‘লাভজনক, ঐতিহাসিক মাইলফলক’! কত শতাংশ শুল্কে রফা হল? আশা দেখাচ্ছে ভারত ও আমেরিকার নতুন বাণিজ্যচুক্তি!
- Published by:Tias Banerjee
Last Updated:
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো ঘোষণা করেছে, এতে ১৮ শতাংশ শুল্ক, বাজার প্রবেশাধিকার ও বিটিএ নিয়ে অগ্রগতি, পীযূষ গোয়াল ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র শনিবার একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো ঘোষণা করেছে। দু’দেশের তরফে জানানো হয়েছে, এটি একটি ‘পারস্পরিক ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য’ ব্যবস্থার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভারত সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বৃহত্তর ভারত–যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি বা বিটিএ (BTA) নিয়ে চলা আলোচনায় দু’দেশের প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় হল। এই চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার মিলবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হবে। ভারতের পণ্যে ১৮ শতাংশ শুল্কে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র, ভবিষ্যতে আরও ছাড় বিবেচনার ইঙ্গিত।
ভারতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে এই অন্তর্বর্তী চুক্তি আমাদের অংশীদারিত্বে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে উঠবে। পারস্পরিক স্বার্থ ও বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক বাণিজ্যের প্রতি উভয় দেশের অভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটাবে এই চুক্তি।”
কঠিন দরকষাকষির পর এই অগ্রগতি এসেছে বলে জানানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র মধ্যে টেলিফোনে কথোপকথনের পরই এই সমঝোতার পথ প্রশস্ত হয়।
advertisement
advertisement
শনিবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের উপর পালটা শুল্ক হিসেবে ১৮ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই শুল্ক আরও কমানোর জন্য ভারতের অনুরোধও বিবেচনা করবে ওয়াশিংটন।
advertisement
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত দু’দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোর অংশ। এর মাধ্যমে পারস্পরিক ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যের লক্ষ্যে এগোনোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য আলোচক জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চুক্তি-কেন্দ্রিক উদ্যোগের ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দরজা মার্কিন শ্রমিক ও উৎপাদকদের জন্য খুলে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, এতে সমস্ত মার্কিন শিল্পপণ্য এবং বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উপর শুল্ক কমবে। তিনি আরও বলেন, এই কাঠামো যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে গভীরতর সম্পর্কেরই প্রতিফলন, যার মাধ্যমে উভয় দেশের কৃষক ও উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তিনি ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল-কে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যের লক্ষ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।
advertisement
পীযূষ গোয়াল জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার খুলে যাবে, যার সবচেয়ে বেশি লাভ হবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, কৃষক ও মৎস্যজীবীদের। তিনি এক্স-এ পোস্ট করে বলেন, রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, বিশেষ করে মহিলা ও যুবকদের জন্য। তাঁর দাবি, এই কাঠামোর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত পালটা শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামাবে। এর ফলে টেক্সটাইল ও পোশাক, চামড়া ও জুতো, প্লাস্টিক ও রাবার, অর্গানিক কেমিক্যাল, হোম ডেকর, হস্তশিল্প এবং নির্দিষ্ট কিছু যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে বড় সুযোগ তৈরি হবে।
advertisement
ভারত সরকারের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই কাঠামো দ্রুত কার্যকর করা হবে এবং নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী পারস্পরিকভাবে লাভজনক পূর্ণাঙ্গ বিটিএ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী চুক্তির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
চুক্তির মূল শর্তগুলি
এই কাঠামোর আওতায় ভারত মার্কিন শিল্পপণ্য এবং একাধিক কৃষিপণ্যের উপর শুল্ক কমাবে বা তুলে নেবে। এর মধ্যে রয়েছে ডিডিজি, পশুখাদ্যের জন্য লাল জোয়ার, বিভিন্ন বাদাম, ফল, সয়াবিন তেল, মদ ও স্পিরিট। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু ভারতীয় পণ্যের উপর ১৮ শতাংশ পালটা শুল্ক আরোপ করবে। এর মধ্যে রয়েছে টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, জুতো, প্লাস্টিক, রাবার, অর্গানিক কেমিক্যাল, হোম ডেকর, হস্তশিল্প এবং কিছু যন্ত্রাংশ।
advertisement
চুক্তি চূড়ান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র জেনেরিক ওষুধ, রত্ন ও হীরে এবং বিমান যন্ত্রাংশের মতো একাধিক ভারতীয় রপ্তানির উপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছে। পাশাপাশি, জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে আরোপিত কিছু বিমান ও বিমান যন্ত্রাংশের উপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। অটোমোবাইল যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারত বিশেষ শুল্ক কোটার সুবিধা পাবে। জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান নিয়েও আলোচনা চলবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের একটি তদন্তের উপর নির্ভরশীল।
advertisement
বাণিজ্য নিয়ম ও ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি
দু’দেশ একে অপরকে অগ্রাধিকারমূলক বাজারে প্রবেশাধিকার দেবে এবং ‘রুলস অব অরিজিন’-এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে চুক্তির সুবিধা মূলত ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রই পায়। ভারত মার্কিন চিকিৎসা যন্ত্র, তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য আমদানির প্রক্রিয়া এবং কৃষিপণ্য সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের উদ্বেগ নিয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি মান ও সার্টিফিকেশন সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হবে, যাতে নিয়ম মেনে চলা সহজ হয়।
ভবিষ্যতে যদি কোনও পক্ষ শুল্ক পরিবর্তন করে, তবে অন্য পক্ষও তার প্রতিশ্রুতি সমন্বয় করতে পারবে। বৃহত্তর বিটিএ-র আওতায় বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়াতে আলোচনা চলবে। যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যৎ আলোচনায় ভারতীয় রপ্তানির উপর শুল্ক কমানোর অনুরোধও বিবেচনা করবে।
বিনিয়োগ, সরবরাহ শৃঙ্খল ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার অংশ হিসেবে দু’দেশ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নীতি সমন্বয় করবে এবং বিনিয়োগ পর্যালোচনা ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা বাড়াবে। ভারত আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের শক্তি, বিমান, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তি পণ্য ও কোকিং কয়লা কেনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। পাশাপাশি জিপিইউ ও ডেটা সেন্টার সরঞ্জাম-সহ প্রযুক্তি পণ্যের বাণিজ্য বাড়াতে যৌথ সহযোগিতার কথাও বলা হয়েছে।
ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও বৈষম্যমূলক নীতি তুলে নেওয়া এবং বিটিএ-র আওতায় পারস্পরিকভাবে লাভজনক ডিজিটাল বাণিজ্য নিয়ম তৈরির বিষয়ে দু’দেশ একমত হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই কাঠামো শীঘ্রই কার্যকর করা হবে এবং একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী ও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াও এগিয়ে যাবে।
ব্যবসা-বাণিজ্যের সব লেটেস্ট খবর ( Business News in Bengali) নিউজ 18 বাংলা-তে পেয়ে যাবেন, যার মধ্যে ব্যক্তিগত অর্থ, সঞ্চয় এবং বিনিয়োগের টিপস (সেভিংস ও ইনভেস্টমেন্ট টিপস) ব্যবসার উপায়ও জানতে পারবেন। দেখুন ব্রেকিং নিউজ এবং সব গুরুত্বপূর্ণ খবর অনলাইনে নিউজ 18 বাংলার লাইভ টিভি-তে ৷ এর পাশাপাশি ডাউনলোড করুন নিউজ 18 বাংলার অ্যাপ সব খবরের আপডেট পেতে ৷ News18 Bangla-কে গুগলে ফলো করতে ক্লিক করুন এখানে ৷
Location :
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
First Published :
Feb 07, 2026 9:48 AM IST
বাংলা খবর/ খবর/ব্যবসা-বাণিজ্য/
‘লাভজনক, ঐতিহাসিক মাইলফলক’! কত শতাংশ শুল্কে রফা হল? আশা দেখাচ্ছে ভারত ও আমেরিকার নতুন বাণিজ্যচুক্তি!









