Raksha Bandhan 2021: দেবী লক্ষ্মীর স্বামী উদ্ধার থেকে জীবের অমরতালাভ, জানুন রাখিপূর্ণিমার অজানা কাহিনি

পঞ্জিকা মতে সকাল ৬টা ১৯ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ৩১ মিনিটের মধ্যে সাঙ্গ করতে হবে রক্ষাবন্ধনের অনুষ্ঠান

পঞ্জিকা মতে সকাল ৬টা ১৯ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ৩১ মিনিটের মধ্যে সাঙ্গ করতে হবে রক্ষাবন্ধনের অনুষ্ঠান

  • Share this:

    Raksha Bandhan 2021: শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে ভারতের প্রায় প্রতি ঘরেই উদযাপিত হয় রক্ষাবন্ধন বা রাখি উৎসব। ভাই-বোনের সৌহার্দ্যের এই উদযাপন ভারতীয় সংসারের বারো মাসের তেরো পার্বণের অন্যতম।

    রক্ষাবন্ধনের উৎকৃষ্ট মুহূর্ত:

    বলা হয়, ভাইয়ের হাতে রাখি বেঁধে দেওয়ার উৎকৃষ্ট সময় হল অপরাহ্ন বা বিকেল, অনেকে সায়ংকাল বা সন্ধ্যাতেও রক্ষাবন্ধন সম্পন্ন করেন। চলতি বছরে এই উৎসব পড়েছে ২২ অগাস্ট, রবিবারে। পঞ্জিকা মতে সকাল ৬টা ১৯ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ৩১ মিনিটের মধ্যে সাঙ্গ করতে হবে রক্ষাবন্ধনের অনুষ্ঠান।

    রক্ষাবন্ধনের রীতি:

    এই দিন ভাই এবং বোন উভয়েরই নতুন বস্ত্র পরিধান করা কর্তব্য। বোনেরা এই দিন সবার প্রথমে ভাইয়ের কপালে সিঁদুর, চন্দনের তিলক এঁকে তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করেন। তার পর ভাইয়ের হাতে রাখি বেঁধে দিয়ে, আরতি সমাপনান্তে তাকে মিষ্টিমুখ করাতে হয়। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ভাই, বোনের মধ্যে উপহার বিনিময়ের প্রথাও রয়েছে।

    রক্ষাবন্ধনের উৎপত্তি:

    বলা হয়, একদা আঘাত লেগে কৃষ্ণের হাত কেটে গেলে দ্রৌপদী তৎক্ষণাৎ নিজের বস্ত্রাঞ্চল ছিঁড়ে ক্ষত বেঁধে দিয়েছিলেন। ওই বস্ত্রখণ্ডকে কৃষ্ণ রক্ষাসূত্রর মর্যাদা দেন, যা তাঁকে রক্ষা করেছিল রক্তপাতের হাত থেকে। বলা হয়, এখান থেকেই শুরু হয়েছিল ভাইয়ের হাতে রাখি বেঁধে দেওয়ার রেওয়াজ।

    রাখির সঙ্গে যুক্ত আরেকটি কিংবদন্তি জানায় দেবী লক্ষ্মীর স্বামী উদ্ধারের কথা। দৈত্যরাজ বলির ভক্তিতে প্রসন্ন হয়ে বিষ্ণু পাতাললোকে তাঁর প্রাসাদে নিত্য বাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। স্বামী বৈকুণ্ঠ ছাড়লে লক্ষ্মী এক দরিদ্র রমণীর ছদ্মবেশে এসে বলির কাছে আশ্রয় চান। রাখি পূর্ণিমার দিনে তিনি বলির হাতে রাখি বেঁধে দেন, বিনিময়ে উপহার হিসাবে আত্মপরিচয় দিয়ে চেয়ে নেন স্বামীকে।

    তবে ইতিহাসে যে রাখির কথা সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য, সেখানে পরিণতি মধুর নয়। গুজরাতের শাসক বাহাদুর শাহ মেবার আক্রমণ করলে রানি কর্ণাবতী সাহায্য চেয়ে পাঠিয়েছিলেন মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের কাছে, সঙ্গে পাঠিয়েছিলেন রাখি। হুমায়ুন সাহায্য পাঠালেও দেরি হয়ে গিয়েছিল, শাহের আগ্রাসন থেকে বাঁচতে কর্ণাবতী জহর ব্রত পালন করে দেহত্যাগ করেন।

    শ্রাবণ পূর্ণিমার মাহাত্ম্য:

    হিন্দু ধর্মে পূর্ণিমা তিথির গুরুত্ব রয়েছে অনেক দিক থেকে, তেমনই শ্রাবণ পূর্ণিমার তাৎপর্য শুধুই রক্ষাবন্ধন উৎসবে শেষ হয়ে যায় না। বলা হয়, শিব একদা পার্বতীর কাছে ব্যাখ্যা করেছিলেন জীবের অমরতালাভের আশ্চর্য কাহিনি। পার্বতী তা শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়লেও দুই পায়রা তা শুনে অমরতা লাভ করেছিল। আজও শ্রাবণ পূর্ণিমা তিথিতে তাদের দেখতে পাওয়া যায় তুষারাচ্ছন্ন কাশ্মীরের অমরনাথ তীর্থে।

    আবার এই শ্রাবণ পূর্ণিমাতেই বৈষ্ণবরা সাড়ম্বরে পালন করেন রাধা-কৃষ্ণের ঝুলন উৎসব, এক্ষেত্রে তাঁদের প্রতিমা দোলনায় বসিয়ে বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয়।

    ভারতের মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে এই তিথি নারিকেল পূর্ণিমা নামেও প্রসিদ্ধ। এই তিথিতে তাঁরা জলদেবতা বরুণের পূজা দেন সমুদ্রে নারকেল এবং পুষ্প নিক্ষেপ করে। বলা হয়, এই অর্ঘ্যদান পরিবারকে পুত্রসন্তানে পরিপূর্ণ করে, মাছ ধরার সময়ে সাগরযাত্রাকে করে তোলে নিরাপদ।

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: