বয়স ৪৫ হলেই মিলবে 'ওয়াক ইন ভ্যাকসিনেশন', কলকাতা পুরসভার নতুন ঘোষণা

কলকাতা পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম বলেন, যারা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা(corona vaccine) নিতে চান না তাদের জন্য রয়েছে কলকাতা পুরসভার বিশেষ কেন্দ্র।

কলকাতা পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম বলেন, যারা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা(corona vaccine) নিতে চান না তাদের জন্য রয়েছে কলকাতা পুরসভার বিশেষ কেন্দ্র।

  • Share this:

#কলকাতা: কলকাতা পুরসভার নতুন ঘোষণা(Kolkata Corporation Vaccine Drive)। এবার থেকে ৪৫ বছর হলেই "ওয়াক ইন ভ্যাকসিনেশন"। এতদিন ৬০ বছরের সিনিয়র সিটিজেনরাই এই সুবিধা পেতেন। আধার কার্ড হাতে নিয়ে ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সের ব্যক্তিরা পুরসভার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেলেই এবার মিলবে টিকা।

বৃহস্পতিবার থেকে ফের কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে টিকাকরণ শুরু (COVID19 Vaccine)। বুধবার সারা কলকাতাজুড়ে কোভিড টিকাকরণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন না মেলাতেই বন্ধ রাখতে হয়েছিল টিকাকরণ কর্মসূচি। পর্যাপ্ত না হলেও কিছু মিলেছে, তাই টিকাকরণ ফের শুরু করল কলকাতা পুরসভা।

বুধবার কোভিড টিকাকরণ সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত জানান কলকাতা পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম । তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা না পাওয়া সত্ত্বেও কলকাতা শহর ভারতবর্ষের অন্যান্য শহরের থেকে টিকাকরণ কর্মসূচিতে অনেক এগিয়ে। মঙ্গলবার পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় টিকার সংস্থান করতে না পারায় কর্মসূচি বন্ধ রাখতে হয় একদিনের জন্য। কিছু টিকা মেলায় বৃহস্পতিবার থেকে ফের কর্মসূচি চলবে বলে জানান ফিরহাদ।

কলকাতা পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতীন ঘোষ বলেন, এবার থেকে কলকাতা পুরসভার ১৪৪ টি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের টিকাকরণ কেন্দ্রে গেলে ৪৫ বছর বা তার উর্ধ্বে সমস্ত ব্যক্তিরা টিকা পাবেন। এতদিন ৬০ বছর বা তার উর্ধ্বে ব্যক্তিদের আমরা এই কর্মসূচির আওতায় এনেছিলাম। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে যে পরিমাণ ভ্যাকসিন মিলবে সেই অনুপাতে টিকাকরণ কর্মসূচি চলবে।

প্রথম টিকাকরণের পাশাপাশি দ্বিতীয় পর্যায়ের টিকা করণের জন্য কোভিশিল্ড এবং কো-ভ্যাকসিন যে কেন্দ্রগুলো থেকে দেওয়া হচ্ছিল সে রকমই দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই যারা মোবাইলে বুকিং করেছেন তারা সেই কেন্দ্র থেকেই যথাসময়ে টিকা পাবেন।

পুরসভা সূত্রে আরও জানা গেছে, পুরসভার স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলো থেকে সুপার স্পেডারদের আর টিকাকরণ করা হবে না। সুপার স্প্রেডারদের জন্য নির্দিষ্ট ১৮ টি মেগা সেন্টার থেকেই তাদের টিকাকরণ করা হবে। ফিরহাদ হাকিম আরও জানান বর্তমানে আঠারোটি মেগা সেন্টার থেকে এই টিকাকরণ করা হলেও সুপার স্পেডারদের জন্য মেগা সেন্টার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে কলকাতা পৌরসভার।

কলকাতা পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম বলেন, যারা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নিতে চান না তাদের জন্য রয়েছে কলকাতা পুরসভার বিশেষ কেন্দ্র। সেখানে মোবাইল নম্বরে শ্লট বুকিং করেও তারা যেতে পারেন। বিধান শিশু উদ্যান, উল্টোডাঙ্গা এবং কলকাতা পুরসভার পাশে রক্সি সিনেমা হল এবং দক্ষিণ কলকাতার সাউথ সিটিতে তিনটি বিশেষ কেন্দ্র এবং পার্কসার্কাস এর একটি মলে ড্রাইভ ইন ভ্যাক্সিনেশন সেন্টার করা হয়েছে। এই চারটি কেন্দ্র থেকে মোবাইলে স্মার্ট বুকিং করে টিকা নিতে পারেন সাধারণ মানুষ।

ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কোবিডের টিকা নেওয়াকে কেন্দ্র করে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে । এই টিকা নিলে দু'বছরের মধ্যে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী হলেও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। মিম ছড়ানো হচ্ছে এই টিকা গ্রহণ যারা করছেন তাদের বন্ধ্যাত্ব হয়ে যেতে পারে বলে। এসব গুজব ছড়াচ্ছেন তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক মন্ডলের চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম জানান ইতিমধ্যেই তিনি কলকাতা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছেন৷ কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ যথোপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন। শহরবাসীকে হাতজোড় করে অনুরোধ করেছেন ফিরহাদ হাকিম, আমি নিজে প্রথম ট্রায়াল' দিয়েছি এই টিকা নিয়ে। যারা এসব রটাচ্ছেন তারা মূর্খ ছাড়া আর কিছু নয়। টিকাকরণ কর্মসূচিকে এভাবে বানচাল না করতে নাগরিকদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন পুর প্রশাসক।

Published by:Pooja Basu
First published: