Harish Rana Update: খাওয়াদাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, হাতে আর জীবনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা! হরিশ রানার লেটেস্ট আপডেট
- Published by:Debalina Datta
Last Updated:
Harish Rana Update: বিশ্বজুড়ে ইচ্ছামৃত্যু সংক্রান্ত আইন ভিন্ন ভিন্ন। নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম এবং লুক্সেমবার্গের মতো দেশগুলিতে সক্রিয় ইচ্ছামৃত্যু (প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যু) আইনসম্মত।
advertisement
1/6

কলকাতা: ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন গাজিয়াবাদের বাসিন্দা হরিশ রানা৷ যিনি গত ১৩ বছর ধরে কোমার গভীর আচ্ছন্ন ছিলেন, এখন তাঁর জীবনের অন্তিম ও সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ যাত্রায় রয়েছেন। এইমস-এর প্যালিয়েটিভ কেয়ার ওয়ার্ডের ১২ নম্বর বিছানায় শুয়ে থাকা হরিশের স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য আবেদনের সিদ্ধান্তটি এক কঠোর অথচ স্বস্তিদায়ক সিদ্ধান্ত৷ ইচ্ছামৃত্যুর জন্য আদালতের অনুমোদন পাওয়ার পর, চিকিৎসকেরা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ধীরে ধীরে সেই রাইস টিউব ও ফ্লুইড সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করে দেন যা দিয়ে এতদিন তাঁর শরীরে জল সরবরাহ করছিল। বছরের পর বছর ধরে বেঁচে থাকার জন্য যন্ত্রের উপর নির্ভর করার পর, হরিশ এখন কোনও কৃত্রিম সাহায্য ছাড়াই নিজের ফুসফুস দিয়ে শেষ নিঃশ্বাস নিচ্ছেন।
advertisement
2/6
সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশে অনুসরণ করে মেডিকেল বোর্ড হরিশের ভেন্টিলেটর ও ফিডিং টিউব সম্পূর্ণরূপে খুলে ফেলেছে। তাঁকে এখন আইসিইউ থেকে সাধারণ বেডে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর ওপর নজর রাখছে। মৃত্যু প্রক্রিয়াকে যন্ত্রণাহীন করতে, তার মনকে শান্ত রাখতে ও শারীরিক ব্যথা কমাতে তাকে বিশেষ ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের করিডোরে নেমে আসা এই নীরবতা গত ১৩ বছর ধরে চলা এক আইনি ও মানবিক সংগ্রামের সমাপ্তি ঘোষণা করছে।
advertisement
3/6
১৩ বছর আগে হরিশ রানার কী হয়েছিল?হরিশ রানার গল্পটি এক সম্ভাবনাময় তরুণের হঠাৎ হারিয়ে যাওয়ার কাহিনী। ২০১১ সালে, চতুর্থ তলা থেকে পড়ে গিয়ে হরিশ মাথায় ও মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পান। এই দুর্ঘটনার ফলে তিনি স্থায়ী উদ্ভিজ্জ অবস্থায় (PVS) চলে যান, অর্থাৎ তিনি জীবিত থাকলেও সম্পূর্ণ অচেতন ছিলেন। বিগত ১৩ বছর ধরে তিনি সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী ছিলেন। তাঁর বাবা-মা তাঁকে সুস্থ করার জন্য নিজেদের সমস্ত সঞ্চয় ব্যয় করেছিলেন, কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা ব্যর্থ প্রমাণিত হয়। ক্লান্ত এবং ছেলেকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে দেখে, পরিবারটি এই অসহনীয় ও অর্থহীন যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।
advertisement
4/6
অরুণা শানবাগের গল্পভারতে পরোক্ষ ইচ্ছামৃত্যু নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল অরুণা শানবাগের ঘটনা দিয়ে। কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হাসপাতালের একজন নার্স অরুণা ৪২ বছর ধরে অচেতন অবস্থায় ছিলেন। ২০১১ সালে, তাঁর বন্ধু পিঙ্কি ভিরানির করা একটি আবেদনের শুনানি করে সুপ্রিম কোর্ট প্রথমবারের মতো কিছু শর্ত সাপেক্ষে পরোক্ষ ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেয়। যদিও অরুণা ২০১৫ সালে স্বাভাবিক কারণে (নিউমোনিয়া) মারা যান, তাঁর মামলাটি দেশে ‘লিভিং উইল’ এবং ‘মর্যাদার সাথে মৃত্যুবরণের অধিকার’-এর আইনি ভিত্তি স্থাপন করে, যা ভবিষ্যতের মামলাগুলোর পথ প্রশস্ত করেছে।
advertisement
5/6
কমন কজ বনাম ভারত সরকার২০১৮ সালে, সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ ‘কমন কজ’ নামক এনজিও-র দায়ের করা একটি আবেদনের উপর যুগান্তকারী রায় প্রদান করে। আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুবরণ করা সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদের অধীনে জীবনধারণের অধিকারের একটি অংশ। এই সিদ্ধান্তটি ‘লিভিং উইল’ বা ‘জীবিত ইচ্ছাপত্র’ ধারণাটিকে বৈধতা দেয়, যার মাধ্যমে একজন সুস্থ ব্যক্তি এই মর্মে একটি উইল লিখতে পারেন যে, ভবিষ্যতে যদি তিনি কোনো দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হন, তবে তাঁকে যেন কৃত্রিম জীবন-সহায়ক ব্যবস্থায় রাখা না হয়। এই সিদ্ধান্তের নীতিগুলি হরিশ রানা মামলাতেও ব্যবহৃত হয়েছিল।
advertisement
6/6
অন্যান্য দেশে ইচ্ছামৃত্যুর অবস্থা কী?বিশ্বজুড়ে ইচ্ছামৃত্যু সংক্রান্ত আইন ভিন্ন ভিন্ন। নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম এবং লুক্সেমবার্গের মতো দেশগুলিতে সক্রিয় ইচ্ছামৃত্যু (প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যু) আইনসম্মত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজ্য এবং কলম্বিয়াতে সহায়ক আত্মহত্যা অনুমোদিত। ভারতে কেবল পরোক্ষ ইচ্ছামৃত্যুই আইনসম্মত, যার অর্থ হলো জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থাগুলো কেবল সরিয়ে ফেলা, সরাসরি প্রাণহানি করা নয়। বিশ্বব্যাপী বিতর্কটি কেবল বেঁচে থাকার অধিকারকেই নয়, বরং যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর অধিকারকেও কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে।