করোনা সংক্রমনের ভয়! চার দশক পর দেশে ফিরতেই গ্রেফতার বঙ্গবন্ধু খুনের অন্যতম চক্রী মাজেদ

সংগৃহীত ছবি

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে তৎকালীন কয়েকজন সেনা আধিকারিক।

  • Share this:

    #ঢাকাঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে খুনের পর থেকেই ফেরার ছিলেন আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বরখাস্ত সেনা আধিকারিক আব্দুল মাজেদ। টানা ৪৫ বছর আত্মগোপন করে থাকার পর, বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষে ঢাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার এই সংবাদের সত্যতা প্রকাশ করেন। পুলিশের দাবি, ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মাজেদ কলকাতায় আত্মগোপন করেছিলেন। মাজেদ গ্রেফতার হওয়ার পর এখনও বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ হত্যাকারী পলাতক। তাঁরা প্রত্যেকেই সমকালীন  সেনা কর্মকর্তা।

    ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি হেমায়েতউদ্দিন খান জানান, গত ২০ থেকে ২২ বছর ধরে ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন মাজেদ। এমনকি কলকাতায় ছিলেন বহু বছর। এদিন আদালতে কোনও আইনজীবী মাজেদের পক্ষে দাঁড়াননি বলে সংবাদমাধ্যমগুলিকে জানান,  ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার জাফর হোসেন। তিনি বলেন, আদালতের আদেশের পরপরই মাজেদকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

    এদিকে, বাংলাদেশ পুলিশ সূত্রে খবর, ১৫-১৬ মার্চ নাগাদ মাজেদ বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তারপর থেকে তাঁর উপর নজরদারি চালান হচ্ছিল। আবদুল মাজেদ মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার মিরপুর এলাকায় আসতেই পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিটিসি) তাকে গ্রেফতার করে।

    বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, আব্দুল মাজেদকে মিরপুরের সাড়ে ১১ নম্বর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ফাঁসির আসামি। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারের সলিটারি কনফাইনমেন্টে (পৃথক সেল) রাখা হয়। আব্দুল মাজেদও সলিটারি কনফাইনমেন্টে থাকবে। প্রসঙ্গত, মাজেদ ভারতে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন, বলে এর আগে বিভিন্ন সময়ে খবর এসেছে সংবাদ মাধ্যমে। তবে এবারে তাকে সেখান থেকে পাঠান হয়েছে কি না, তার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “আমরা তাকে বাংলাদেশেই পেয়েছি। হয়ত করোনা সংক্রমণের  ভয়ে চলে এসেছে।”

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার বছরের মধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে তৎকালীন কিছু সেনা আধিকারিক। বিদেশে থাকায় সেসময় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

    Published by:Shubhagata Dey
    First published: