটা অবস্থান বদল করে ইউজিসিকে তাদের তরফে দেওয়া নয়া গাইডলাইন নিয়ে চিঠি পাঠাল  রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতর।

বৃহস্পতিবার উচ্চ শিক্ষা দফতর চিঠি পাঠিয়ে ইউজিসি-কে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল রাজ্য তার পুরনো অ্যাডভাইজারি মেনেই বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের মূল্যায়ন করতে চায়। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এদিন বলেন, ‘ছাত্রদের ব্যাপারে আমাদের যা সিদ্ধান্ত আমরা তা জানিয়ে দিয়েছি ইউজিসি-কে। আমাদের অবস্থান সম্পর্কে চিঠিতে আমরা সব জানিয়েছি ।’

শুধু তাই নয় চিঠি পাঠিয়ে ইউজিসিকে কার্যত প্রশ্ন তোলা হয়েছে যেখানে শিক্ষা যুগ্ম তালিকার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সেখানে ইউজিসি কিভাবে একতরফাভাবে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল? শুধু তাই নয় একদিকে যখন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমশ বেড়ে চলেছে সে দিক থেকে আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের কিভাবে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব তা নিয়েও চিঠিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতরের তরফে।

ইউজিসিকে তাই রাজ্যের তরফে চিঠি পাঠিয়ে নয়া গাইডলাইনের পুনর্বিবেচনা করার আর্জি ও রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার রাজ্যের অধীনস্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কিভাবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা নেওয়া হবে তা নিয়ে অ্যাডভাইজারি পাঠানোর পর বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে পরীক্ষা নিয়ে। ছাত্র ছাত্রী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য রাজ্যের অ্যাডভাইজারিকে স্বাগত ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই জায়গায় দাঁড়িয়ে কিভাবে ইউসিসির গাইডলাইনকে কার্যকরী করা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

গত সপ্তাহেই রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতর বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে কিভাবে চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের মূল্যায়ন করা হবে তা নিয়ে অ্যাডভাইজারি দেয়। মূলত পরীক্ষা বাতিল করে অ্যাডভাইজারিতে বলা হয় চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের মূল্যায়নের ৮০% হবে আগে হয়ে যাওয়া সেমিস্টার পরীক্ষার মধ্য থেকে সবথেকে বেশি নম্বর পাওয়া পরীক্ষার নম্বর দেওয়া হবে ও বাকি ২০ শতাংশ নম্বর দেওয়া হবে ইন্টার্নাল অ্যাসেসমেন্ট ওই বছরের নিরিখে। অর্থাৎ এই ফাইনাল সেমিস্টারের ছাত্র ছাত্রীরা লোকজন এর আগে পর্যন্ত যতগুলো ইন্টার্নাল অ্যাসেসমেন্ট এর পরীক্ষা দিয়েছে তার নিরিখেই এই কুড়ি শতাংশ ইন্টার্নাল অ্যাসেসমেন্ট এর নম্বর দেওয়া হবে বলেই উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। এর পাশাপাশি যারা এই নম্বরে সন্তুষ্ট থাকবেন না তাদের কোন ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি ঠিক হয়ে গেলে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও অ্যাডভাইজারিতে জানানো হয়েছিল।যদিও যারা আগের বছর অকৃতকার্য থাকবেন কোন বিষয়ে তাদের আগের সেমিস্টার গুলিতে পাওয়া সবথেকে বেশি পেপারের নম্বরকে দিয়ে পাস করানো হবে। রাজ্য সরকারের তরফে দেওয়া এই অ্যাডভাইজারি মেনে ইতিমধ্যেই কলকাতা, যাদবপুর,প্রেসিডেন্সি সহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় নির্দেশিকা জারি করেছে। শুধু তাই নয় ৩১ শে জুলাই এর মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে এই মর্মে ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে অ্যাডভাইজারি পাঠানো হয় রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের তরফে।সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় গুলি ইতিমধ্যেই ফল প্রকাশের প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছে।

এদিকে তারই মধ্যে গত সোমবার পরীক্ষা নেওয়া যাবে বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অনুমতি পাওয়ার পর পর ইউজিসি তরফে গাইডলাইন জারি করা হয়। গাইডলাইনে জানানো হয় সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে মধ্যেই চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা নিতে হবে। অনলাইন বা অফলাইনে অথবা অনলাইন ও অফলাইন এই তিনটি মাধ্যমের মধ্যে যেকোনো একটি মাধ্যম দাড়াই ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা নিতে হবে। যদি কেউ এই সময়ের মধ্যে পরীক্ষা না দিতে পারে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একটি সুযোগ দিতে হবে ওই ছাত্র-ছাত্রীদের আবারো পরীক্ষা দেওয়ার জন্য।

ইউজিসির তরফে এই গাইডলাইন জারি হওয়ার পর পর ইতিমধ্যেই কয়েকটি রাজ্য তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছে। পাঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান,তামিলনাড়ুর মত রাজ্যগুলি চিঠি পাঠিয়ে আপত্তির কথা জানিয়েছে ইউজিসিকে। এবার বৃহস্পতিবার নয়া গাইডলাইন নিয়ে আপত্তির কথা জানিয়ে রাজ্য চিঠি পাঠাল ইউজিসিকে।

উচ্চশিক্ষা দফতর সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার রাতেই গাইডলাইন জারি করার পর পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সংগঠনদের মতামত নেওয়া হয় উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের তরফে। উপাচার্য অধ্যাপক সংগঠন রাজ্যের প্রস্তাবিত অ্যাডভাইজারি কেই মেনে চলার কথা জানিয়েছেন বলি উচ্চশিক্ষা দফতর সূত্রে খবর। ইউজিসিকে পাঠানো চিঠিতে এই মতামত নেওয়ার কথা গুলি উল্লেখ করা হয়েছে বলেই উচ্চশিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।

Somraj Bandopadhyay

Published by: Elina Datta
First published: July 9, 2020, 4:48 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर