১৮টি ফ্লপের কলঙ্ক মুছে সুপারস্টার হওয়ার গল্প! ১৯৫৭ সালের সেই ঐতিহাসিক ছবি
- Published by:Soumendu Chakraborty
Last Updated:
হিন্দি সিনেমার এমন এক অভিনেতা, যাঁকে আজ আমরা ড্যান্সিং সুপারস্টার নামে চিনি, তাঁর কেরিয়ারের শুরুটা ছিল ভীষণই চ্যালেঞ্জে ভরা। ১৯৫৩ সালে বড় পর্দায় পা রাখার পর দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে বক্স অফিসে ব্যর্থতার মুখে পড়তে হয়েছিল। প্রথম তিন বছরে তিনি একের পর এক বহু ছবিতে কাজ করেন, কিন্তু সাফল্য তখনও তাঁর থেকে বহু দূরে ছিল এবং ১৮টি ছবি একের পর এক ফ্লপ হয়ে যায়। সেই সময়ে যখন বড় বড় তারকারা ইন্ডাস্ট্রিতে রাজত্ব করছিলেন, তখন এই অভিনেতার পক্ষে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করা কোনও সংগ্রামের থেকে কম ছিল না।
advertisement
1/8

নয়াদিল্লি। শাম্মী কাপুরকে বলিউড সিনেমার প্রথম “ড্যান্সিং স্টার” হিসেবে মনে করা হয়। তুমসা নাহি দেখা ছবির মাধ্যমে তিনি রাতারাতি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। মজার বিষয় হলো, এই ছবিটি প্রথমে দেব আনন্দের জন্য নির্ধারিত ছিল, কিন্তু ভাগ্যক্রমে তা শাম্মী কাপুরের ঝুলিতে এসে পড়ে। এই ছবিই বক্স অফিসে তাঁর সংগ্রামের দিনগুলোর ইতি টানে এবং তাঁকে একজন বড় তারকায় পরিণত করে।
advertisement
2/8
১৯৫৩ সালে জীবন জ্যোতি ছবির মাধ্যমে অভিষেক করার পর শাম্মী কাপুরকে বক্স অফিসে বেশ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। এটিই ছিল তাঁর কেরিয়ারের প্রথম হিট ছবি। সেই সময়ে যখন দেব আনন্দ, দিলীপ কুমার, মধুবালা, নার্গিস এবং তাঁর বড় ভাই রাজ কাপুর পর্দায় রাজত্ব করছিলেন, তখন শাম্মী কাপুর নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করতে সংগ্রাম করে যাচ্ছিলেন।
advertisement
3/8
১৯৫৩ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে শাম্মী কাপুর ১৮টি ছবিতে কাজ করেছিলেন এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো—সেই সবকটি ছবিই ফ্লপ হয়। কিন্তু তাঁর সাহস আর অদম্য জেদই ছিল এমন, যার জোরে তিনি কখনও হার মানেননি এবং কাজ করে যেতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৫৭ সালে তুমসা নাহি দেখা ছবির মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথম সুপারহিট সিনেমা পান, যা তাঁর ভাগ্য ঘুরিয়ে দেয়।
advertisement
4/8
তুমসা নাহি দেখা সিনেমাটি বক্স অফিসে ১.২৫ কোটি টাকা আয় করেছিল এবং এটি ছিল শাম্মী কাপুরের কেরিয়ারের প্রথম ছবি, যা ১ কোটির গণ্ডি পার করে। একই বছরে তাঁর আরেকটি হিট ছবি আসে—দিল দেকে দেখো, যা ৯০ লক্ষ টাকা আয় করে। শাম্মী কাপুরের সাফল্যের ধারা এখানেই থেমে থাকেনি। তাঁর পরবর্তী ছবি সিঙ্গাপুরও হিট হয় এবং বক্স অফিসে ৫৫ লক্ষ টাকা ব্যবসা করে।
advertisement
5/8
বক্স অফিসে তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া ছবি ‘জঙ্গলি’-র মাধ্যমে। এই ছবির টাইটেল ট্র্যাক ‘ইয়াহু’ এবং ‘এহসান তেরা হোগা মুঝ পর’ গানগুলি তুমুল জনপ্রিয় হয়। জঙ্গলি সেই বছরের দ্বিতীয় সর্বাধিক আয় করা ছবি হয়ে ওঠে এবং বক্স অফিসে ২ কোটি টাকা সংগ্রহ করে।
advertisement
6/8
এরপর ১৯৬২ সালে তিনি টানা তিনটি হিট ছবি দেন—‘প্রফেসর’ (১ কোটি টাকা), ‘দিল তেরা দিওয়ানা’ (৮৫ লক্ষ টাকা) এবং ‘চায়না টাউন’ (৭০ লক্ষ টাকা)। খুব দ্রুতই শাম্মী কাপুর তাঁর মিউজিক্যাল হিট ছবির মাধ্যমে গোটা দুনিয়াকে নিজের ভক্ত করে তোলেন। এর শুরু হয় ছবি ‘রাজকুমার’-এর গান ‘তুমনে পুকারা ঔর হাম চলে আয়ে’ দিয়ে, যে ছবি ১.৬ কোটি টাকা আয় করে। এরপর আসে ব্লকবাস্টার ছবি ‘কাশ্মীর কি কলি’। এই ছবিটি ১.৪ কোটি টাকা ব্যবসা করে এবং এর গান ‘য়ে চাঁদ সা রোশন চেহেরা’ আজও মানুষকে নাচতে বাধ্য করে।
advertisement
7/8
শাম্মী কাপুর বলিউডের প্রকৃত ড্যান্সিং সুপারস্টার হয়ে ওঠেন এবং ‘তিসরি মঞ্জিল’, ‘অ্যান ইভনিং ইন প্যারিস’ ও ‘ব্রহ্মচারী’–র মতো ছবির সুপারহিট গানের জোরে বক্স অফিসে রাজত্ব করেন। ১৯৬৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তিসরি মঞ্জিল’ ছবিতে ‘ও হাসিনা জুলফোঁ ওয়ালি’ ও ‘আজাআ আজাআ ম্যায় হুঁ প্যার তেরা’–র মতো দুর্দান্ত গান ছিল, যা বক্স অফিসে ২.২৫ কোটি টাকা আয় করে। এরপর ১৯৬৭ সালে ‘অ্যান ইভনিং ইন প্যারিস’ ১.৫ কোটি টাকা এবং ‘ব্রহ্মচারী’ ১.২৫ কোটি টাকা ব্যবসা করে। বিশেষ করে ‘ব্রহ্মচারী’ ছবির গান ‘আজকাল তেরে মেরে প্যার কে চর্চে’-তে তো গোটা দুনিয়াই নেচে উঠেছিল।
advertisement
8/8
শাম্মী কাপুরের সব ছবি ‘জঙ্গলি’-র মতো চার্টের শীর্ষে না থাকলেও, তিনি এমন একমাত্র সুপারস্টার ছিলেন যাঁর ছবির গান একের পর এক হিট হতো এবং দর্শকদের নাচতে বাধ্য করত। তাঁর মিউজিক্যাল ব্লকবাস্টার ছবিগুলোর জন্যই তিনি নিয়মিতভাবে বছরের টপ-১০ সর্বাধিক আয়কারী ছবির তালিকায় জায়গা করে নিতেন। লিড অভিনেতা হিসেবে তাঁর শেষ হিট ছবি ছিল ১৯৭১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অন্দাজ’, যা বক্স অফিসে ২ কোটি টাকা সংগ্রহ করে দারুণ সাফল্য পেয়েছিল।