পর্দায় নয়, বাস্তবেই নায়কোচিত পদক্ষেপ অভিনেতা যিশুর! বন্ধু ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তকে সঙ্গে নিয়ে শহরেই বানালেন সেফ হোম

সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার লেক মার্কেটের কাছে অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত (Jisshu U Sengupta) ও পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর (Indraadip Das Gupta) উদ্যোগে করোনা রোগীদের জন্য একটি সেফ হোম খোলা হয়েছে।

সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার লেক মার্কেটের কাছে অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত (Jisshu U Sengupta) ও পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর (Indraadip Das Gupta) উদ্যোগে করোনা রোগীদের জন্য একটি সেফ হোম খোলা হয়েছে।

  • Share this:

#কলকাতা: করোনা অতিমারিতে সারা দেশ যখন বিপর্যস্ত, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর পাশাপাশি সেলিব্রিটিরাও এগিয়ে আসছেন মানুষের পাশে দাঁড়াতে। সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার লেক মার্কেটের কাছে অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত (Jisshu U Sengupta) ও পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর (Indraadip Das Gupta) উদ্যোগে করোনা রোগীদের জন্য একটি সেফ হোম খোলা হয়েছে।

এই উদ্যোগে অনেক সমমনস্ক মানুষকেই তাঁরা পাশে পেয়েছেন। যে সমস্ত কোভিড রোগীদের মৃদু উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তাঁরা এই সেফ হোমে থাকতে পারবেন। এখানে চিকিৎসার পরিষেবা ছাড়াও অক্সিজেন ও খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বিনামূল্যেই। ২০টি বেড নিয়ে এই সেফ হোম শুরু হলেও আগামীতে আরও বেড বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

এই বিষয়ে অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত সংবাদমাধ্যমকে জানান, “এই দুঃসময়ে একজন মানুষ হিসাবে আমার যা করা উচিত আমি তাই করছি। এই সেফ হোমের ধারণাটা আমার হলেও দেবলীনা কুমারের বাবা দেবাশিসদার (কুমার) সহায়তা ছাড়া এটি সম্ভব হত না। যখন সংক্রমণ বাড়ছিল এবং লোকেরা অসহায়ভাবে বেড আর অক্সিজেন খুঁজছিলেন, তখন ইন্দ্রদীপ এবং আমি কোভিড-আক্রান্ত পরিবারগুলোর জন্য কিছু একটা করার কথা ভেবেছিলাম।” তিনি আরও বলেন, তাঁরা যখন কোভিড ১৯ (Covid-19) আক্রান্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, তখন ঠিকঠাক জায়গা পাচ্ছিলেন না যেখানে সেফ হোম বানানো যেতে পারে। এর পর বিধায়ক দেবাশিস কুমারের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁর ভাষ্যমতে দেবাশিসবাবু এই সেফ হোমটির জায়গা খুঁজে পেতে সহায়তা করেন।

এই ব্যাপারে অভিনেতার গৌরব চট্টোপাধ্যায়ের (Gourab Chatterjee) সহায়তার কথাও তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে। দক্ষিণ কলকাতার লেক মার্কেটের নিকটবর্তী বাণীচক্র নামক গানের স্কুলটিকে তাঁরা সেফ হোম বানান। যিশু সেনগুপ্ত বলেন, “এই সেফ হোমের জন্য নার্সদের সন্ধান পাওয়া একটা বড় সমস্যা ঠিকই, তবে আমরা প্রতিটি সমস্যা একে একে সমাধান করার চেষ্টা করে চলেছি। প্রথমে সমস্যা ছিল অক্সিজেন সিলিন্ডার পাওয়া নিয়ে। তবে অনেক লোক আমাদের সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছিলেন।”

পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত বলেন, “কুর্নিশ জানাই তাঁদের যারা কোভিড-আক্রান্ত পরিবারগুলোর জন্য দিনরাত কাজ করে চলেছেন। আমরা এই সেফ হোম তৈরি চেষ্টা করেছি, যেখানে আমরা কোভিড রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু করাতে পারি। রোগীদের অক্সিজেন লেভেল ৯০ পর্যন্ত এখানে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং যদি তার চেয়ে কমে যায় তবে তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হবে।”

Published by:Shubhagata Dey
First published: