Sleep Problem: ঘুমের অভাবে কমতে পারে আয়ু, অসময়ে মুখে আসতে পারে বুড়োটে ছাপ, ৭ মোক্ষম উপায় মিলবে মুক্তি
- Reported by:BENGALI NEWS18
- Published by:Pooja Basu
Last Updated:
যাঁরা ক্রমাগত ক্লান্তি, মেজাজের পরিবর্তন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতার মতো সমস্যায় ভুগছেন, যার সবকটিই অপর্যাপ্ত বা নিম্নমানের ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত।
advertisement
1/9

এই যুগে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, গভীর রাত পর্যন্ত স্ক্রিন ব্যবহার এবং অবিরাম ডিজিটাল উদ্দীপনাই প্রাধান্য পায়! অতএব, সেখানে দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের অভাব আর কেবল একটি ব্যক্তিগত অভ্যাসজনিত সমস্যা নয়- এটি দ্রুত একটি লাইফস্টাইল প্যানডেমিক বা জীবনযাত্রার মহামারীতে পরিণত হচ্ছে। ইন্টারনাল মেডিসিন, নিউরোলজি এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসকরা এমন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির কথা জানাচ্ছেন, যাঁরা ক্রমাগত ক্লান্তি, মেজাজের পরিবর্তন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতার মতো সমস্যায় ভুগছেন, যার সবকটিই অপর্যাপ্ত বা নিম্নমানের ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত।
advertisement
2/9
দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের অভাব মোকাবিলার কিছু উপায় সম্পর্কে জানতে আমরা থানের জুপিটার হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের পরিচালক ডা. অমিত সরাফের সঙ্গে কথা বলেছি। আজকের প্রজন্মকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে তারা বিশ্বাস করে উৎপাদনশীলতার জন্য ত্যাগ স্বীকার করা প্রয়োজন এবং ঘুমই প্রায়শই প্রথম জিনিস যা নিয়ে আপোস করা হয়। অনেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিয়মিতভাবে প্রস্তাবিত ৭-৯ ঘণ্টার চেয়ে কম ঘুমান, এই ভেবে যে তাঁরা সপ্তাহান্তে তা পুষিয়ে নিতে পারবেন। তবে, বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে বলেছেন যে ঘুমের ঘাটতি জমা হতে থাকে এবং দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের অভাব শরীর পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করতে পারে না।
advertisement
3/9
বাড়িতে থেকে কাজ করার ব্যবস্থা, একাধিক চাকরি, অতিরিক্ত উপার্জনের কাজ এবং চব্বিশ ঘণ্টা ডিজিটাল সংযোগ দিন ও রাতের সীমানা অস্পষ্ট করে দিয়েছে। গভীর রাতে একটানা সিনেমা দেখা, অবিরাম স্ক্রল করা এবং অসময়ে কাজের বার্তার উত্তর দেওয়া এখন ব্যতিক্রম না হয়ে স্বাভাবিক সামাজিক নিয়মে পরিণত হয়েছে।
advertisement
4/9
দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের অভাব শরীরকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যা মানুষ প্রায়শই অবমূল্যায়ন করে।এমনকি প্রতিদিন ১-২ ঘণ্টা ঘুম কম হলেও শরীরের গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমগুলো পরিবর্তিত হতে পারে:হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: কর্টিসল, ইনসুলিন, গ্রোথ হরমোন এবং প্রজনন হরমোন নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘুম অপরিহার্য। অপর্যাপ্ত ঘুম ওজন বৃদ্ধি, দুর্বল বিপাক এবং মহিলাদের ঋতুচক্রের অনিয়মের কারণ হয়।দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: যাঁরা কম ঘুমান তাঁরা সংক্রমণ, ধীর আরোগ্য এবং প্রদাহজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হন।হৃদরোগের ঝুঁকি: ক্রমাগত ঘুমের অভাব উচ্চ রক্তচাপ, অ্যারিথমিয়া এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।মস্তিষ্কের ক্ষমতার অবনতি: মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মানসিক স্থিতিশীলতা হ্রাস পায়।
