করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ইতিমধ্যেই ২ বার, তবুও নাচে-গানে মন মাতিয়ে সকলের প্রিয় নার্স তিনি

রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় বেসরকারি করোনা হাসপাতালে কর্মরত নার্স বাপি বিশ্বাস।

রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় বেসরকারি করোনা হাসপাতালে কর্মরত নার্স বাপি বিশ্বাস।

  • Share this:

#রায়গঞ্জ:  করোনা আক্রান্ত রোগীদের মনোবল চাঙ্গা করতে করছেন রায়গঞ্জের বেসরকারি করোনা হাসপাতালের কর্মী বাপি বিশ্বাস। গান, নৃত্য ও আবৃত্তির শুনলে মন ভাল হয়। তাই করোনার চিকিৎসার পাশাপাশি  রোগীদের মনোবল বাড়াতে গান, নাচ,আবৃত্তি করছেন, অন্যদিকে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা করে তাদের  কাছে হয়ে উঠছেন ঈশ্বরের দূত। তিনি হচ্ছেন রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় বেসরকারি করোনা হাসপাতালে কর্মরত নার্স বাপি বিশ্বাস।

নদিয়া জেলার হাঁসখালি গ্রামের বাসিন্দা বাপি ২০২০ সালে থেকে রায়গঞ্জের করোনা হাসপাতালে নার্স পদে যোগ দিয়েছেন।গোটা বিশ্ব যখন মারণ ভাইরাসে আতঙ্কিত। প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যু মিছিল।সেই ভয়াবহ কালে তিনি প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবায় রায়গঞ্জ বেসরকারি করোনা হাসপাতালে যোগ দেন।

ছোটোবেলা থেকেই মানুষের সেবায় তাঁর ঝোঁক ছিল এবং .মানুষের শারীরিক দুঃখ যন্ত্রনা পীড়িত করত তাঁকে।গ্রামের কোনও মানুষ অসুস্থ হলে তার পাশে গিয়ে দাঁড়ানো এবং সেবা করা ছোটো থেকে অভ্যাস ছিল।

সেই আগ্রহ থেকেই মানুষের সেবা মূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে  বাপিবাবু ব্যাঙ্গালোরে একটি  নাসিং কলেজে ভর্তি হন। চরম  আর্থিক কষ্টের মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে তিন বছরের কোর্স শেষ করেন। ২০০৯ সালে  নার্সিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একজন নার্স হিসেবে  নিজের পরিচিতি লাভ করেন। রাজ্যে ফিরে এসে প্রথমে  যোগদান করেন  ব্যারাকপুরের বি এম আর সি হাসপাতালে।সেখানে কিছুদিন থাকার পর কাজে যোগ দেন  টেকনো গ্লোবাল হাসপাতাল। কিছুদিন পর বাগুলায় সঞ্জীবন নামে একটি নাসিংহোমে।কিন্ত সেভাবে রোগীদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত হতে না পারায় ২০২০ রায়গঞ্জের মিক্কিমেঘা করোনা হাসপাতালে যোগ দেন।সমস্ত ভয় উপেক্ষা করে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর সেবায় নিয়োজিত করেন।মারণ রোগে আক্রান্ত রোগীদের মনোবল বাড়াতে দিনরাত এক করে কাজ করেন বাপিবাবু। শুধুমাত্র সেবা করেন না,করোনা  আক্রান্ত রোগীকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসা এবং সুস্থ হয়ে যাওয়ার পর বাড়িও পৌঁছে দেন ।হাসপাতালে আক্রান্ত রোগীদের মনোবল বাড়াতে প্রায় ২৪ ঘণ্টাও পরিষেবা দেন তিনি। রোগীদের মনে আনন্দ দিতে  কখনও গান,আবার কখনও নৃত্য করে দেখান।মনের জোর বাড়ানোর জন্য বিখ্যাত কবিদের আবৃত্তিও পরিবেশন করেন।

রায়গঞ্জ মিক্কি মেঘা করোনা বেসরকারি হসপিটালের নার্স বাপিবাবু জানান কালের নিয়মে কিছু মৃত্যুও ঘটে এখানে ।  সেই মৃত্যু তাকে আহত করে।ব্যথিত করে। সুস্থ হয়ে যখন কেউ বাড়ি ফিরে যায় তখন  তৃপ্তি ও খুব আনন্দ হয়। বাপিবাবুর কথায়, ‘‘সঙ্কটাপন্ন রোগীকে দেখলে চুপ করে  থাকতে পারি না। দিন-রাত সেবা করে নিজের হাতে খাইয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করি।যারা অসুস্থ হয়ে ভর্তি হন তারা  সবাই তার আত্মীয়।’’ তাই তাদের পাশে থাকা তার কর্তব্য বলে মনে করেন।

জানা গিয়েছে,প্রথম করোনা ঢেউ স্থিমিত হয়ে আসলে বাপিবাবু রায়গঞ্জ থেকে  ফিরে  নিযুক্ত হন নদীয়া গ্রামীন হাসপাতালে।  দ্বিতীয় ঢেউ আবার আছড়ে পড়তেই আবার রায়গঞ্জের মিক্কিমেঘা করোনা হাসপাতালে ডাক পরে বাপিবাবুর।তিনি আবার ফিরে আসেন। ভালবাসায়  এবং কর্তব্যে পালনের মাধ্যমে  সারিয়ে তুলেছেন মারন ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ।তবে রোগীদের সেবা করতে গিয়ে ইতিমধ্যে ২বার কোভিডে আক্রান্ত হয়েছে বাপিবাবু।তবুও নিজের কর্তব্য পালনে সরে আসেন নি। সাপোর্ট কোভিড কমিউনিটির আহ্বায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য জানান, ‘‘বাপি হাসপাতালের রোগীদের  আপনজন।একদিকে রোগীদের পরিষেবা দিয়ে চলেছে,অন্যদিকে রোগীদের মনোবল বাড়াতে আবৃত্তি, গান,নৃত্য সহ নানারকম সাংস্কৃতিক  কর্মকাণ্ডে যুক্ত রেখেছেন। রোগীর পরিবারের সঙ্গে যেমন নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন,তেমনি আমাদের সংগঠনের দৈনন্দিন কাজকর্মের সঙ্গে সমন্বয় রাখেন। এক কথায় বলা যায় করোনা হাসপাতালের আবাল বৃদ্ধ বণিতা রোগীদের  কাছে  বাপি বিশ্বাস আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ।’’

 Uttam Paul

Published by:Debalina Datta
First published: