Home /News /business /
আবারও সুদের হার বাড়াল আমেরিকা, ভারতের শেয়ার বাজারের আকাশে কালো মেঘ? পড়ুন

আবারও সুদের হার বাড়াল আমেরিকা, ভারতের শেয়ার বাজারের আকাশে কালো মেঘ? পড়ুন

মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াল ০.৭৫ শতাংশ। এই নিয়ে চলতি ২০২২-এ পাঁচ বার সুদের হার বৃদ্ধি হল

  • Share this:

আশঙ্কা ছিল। সেটা সত্যিও হল। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াল ০.৭৫ শতাংশ। এই নিয়ে চলতি ২০২২-এ পাঁচ বার সুদের হার বৃদ্ধি হল। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কার্যকর সুদের হার পৌঁছল ৩.২৫ শতাংশে। আমেরিকায় এর সরাসরি প্রভাব তো পড়বেই, তবে ফেড রিজার্ভের এই সিদ্ধান্ত ভারত-সহ গোটা বিশ্বেই প্রভাব ফেলবে বলে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞমহল।

জানা গিয়েছে যে আমেরিকায় খুচরো মুদ্রাস্ফীতি চরম সীমায় পৌঁছেছে। তাতে লাগাম পরাতেই ক্রমাগত সুদের হার বাড়ানো হচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতির চাপে ফেড রিজার্ভকে টানা তৃতীয়বারের মতো সুদের হার ০.৭৫ শতাংশও বাড়াতে হয়েছে। তবে এই হার আরও বাড়তে পারেই বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ফেড রিজার্ভের প্রধান জেরোম পাওয়েল বলেছেন, ‘৪০ বছরের মধ্যে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি বর্তমানে সর্বোচ্চ সীমায়। এটা নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত সুদের হার আরও বাড়াতে হতে পারে’। এই নিয়ে ফেড রিজার্ভ কর্তৃপক্ষরা একটি বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে জেরোম জানান, ‘আমরা খুচরো মুদ্রাস্ফীতি ২ শতাংশে নামিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যা বর্তমানে ৮ শতাংশে রয়েছে’।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের শেষ নাগাদ কার্যকর সুদের হার ৪.৪ শতাংশে পৌঁছতে পারে। আগামী বছর তা আরও বেড়ে ৪.৬ শতাংশে পৌঁছবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়। নভেম্বরে ফেড রিজার্ভের পরবর্তী বৈঠক। সেখানে সুদের হার ফের ০.৭৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, চাহিদা এবং মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ফেড রিজার্ভের উপর যে হারে চাপ বাড়ছে তাতে পরবর্তী বৈঠকের পর সুদের হার ০.৭৫ শতাংশ নয়, আরও বাড়তে পারে।

আমেরিকায় এর কী প্রভাব পড়বে: সুদের হার বাড়ালে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফেড রিজার্ভ যে ভাবে সুদের হার বাড়াচ্ছে তাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার আরও কমবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই মত ফেড রিজার্ভেরো। তাদের অনুমান, মার্কিন অর্থনীতির বৃদ্ধির হার ২০২৩ সালে ১.৩ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ১.৭ শতাংশ হতে পারে। যা আগের প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে অনেক কম। শুধু তাই নয়, প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হওয়ার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হারও বাড়তে পারে। ২০২৩ সালে যা ৪.৪ শতাংশে পৌঁছতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

ভারতে কোথায় এবং কেন এর প্রভাব পড়বে: ফেড রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাব ভারতেও পড়বে বলেই অনুমান করছেন বিশেষজ্ঞরা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে স্টক মার্কেট এবং বিদেশি বিনিয়োগ। ডলারের তুলনায় টাকার দামেও পতন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্টক মার্কেট – ফেড রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর তাৎক্ষণিক প্রভাব ইতিমধ্যেই স্টক মার্কেটে দৃশ্যমান। এ কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারের দাম হু-হু করে পড়ছে। বিশ্বের অন্যান্য বড় শেয়ার মার্কেটগুলোতেও চাপ বাড়ছে। ভারতের আইটি কোম্পানিগুলোর আয়ের অন্তত ৪০ শতাংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে। সেখানে যদি বাজার পড়ে, তাহলে তার প্রভাব পড়বে ভারতের কোম্পানিগুলোর উপরেও। আইটি স্টকগুলোর দামও কমতে পারে। ভারতীয় শেয়ার বাজারে তাই বিপুল দর পতনের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিদেশি বিনিয়োগ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির কারণে বন্ডের দাম বাড়বে। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সেখানে বিনিয়োগ করতে শুরু করবেন। কারণ তাঁদের কাছে সেটাই লাভজনক। আর এই কারণেই ভারতের বাজার থেকে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ কমাতে শুরু করবেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এমনটা হওয়ার প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা।

টাকার দামে পতন: গত কয়েক মাস ধরেই ডলারের তুলনায় টাকার দাম পড়ছে। ফেড রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির কারণে টাকাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে দর পতন অব্যাহত থাকবে। একদিকে ডলার আরও শক্তিশালী হবে। অন্য দিকে, ভারতীয় মুদ্রার উপর চাপ বাড়তেই থাকবে।

বিশ্বের উপর কী প্রভাব পড়বে: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ালে অর্থনীতির বৃদ্ধির হার কমে যাবে। এতে মন্দার আশঙ্কা আরও জোরদার হবে। বিশ্বব্যাঙ্ক এবং আইএমএফ ইতিমধ্যে বিশ্ব মন্দার পূর্বাভাস দিয়েছে। এই মুহূর্তে আমেরিকা, ইউরোপ-সহ এশিয়ার সমস্ত দেশগুলিও তাদের সুদের হার বাড়াচ্ছে। যা তাদের বৃদ্ধির হারকেও প্রভাবিত করবে। ফলে বিশ্বের আকাশে ফের মন্দার কালো মেঘ ঘনীভূত হতে চলেছে।

First published:

Tags: Federal Reserve

পরবর্তী খবর