advertisement
5/9
ডাক্তাররা সতর্ক করে দেন যে ঘুমের অভাব মানে শুধু ক্লান্ত বোধ করা নয়; এটি মৌলিকভাবে শরীরের প্রায় প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে প্রভাবিত করে।ডিজিটাল আসক্তি এই সঙ্কটকে আরও বাড়িয়ে তুলছেএই ঘুম কম হওয়ার মহামারীর অন্যতম প্রধান কারণ হল স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলোর সংস্পর্শ। ফোন, ল্যাপটপ এবং টেলিভিশন মেলাটোনিন হরমোনকে দমন করে- যা মস্তিষ্ককে ঘুমানোর সঙ্কেত দেয়। ফলে, মানুষ ঘুমাতে চাইলেও তাদের শরীর সতর্ক অবস্থায় থাকে।নোটিফিকেশন, সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যকলাপ এবং অবিরাম দেখার জন্য ডিজাইন করা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো ঘুমের সময় পার হয়ে যাওয়ার পরেও মস্তিষ্ককে উত্তেজিত রাখে। কিশোর-কিশোরী এবং তরুণ প্রাপ্তবয়স্করা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ তাদের বিকাশমান মস্তিষ্কের জন্য বেশি ঘুমের প্রয়োজন হলেও ডিজিটাল অভ্যাসের কারণে তারা অনেক কম ঘুম পায়।
advertisement
6/9
মানসিক স্বাস্থ্যের পরিণতিঘুম এবং মানসিক স্বাস্থ্য গভীরভাবে পরস্পর সংযুক্ত। দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের অভাব নিম্নলিখিত ঝুঁকি বাড়ায়:- উদ্বেগ- খিটখিটে মেজাজ- মেজাজের পরিবর্তন- দুর্বল মানসিক স্থিতিস্থাপকতা- বিষণ্ণতামনোরোগ বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে অনেক রোগী প্রাথমিকভাবে মেজাজ বদলের সমস্যা নিয়ে আসেন, কিন্তু এর অন্তর্নিহিত কারণ হল অপর্যাপ্ত ঘুম।
advertisement
7/9
আধুনিক ফাঁদ: অতিরিক্ত কাজ এবং অপর্যাপ্ত বিশ্রামঅনেক পেশাদার ব্যক্তি নিয়োগকর্তাদের কাছে চব্বিশ ঘণ্টা উপলব্ধ থাকার চাপ অনুভব করেন। রিমোট কাজের প্রসারের ফলে কর্মদিবসগুলো গভীর রাত পর্যন্ত গড়িয়েছে, যেখানে কোনও প্রকৃত ছুটির সময় নেই। মেট্রো শহরগুলোতে দীর্ঘ যাতায়াত এবং অনির্দেশ্য সময়সূচী ঘুমের সময়কে আরও সঙ্কুকুচিত করে। অভিভাবক, পরিচর্যাকারী, শিক্ষার্থী এবং শিফট কর্মীরাও সমানভাবে ঝুঁকিতে আছেন, কারণ তাঁরা ক্রমাগত বিভিন্ন দায়িত্ব সামলাতে থাকেন।
advertisement
8/9
চিকিৎসকরা জোর দেন যে ঘুমের অভ্যাস উন্নত করলে অনেক ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব:- একটি নির্দিষ্ট ঘুম ও জাগার সময়সূচী বজায় রাখতে হবে- ঘুমানোর অন্তত এক ঘন্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে- সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন গ্রহণ সীমিত করতে হবে- একটি শীতল, অন্ধকার, শান্ত ঘুমের পরিবেশ তৈরি করতে হবে- প্রতিদিন শারীরিক কার্যকলাপে নিযুক্ত হতে হবে- অতিরিক্ত কাজ এবং দেরিতে খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে
advertisement
9/9
দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের অভাব আর কোনও ব্যক্তিগত সমস্যা নয়- এটি আধুনিক জীবনধারা দ্বারা সৃষ্ট একটি ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ। সমাজ যখন উৎপাদনশীলতা এবং ডিজিটাল সংযোগের পেছনে ছুটছে, তখন ঘুম নীরবে তার শিকার হচ্ছে। ঘুমকে একটি জৈবিক প্রয়োজন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া দরকার, কোনও বিলাসিতা হিসেবে নয়- এই বোধই উদীয়মান জীবনধারার মহামারী কাটিয়ে ওঠার প্রথম পদক্ষেপ।
বাংলা খবর/ছবি/লাইফস্টাইল/
Sleep Problem: ঘুমের অভাবে কমতে পারে আয়ু, অসময়ে মুখে আসতে পারে বুড়োটে ছাপ, ৭ মোক্ষম উপায় মিলবে মুক্তি