রোহিত-দ্রাবিড়ের স্ট্র্যাটেজি এখানে চলত না... বিশ্বকাপ জেতার পর সূর্যর বিতর্কিত মন্তব্য ! বললেন, সরানো হয়েছে ২০২৪-এর ‘ভাইরাস’
- Published by:Siddhartha Sarkar
Last Updated:
সুর্যকুমার যাদব আর ভারতীয় দলের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর টিমের খেলোয়াড়দের খোলামেলা খেলার স্বাধীনতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। টিমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে এখন আর কোনও খেলোয়াড় ব্যক্তিগত অর্জনের পিছনে দৌড়াবে না। ব্যাটিং অর্ডারও নির্ধারিত থাকবে না আর প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনও খেলোয়াড় যেকোনও অর্ডারে নামতে পারবে।
advertisement
1/6

ভারতীয় ক্রিকেটে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খেলার ধরনও বদলেছে। এক সময় ছিল যখন অভিজ্ঞতা, ধৈর্য আর ইনিংসকে ধরে রেখে এগিয়ে যাওয়ার কৌশলই টিম ইন্ডিয়ার পরিচয় ছিল। কিন্তু টি২০ ক্রিকেটের দ্রুতগতির দুনিয়ায় এখন আগ্রাসন আর নির্ভীকতাই সাফল্যের চাবিকাঠি হয়ে গিয়েছে। এই কারণেই সূর্যকুমার যাদবের অধিনায়কত্ব আর গম্ভীরের কোচিংয়ে ভারতীয় দল তাদের চিন্তা আর খেলার ধরন বদলে ফেলেছে। দল ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে জয়কে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে আর সেই নতুন ভাবনাই তাদের টি২০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথ দেখিয়েছে।
advertisement
2/6
এক সময় ছিল যখন রোহিত শর্মা নেতৃত্বে আর রাহুল দ্রাবিড়ের কোচিংয়ে ভারতীয় টিমের খেলা খুবই ব্যালান্সড আর অভিজ্ঞতার উপর নির্ভরশীল মনে করা হত। এই স্ট্র্যাটেজি ২০২৪ পর্যন্ত কার্যকর ছিল, কিন্তু দুই বছর পর টি২০ ক্রিকেটের বদলে যাওয়া চাহিদার সামনে এটা একটু ‘স্লো’ আর ‘ট্র্যাডিশনাল’ লাগতে শুরু করে। সূর্যকুমার মনে করেন, যদি ভারতীয় টিম ২০২৪-এর স্টাইলকেই ২০২৬ বিশ্বকাপে রিপিট করার চেষ্টা করত, তাহলে হয়তো টিম ট্রফি জিততে পারত না। (Photo: AP)
advertisement
3/6
সুর্যকুমার যাদব আর প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর টিমের খেলোয়াড়দের খোলামেলা খেলার স্বাধীনতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। টিমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে এখন আর কোনও খেলোয়াড় ব্যক্তিগত অর্জনের পিছনে দৌড়াবে না। ব্যাটিং অর্ডারও নির্ধারিত থাকবে না আর প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনও খেলোয়াড় যেকোনও অর্ডারে নামতে পারবে। সুর্যকুমার আরও বলেছেন, ‘‘আমাদের জানা ছিল যে ২০২৪ টি২০ বিশ্বকাপের মতো ক্রিকেট আমরা যেভাবে খেলেছিলাম, সেটা সামনে কাজে আসবে না। তাই আমরা ঠিক করেছি এখন ব্যক্তিগত রেকর্ডের দিকে মন দেব না, আমাদের লক্ষ্য শুধু ম্যাচ জেতা হবে। আপনি দেখেছেন যে সেমিফাইনাল পর্যন্ত আমাদের কোনও খেলোয়াড় সবচেয়ে বেশি রান করা বা সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার তালিকায় ছিল না। তবুও আমরা টানা জিতেছি, কারণ প্রতি ম্যাচে প্রত্যেক খেলোয়াড় অবদান রেখেছে। তিনি আরও বলেন, এই ভাবনাটা শুরু থেকেই টিমে শক্ত করা দরকার ছিল। আমরা এই ‘টিম কালচার’ প্রায় ১৮ মাস আগে তৈরি করা শুরু করেছিলাম এবং এটা টিমে ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে দিয়েছিলাম, যাতে প্রত্যেক খেলোয়াড় সেই মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামে।’’ (Photo: AP)
advertisement
4/6
২০২৪-এর দলের অভিজ্ঞতা বনাম ২০২৬-এর আগ্রাসন: ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটককেও ২০২৪ আর ২০২৬-এর দলের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। উনি মনে করেন, ২০২৪-এর দল অভিজ্ঞতায় ভরা ছিল, কিন্তু সেখানে আগ্রাসনের অভাব ছিল। ওই দলে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা আর রবীন্দ্র জাদেজা-র মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ছিল, যারা দলকে স্থিতিশীলতা আর অভিজ্ঞতা দিয়েছে। কোটক-এর মতে, রোহিত শর্মা শুরু থেকেই নির্ভয়ে খেলা ব্যাটার ছিল, যারা প্রথম বল থেকেই আগ্রাসী মেজাজে খেলত। কিন্তু বিরাট কোহলি-র ভূমিকা ছিল আলাদা। উনি ইনিংস ধরে রাখার কাজ করত, আর পার্টনারশিপ গড়ে শেষ পর্যন্ত টিকে খেলার ওপর বিশ্বাস রাখত। (Photo: AP)
advertisement
5/6
নতুন টিমের নতুন ধরণ: ২০২৬ সালের ভারতীয় টিমে তুলনামূলক কম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন খেলোয়াড়রা আছে, কিন্তু তাদের মধ্যে আক্রমণাত্মক মনোভাব আর আত্মবিশ্বাস ভরপুর। টিমে বুমরাহ আর হার্দিক পান্ডিয়ার মতো খেলোয়াড়রা অভিজ্ঞতার ভারসাম্য রাখে, আর তরুণ খেলোয়াড়রা তাঁদের আলাদা স্টাইল নিয়ে টিমকে নতুন এনার্জি দেয়। এর পাশাপাশি অভিষেক শর্মার মতো খেলোয়াড়ও টিমে আক্রমণাত্মকতার নতুন রং যোগ করে। প্রতিটা খেলোয়াড় তাঁর আলাদা স্টাইল নিয়ে আসে, যার জন্য টিমের খেলা আরও বৈচিত্র্যময় আর কার্যকরী হয়ে ওঠে। (Photo: AP)
advertisement
6/6
বদলেছে ভাবনা, বদলেছে পরিচয়: মোটামুটি দেখা যায়, ২০২৪ আর ২০২৬ সালের ভারতীয় দলের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য তাদের খেলার ধরণ আর মানসিকতায় দেখা যায়। যেখানে আগে ইনিংস ধরে এগিয়ে যাওয়ার ভাবনা ছিল, সেখানে এখন যেকোনও পরিস্থিতিতে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার মন্ত্র নেওয়া হয়েছে। এই নতুন ভাবনা আর নির্ভীক কৌশল ভারতীয় দলকে আধুনিক টি২০ ক্রিকেটের যুগে আরও ভয়ঙ্কর করে তোলে। (Photo: AP)