ধর্মই প্রথম পছন্দ, ক্রিকেটকে কুরবান করে বেছে নিয়েছেন অন্য এই জীবন, ২১ বছরে অধিনায়ক হওয়া এই ক্রিকেটার...
- Published by:Debalina Datta
Last Updated:
ক্রিকেটে অন্যরকম ঘরানার এই ক্রিকেটার, উত্থান হয়েছিল তরতর করে আর তারপর সব ছেড়ে আজ লোকচক্ষুর আড়ালে...
advertisement
1/6

কলকাতা: ক্রিকেট খেলাটা একদম জীবনের মত, জীবনে যেরকম ওঠাপড়া থাকে ঠিক তেমনিই ক্রিকেটে যতক্ষণ তুমি পারফর্ম করছ ঠিক ততক্ষণই তুমি লাইমলাইটে তারপর আস্তে আস্তে হারিয়ে যাওয়া বিস্মৃতির অতলে৷ ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন অনেক ক্রিকেটারকে দেখা যায়, যাঁদের শুরুটা দুর্দান্ত ছিল, কিন্তু তাঁদের কেরিয়ার বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে গেছে। এরকমই উদাহরণ হল জিম্বাবোয়ের ক্রিকেটার তাদেন্দা তাইবু, যিনি ২০০৪ সালে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট অধিনায়ক হওয়ার রেকর্ড গড়েন। তবে, তিনি ক্রিকেটার ঈশ্বরভক্তির পথ বেছে এতটাই মগ্ন হয়ে পড়েন যে, মাত্র ২৯ বছর বয়সে ক্রিকেট থেকে অবসর নেন।
advertisement
2/6
জিম্বাবোয়ের ক্রিকেটে তাইবুর উত্থান ছিল অলৌকিকের চেয়ে কম কিছু নয়। ২০০৪ সালে, যখন জিম্বাবোয়ে ক্রিকেট অভ্যন্তরীণ বিবাদ ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত ছিল, তখন মাত্র ২১ বছর ২ দিন বয়সে তিনি টেস্ট অধিনায়ক নিযুক্ত হন। তিনি নবাব পতৌদির কয়েক দশকের পুরনো রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট অধিনায়ক হওয়ার গৌরবও অর্জন করেন। পরে অবশ্য আফগানিস্তানের রশিদ খান তাঁর এই রেকর্ডটি ভেঙে দেন।
advertisement
3/6
সাধারণত উইকেটরক্ষকরা দীর্ঘাঙ্গ হলে তাঁদের পারফরম্যান্সে সুবিধা হয় কিন্তু তাইবু ছিলেন খর্বাকৃতি তাও ছিল দারুণ ক্ষিপ্র৷ তাঁর কৌশল এবং ক্ষিপ্রতা ছিল অতুলনীয়। ২০০৫ সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জিম্বাবোয়ের প্রথম টেস্ট জয়ে তার অধিনায়কত্ব তাকে জিম্বাবোয়ে ক্রিকেটের রাতারাতি নায়ক বানিয়ে দেয়। তবে, সাফল্যের এই পথ ছিল কাঁটায় পূর্ণ। ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান মতপার্থক্য এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তাঁকে ২০০৫ সালে অধিনায়কত্ব ত্যাগ করতে এবং দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করে।
advertisement
4/6
তাইবু নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় কিছু সময় কাটালেও, খেলার প্রতি তাঁর ভালবাসা তাঁকে ২০০৭ সালে জিম্বাবোয়ে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনে। ফিরে আসার পরেও তিনি দলের এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে ছিলেন এবং বেশ কয়েকটি লড়াকু ইনিংস খেলেছেন। ২০১২ সালে, কেরিয়ারের শীর্ষে থাকাকালীন এবং মাত্র ২৯ বছর বয়সে, তাইবু হঠাৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে বিশ্বকে হতবাক করে দেন।
advertisement
5/6
খ্রিস্টধর্মের সেবা করার জন্য তাইবু যাজক হনযে বয়সে খেলোয়াড়রা তাদের কেরিয়ারের শীর্ষে থাকেন, সেই বয়সেই তাইবু জাঁকজমক ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ তিনি তাঁর ভিতর থেকে ডাক শুনতে পেয়েছিলেন৷ তিনি সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, তাঁর জীবন আর ক্রিকেট মাঠের জন্য উৎসর্গীকৃত নয়, বরং ঈশ্বরের সেবার জন্য। তাইবু এক বিবৃতিতে বলেছিলেন যে, তিনি উপলব্ধি করেছেন যে তিনি ঈশ্বরের সেবা করতে চান, ফল এখন ঈশ্বরের সেবায় তাঁর সম্পূর্ণ সময় দেবেন এবং ক্রিকেট আর তাঁর জীবনের অগ্রাধিকার নয়।
advertisement
6/6
অবসর গ্রহণের পর তিনি সম্পূর্ণরূপে খ্রিস্টধর্ম ও গির্জার কার্যকলাপে নিমগ্ন হন। তিনি ধন-সম্পদ ও খ্যাতির চাকচিক্য ত্যাগ করে একজন যাজক হিসেবে ঈশ্বরের বাণী প্রচারের পথ বেছে নেন। তাঁর কাছে সাফল্যের সংজ্ঞা বদলে গিয়েছিল। মাঠে শত রান করার সংখ্যা দিয়ে এর পরিমাপ হতো না, বরং আধ্যাত্মিক শান্তি এবং অন্যের জীবনে আনা পরিবর্তন দিয়ে এর পরিমাপ হত।