corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউন ! এই দেশে চাকরি হারালেন ৯ লাখ মানুষ

লকডাউন ! এই দেশে চাকরি হারালেন ৯ লাখ মানুষ

শিরদাঁড়ায় কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার মতো আরও একটি তথ্য ৷

  • Share this:

#মাদ্রিদ: করোনা ভাইরাসের মারণ থাবায় বিধ্বস্ত স্পেন ৷ হু হু করে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা ৷ রোজই মৃত্যুর সংখ্যায় নিজেই রেকর্ড ভাঙছে স্পেন ৷ তারই মাঝে সামনে এল শিরদাঁড়ায় কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার মতো আরও একটি তথ্য ৷ করোনা ভাইরাস ঠেকাতে দেশে লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে চাকরি হারিয়ে বেকার প্রায় ৯ লাখ মানুষ ৷ এই বেহাল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে হতে সংখ্যাটা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা ৷

অতিমারি কোভিড ১৯ সংক্রমণ স্পেনে ভয়ঙ্কর রূপ ধরেছে ৷ এই সংক্রমণ আটকাতেই মার্চের মাঝামাঝি থেকে গোটা স্পেন লকডাউন-এ চলে যায় ৷ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সোশ্যাল সিকিওরিটি ডেটা অনুযায়ী, মার্চ মাস থেকেই ৯ লাখ মানুষ নিজেদের রুজি রোজগার হারিয়েছেন ৷ এই বিপুল সংখ্যক সদ্য বেকার মানুষের অর্ধেকের বেশি ছিলেন অস্থায়ী কর্মী ৷

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসের ১৪ তারিখের পর থেকে স্পেনের ৮৯৮,৮২২ জন মানুষের কাজ চলে গিয়েছে ৷ এর মধ্যে ৫৫০,০০০ জন অস্থায়ী কর্মী ৷ কনস্ট্রাকশন এবং ভ্রমণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা সবথেকে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ৷ স্পেনের ট্রান্সপোর্ট মিনিস্টার জোস লুইস অ্যাবলস বলেন, ‘আমাদের কাছে এটা এখন দ্বিগুণ বড় চ্যালেঞ্জ ৷ একদিকে এই অতিমারিকে রুখতে হবে অন্যদিকে অর্থনীতি যাতে থমকে না পড়ে, তাও দেখতে হবে ৷’ একইসঙ্গে তিনি আশ্বস্তও করেছেন যে, ‘একবার এই অতিমারিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই অর্থনীতিকে পুরনো অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ শুরু করে দেব ৷’

স্পেনের সরকারি হিসেব বলছে, এই মার্চে দেশে বেকারত্ব বেড়ে ৩.৫ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে ৷ ২০১৭ সালের এপ্রিলের পর থেকে বেকারত্বের এই হার সর্বোচ্চ ৷ দেশের এত মানুষের রুজি-রোজগার নেই, এমন ঘটনা দেশে এই প্রথম ৷ উল্লেখ্য, শেষ ৬ মাসের মধ্যে চাকরি পেয়ে এই লকডাউনে রোজগার হারানো মানুষের সংখ্যা উপরোক্ত পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ এই সমস্ত মানুষেরা এখনও সরকারিভাবে কর্মী হিসেবে নথিভুক্ত হননি ৷

এক মাসে বেকারত্বের সংখ্যার এমন বৃদ্ধি দেখে হতাশ দেশের শ্রমমন্ত্রী ইওলান্ডা দিয়াজ ৷ উদ্বেগের কথা এখানেই শেষ নয় ৷ করোনা ভাইরাস লকডাউনের কারণে গাড়ি তৈরির মতো বেশ কিছু ক্ষেত্রের বড় বড় কোম্পানি অস্থায়ীভাবে বা আপাত তাদের বেশ কিছু কর্মীকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কাজে আসতে বারণ করেছে ৷ বলতে গেলে অস্থায়ী ছাঁটাই ৷ এই বিপুল সংখ্যক কর্মী সরকারি হিসেবে দেখানো ৯ লক্ষ সদ্য বেকার কর্মীদের মধ্যে পরিগণিত নন ৷ এই কর্মীদের আদৌ কাজে কখনও ফেরানো হবে কিনা তা কেউই বলতে পারছেন না ৷ লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্থ হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও বার ব্যবসা ৷ সপ্তাহের পর সপ্তাহ ঝাঁপ বন্ধ থাকায় সেখানকার কর্মীদেরও ভবিষ্যত অনিশ্চিত ৷

পরিসংখ্যান বলছে, করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যায় ইতালির পরেই স্পেনের স্থান ৷ গত ২৪ ঘণ্টায় স্পেনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও ৯২৩ জনের প্রাণ গিয়েছে ৷ এখনও পর্যন্ত গোটা দেশে দেশটিতে করোনাভাইরাসে মোট ৯ হাজার ৩৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মার্চ মাসের ১৪ তারিখ থেকেই জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা ছাড়া গৃহবন্দি স্পেন ৷ তবুও গোটা দেশে মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এই মারণ সংক্রমণ ৷ সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, এই সপ্তাহ থেকে আরও কড়া হতে চলেছে লকডাউন ব্যান ৷

উল্লেখ্য, অন্যান্য বছর এই মার্চ-এপ্রিল মাস স্পেনের চাকুরিজীবীদের জন্য আদর্শ ৷ এসময় ছুটির সিজন চলায় অনেকে স্থায়ী কাজের পাশাপাশি মাস কয়েকের জন্য পার্টটাইম জবও করে ৷ মূলত হসপিটালিটি ক্ষেত্রে এসময় কর্মীর চাহিদা তুঙ্গে থাকে ৷ তাই অন্য অনেক পেশার কর্মীরা অনেক সময় বাড়তি রোজগারের লক্ষ্যে এসময় অস্থায়ী ভাবে হসপিটালিটি সেক্টরে কাজ করে ৷

Published by: Elina Datta
First published: April 2, 2020, 7:21 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर