থামল লড়াই, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস কেড়ে নিল আরও এক চিকিৎসকের জীবন

রবিবার গভীর রাতে তাঁর সব লড়াই থেমে যায়।

রবিবার গভীর রাতে তাঁর সব লড়াই থেমে যায়।

  • Share this:

#কলকাতা:  দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ অলোক কুমার পাল, ৫১ বছর বয়স। গোটা লকডাউন এর সময় একদম সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে তিনি প্রতিদিনই চিকিৎসা করেছেন। নভেল করোনা ভাইরাসের ভয়ে একমুহূর্ত থেমে থাকেনি তাঁর চিকিৎসা। রোগী স্বার্থের নিবেদিত প্রাণ এই স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ সুজিত নন্দী অসুস্থ হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত চিকিৎসা করেছেন। কয়েকদিন আগে করোনা আক্রান্ত হওয়ায় সল্টলেকের আমরি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। রবিবার গভীর রাতে তাঁর সব লড়াই থেমে যায়।

রক্তক্ষরণ হলেও লড়াই থেমে থাকবে না। থামতে পারে না। মরণপণ লড়াই চলবেই। নভেল করোনা ভাইরাস ঠেকাতে চিকিৎসকদের মৃত্যু মিছিল চলছে বিশ্বজুড়েই। এ রাজ্য তার ব্যতিক্রম নয়। করোনা এর প্রথম প্রবাহে গত বছর শতাধিক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছিল এই রাজ্যে। আর এই বছর করোনা এর দ্বিতীয় ঢেউতে বছরের মাঝামাঝি সময়েই রাজ্যে ৬৩ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে করোনা আক্রান্ত হয়ে।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রত্যন্ত প্রান্তে স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ হিসাবে রোগীদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন অলোক কুমার পাল। তাঁর মৃত্যুর খবর আসতেই গঙ্গারামপুর জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।

ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম, সার্ভিস ডক্টরস ফোরাম, ডক্টরস ফর পেশেন্টস বা ডোপা, অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিসেস ডক্টরস, শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগ সহ বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠন  চিকিৎসক অলোক কুমার পালের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। ডক্টরস ফর পেশেন্টস বা ডোপার পক্ষ থেকে চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, ‘'এই শোক প্রকাশের ভাষা নেই। একে একে অনেক করোনা যোদ্ধা চিকিৎসকই আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য। চিকিৎসক নার্স স্বাস্থ্যকর্মীদের আরো অনেক সতর্ক হয়ে কাজ করতে হবে। চিকিৎসক-নার্স স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনা আক্রান্ত হলে তাদের জন্য আলাদা করে বিশেষ ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে।’’ অন্যদিকে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের পক্ষ থেকে চিকিৎসা কৌশিক চাকি জানাচ্ছেন, '‘ করোনার শুরু থেকেই চিকিৎসক-নার্স স্বাস্থ্যকর্মীরা চিকিৎসক, নার্স,স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাণপণ লড়াই চালাচ্ছেন। এই বছর দ্বিতীয় প্রবাহেও তার ব্যতিক্রম হয় নি। তবুও এই রাজ্য সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই চিকিৎসক নার্স স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রতি মাঝে মধ্যেই হামলা,হুমকি,অশালীন ভাষা প্রয়োগ হয়। এর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের রুখে দাঁড়ানো উচিত। মানুষকে বুঝতে হবে,বেশির ভাগ সময়েই এই চিকিৎসক,নার্স,স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি বিষোদগার না করে সরকারের কাছে চিকিৎসা পরিকাঠামো উন্নয়ণের দাবিতে সরব হওয়া উচিত। এই চিকিৎসকের মৃত্যুতে শোক জানানোর ভাষা নেই।'’

ABHIJIT CHANDA

Published by:Debalina Datta
First published: