নবাবী ঐতিহ্য মেনে মুর্শিদাবাদের ইমামবাড়াতে ইফতারের বিশেষ আয়োজন...! আজও তৈরি হয় বিরিয়ানি
- Reported by:Tanmoy Mondal
- Published by:Sanjukta Sarkar
Last Updated:
Murshidabad News: বিরিয়ানি মানে জিভে জল। ফারসি বিরিয়ান শব্দ থেকে উৎপত্তি আজকের বিরিয়ানির। এর অর্থ হল সুগন্ধি মশলা সহযোগে রান্নার আগে ভেজে নেওয়া। ইরানি পন্ডিত তথা ভারত বিশেষজ্ঞ আলবেরুনির লেখাতেও বিরিয়ানির উল্লেখ পাওয়া যায়। কেউ কেউ বলেন,আরব কিংবা তুর্কিদের হাত ধরেই বিরিয়ানির প্রবেশ এই উপমহাদেশে।
advertisement
1/7

মুর্শিদাবাদ, তন্ময় মন্ডল: বিরিয়ানি শব্দটা শুনলেই প্রায় সকলেরই রসনা সিক্ত হয়ে ওঠে। ফারসি বিরিয়ান শব্দ থেকে উৎপত্তি আজকের বিরিয়ানির। এর অর্থ হল সুগন্ধি মশলা সহযোগে রান্নার আগে ভেজে নেওয়া। ইরানি পন্ডিত তথা ভারত বিশেষজ্ঞ আলবেরুনির লেখাতেও বিরিয়ানির উল্লেখ পাওয়া যায়। কেউ কেউ বলেন,আরব কিংবা তুর্কিদের হাত ধরেই বিরিয়ানির প্রবেশ এই উপমহাদেশে।
advertisement
2/7
আবার কেউ বলেন মুঘল সম্রাট শাহজাহান পত্নী মুমতাজ বাদশার সৈন্যদের ভগ্ন স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য বাবুর্চিকে হুকুম দেন সুগন্ধি চাল মশলা, ঘি ও মাংস সহযোগে স্বাস্থ্য সম্মত খাবার তৈরি করতে। সেখান থেকেই উৎপত্তি বিরিয়ানির। যাইহোক দিল্লির নবাব বাদশাহর হাত ধরেই যে উপমহাদেশের মূল ভূখণ্ডে এর আগমন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই নবাবী মুর্শিদাবাদেও যে এর বহুল ব্যবহার দেখা যাবে তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই।
advertisement
3/7
একসময় লালবাগের নবাবী ইমামবাড়ায় রমজান মাসে রোজাদারদের জন্য ইফতারে বিতরণ করা হত বিরিয়ানি। কিন্তু এখন সেই নবাবও নেই নেই তাঁর রাজ্যপাটও। তাই রোজাদারদের জন্য বরাদ্দ বিরিয়ানির পরিবর্তে দেওয়া হয় তন্দুরি রুটি ছোলার ডাল, ফল ইত্যাদি। যা নেওয়ার জন্য আজও ভিড় করেন রোজাদাররা। হাতি শালে হাতি, ঘোড়া শালে ঘোড়া, কাছারি বাড়ি, কর্মচারী, পাইক বরকন্দাজ নহবতখানা, সুসজ্জিত পুষ্পোদ্যান, অতিথিশালা না থাকলেও রমজান মাসে খাবার বিতরণ আজও প্রথা মেনেই হয়ে চলেছে।
advertisement
4/7
রাজ্যের বৃহত্তম এই ইমামবাড়া ১৮৪৭ খ্রীষ্টব্দে নবাব নাজিম ফেরাদুন খাঁর আমলে তৈরি হয়েছিল। ওয়াসিফ আলি মির্জা রমজান মাসে চালু করেন খাবার দেওয়া। লন্ডনে পড়া কালীন নবাব ওয়াসিফ আলির পক্ষে রোজা পালন সম্ভব না হওয়ায় হাদিসের নিয়মানুসারে ষাট জন কে খাওয়ানো হত। সেই ধারা আজও বহন করে চলেছে সরকার।
advertisement
5/7
১৯৮৫ সালে রাজ্য সরকারের আইন বিভাগ এটি অধিগ্রহণ করে। রমজান মাসে রোজা রাখা ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এখান থেকে রোজ একমাস ধরে খাওয়ার পেয়ে থাকে। তন্দুরী রুটি, ছোলার ডাল সঙ্গে ফল আবার কখনো বিরিয়ানি। নবাবী আমলে ষাট জন পেলেও এখন প্রায় ৩০০ জনকে দেওয়া হয় এই খাবার। সারাদিন উপোস করে সন্ধ্যায় ইফতার সারেন নবাব বাড়ির খাবার খেয়ে। যার খরচ রাজ্য সরকার বহন করে।
advertisement
6/7
ইমামবাড়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা বলেন, ১৫ তম দিন এবং ২৯ তম দিন ইফতারে বিরিয়ানি দেওয়া হয়। বাকি দিনগুলি ডাল রুটি বিতরণ দেওয়া হয়। আগে আরও জাঁকজমকভাবে ইফতারের আয়োজন করা হত।
advertisement
7/7
নবাবের বংশধর সৈয়দ আলি মির্জা বলেন, লন্ডনে পড়াশোনা করা নবাবের পক্ষে রোজা করা সম্ভব ছিল না তাই হাদিসের নিয়ম অনুযায়ী একজন রোজা না করতে পারলে তার পরিবর্তে ষাট জনকে খাওয়াতে হয় সেই ধারা আজও বহন করে চলেছে সরকার। এখনও রমজান মাসে প্রতিদিন এখান থেকে ইফতারের খাবার দেওয়া হয় সাধারণ মানুষকে।
বাংলা খবর/ছবি/পশ্চিমবঙ্গ/মুর্শিদাবাদ/
নবাবী ঐতিহ্য মেনে মুর্শিদাবাদের ইমামবাড়াতে ইফতারের বিশেষ আয়োজন...! আজও তৈরি হয় বিরিয়ানি