স্বাস্থ্য বিমাতেও পাওয়া যাবে ইনকাম ট্যাক্স বেনিফিট, জানুন বিশদে

স্বাস্থ্য বিমাতেও পাওয়া যাবে ইনকাম ট্যাক্স বেনিফিট, জানুন বিশদে!

কোন কভারেজে কি ইনকাম ট্যাক্স বেনিফিট পাওয়া যায়? জেনে নিন বিশদে!

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: গোটা একটা বছর জুড়ে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে দারুণ প্রভাব ফেলেছে প্যানডেমিক করোনা। নতুন বছরে এসেও চোখ রাঙাচ্ছে এই মারণ ভাইরাস। আর এই বিপরীত পরিস্থিতিতে একটি বিষয় হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া গিয়েছে। মানুষজন বুঝতে পারেছেন, নিজেদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সঞ্চয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতিই আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। সেই সূত্র ধরে একটি লাইফ ইনসিওরেন্স বা ঠিকঠাক কভারেজের স্বাস্থ্য বিমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিমা শুধু করোনাই নয়, পরিবারের কারও গুরুতর শারীরিক অবস্থাতেও কাজে দিতে পারে। কিন্তু ঠিক কতটা কভারেজের স্বাস্থ্য বিমা নেওয়া উচিত? কোনও কভারেজে কি ইনকাম ট্যাক্স বেনিফিট পাওয়া যায়? আসুন জেনে নেওয়া যাক বিশদে!

বর্তমানে একাধিক সংস্থায় কর্মীদের হেল্থ ইনসিওরেন্স দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। যতদিন সংশ্লিষ্ট সংস্থায় ওই কর্মীরা কাজ করেন, ঠিত ততদিনই সংস্থাগুলির দেওয়া স্বাস্থ্য বিমা কার্যকরী থাকে। যদি কেউ চাকরি ছেড়ে দেন বা সংস্থাটি পরিবর্তন করে অন্য সংস্থায় চলে যান, তাহলে ওই স্বাস্থ্য বিমাও বৈধতা হারায়। আর ঠিক এই কারণেই সংস্থার উপরে নির্ভর না করে আলাদা ভাবে বিমা কেনার পরামর্শ দেওয়া হয় বেতনভুক্ত কর্মীদের। এদিক থেকে একটি আলাদা স্বাস্থ্য বিমার ভূমিকাও অপরিসীম।

যদি কেউ কম টাকা উপার্জন করেন, তাহলেও নিশ্চিন্তে হেল্থ ইনসিওরেন্স করা যায়। এক্ষেত্রে পেমেন্টের সময়কাল (মাসিক, ত্রৈমাসিক, ষান্মাসিক, বার্ষিক) দেখে ও কভারেজ বুঝে যে কোনও স্বাস্থ্য বিমা কেনা যেতে পারে। এমনকী ইনকাম ট্যাক্স আইনের 80D ধারার অধীনে মেডিকেল হেল্থ ইনসিওরেন্সের পলিসির উপরে ট্যাক্স বেনিফিটও পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে নিজের, স্ত্রীর বা ছেলে-মেয়েদের জন্য মেডিকেল ইনসিওরেন্স প্রিমিয়ামে প্রায় ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ইনকাম ট্যাক্স ডিডাকশন পাওয়া যায়। এগুলির পাশাপাশি বাবা-মায়ের বিমার ক্ষেত্রেও আয়করে অতিরিক্ত একটি ২৫,০০০ টাকার ছাড়া পাওয়া যায়।

তবে বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে বিশদে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। সাধারণত, অধিকাংশ মানুষই একটি সীমিত পরিমাণ টাকার হেল্থ ইনসিওরেন্স বেছে নেন। এর প্রিমিয়ামও কম হয়। তাই তেমন কোনও অসুবিধা হয় না। তবে এই রকম কোনও বাধ্য-বাধ্যকতা নেই। মোটা অঙ্কের স্বাস্থ্য বিমাও করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে অন্যদের কভারেজ দেখে কম বা বেশি অঙ্কের বিমা না কিনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

হেল্থ ইনসিওরেন্সের কভার কিনতে গিয়ে বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপরে নজর দিতে হবে। প্রয়োজনে একাধিক বিমা সংস্থার কভারেজগুলির মধ্যে একটু তুলনাও করে নেওয়া যেতে পারে। এতে কিছুটা হলেও পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রে একজন বিমা থেকে কতটা উপকৃত হচ্ছেন আর বিমার অধীনে কতটা প্রিমিয়াম জমা পড়েছে, এ নিয়ে সবার আগে বিবেচনা করতে হবে। এগুলির পাশাপাশি বিমা নির্বাচনের সময়, নিজের ও পরিবারের প্রয়োজনীতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। বিমার মোট টাকার অঙ্কটাও ভালো করে কষে নিতে হবে। যদি পরিবারে কোনও অসুস্থ বর্ষীয়ান সদস্য থাকেন, তাহলে তাঁর কথা আগে ভেবে দেখতে হবে। নিজের ও পরিবারের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখেই বিমার টাকা ও পলিসি নির্বাচন করতে হবে। বিমার সাব লিমিট (Sub-limits), কো পেমেন্ট ( Co-payments), ক্লেইম সেটেলমেন্ট রেশিও (Claim Settlement Ratio), প্রিমিয়াম লোডিং (Premium Loading)-সহ একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখে দিতে হবে।

Published by:Rukmini Mazumder
First published: