ভারতের প্রথম '3D' ছবি কোনটি? এই সিনেমাই খুলে দিয়েছিল নতুন দিগন্ত! আপনি কি দেখেছেন?
- Published by:Tias Banerjee
Last Updated:
First 3D Cinema Of India: ভারতের প্রথম থ্রিডি সিনেমা এটিই! বাস্তব সেট ও অভিনব নির্মাণ কৌশলে ছবিটি যুগান্তকারী হয়ে ওঠে! অনেকেই জানেন না সেই সিনেমার নাম।
advertisement
1/8

ভারতীয় সিনেমার ইতিহাস মানেই ধারাবাহিক পরীক্ষানিরীক্ষা। নির্বাক যুগ থেকে সবাক, সাদা-কালো থেকে রঙিন—প্রতিটি পর্যায়েই নতুন কিছু করার সাহস দেখিয়েছে এই শিল্পমাধ্যম। সেই ধারাবাহিকতায় আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে ভারতীয় দর্শক প্রথমবারের মতো পা রাখেন একেবারে নতুন এক জগতে—থ্রিডি সিনেমার অভিজ্ঞতায়।
advertisement
2/8
আশির দশকের গোড়ায় ভারতীয় চলচ্চিত্রে বিশেষ প্রভাব বা ভিএফএক্স তখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। তবু পরিচালকদের আগ্রহ ছিল দর্শককে আরও বেশি করে সিনেমার ভেতরে টেনে আনার।
advertisement
3/8
বিদেশে থ্রিডি সিনেমার চর্চা শুরু হতেই ভারতেও প্রশ্ন উঠেছিল—এই প্রযুক্তি কি এদেশের দর্শকের জন্য সম্ভব? প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, থ্রিডি চশমার ব্যবহার, স্টিরিওস্কোপিক প্রজেকশন—সব মিলিয়ে চ্যালেঞ্জ ছিল বিপুল।
advertisement
4/8
এই চ্যালেঞ্জই বাস্তবে রূপ নেয় ১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত My Dear Kuttichathan ছবির মাধ্যমে। পরিচালক ছিলেন জিজো পুন্নুস। এটিই ভারতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ থ্রিডি সিনেমা। ছবির গল্পে ছিল এক বন্ধুত্বপূর্ণ ছোট ভূতের সঙ্গে কয়েকটি শিশুর জাদুকরী অভিযানের কাহিনি। গল্প ছিল সহজ, শিশুতোষ এবং পারিবারিক—কিন্তু ছবির আসল বিস্ময় লুকিয়ে ছিল তার নির্মাণ কৌশলে।
advertisement
5/8
ছবির সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্যগুলির একটি ছিল দেওয়াল বেয়ে হাঁটার দৃশ্য, যেখানে অভিনেতারা ৩৬০ ডিগ্রি ঘূর্ণনশীল স্টিল রিগ ব্যবহার করে অভিনয় করেন। কোনও কম্পিউটার গ্রাফিক্স নয়—পুরোটাই ছিল বাস্তব সেট, ক্যামেরা মুভমেন্ট ও আলোর নিখুঁত সমন্বয়। অনেক সিনেমা বিশ্লেষকের মতে, এই দৃশ্য পরবর্তীকালে ক্রিস্টোফার নোলান ছবিতে দেখা ঘূর্ণায়মান করিডর বা ওয়াল-ওয়াকিং সিকোয়েন্সের ধারণার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
advertisement
6/8
‘মাই ডিয়ার কুট্টিচাথান’ একাধিক কারণে যুগান্তকারী হয়ে ওঠে। প্রথমত, ভারতীয় দর্শক এই প্রথম থ্রিডি চশমা পরে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা পান। দ্বিতীয়ত, হলিউডের সেই সময়কার ভৌতিক বা দানবকেন্দ্রিক থ্রিডি ছবির বদলে, এখানে বেছে নেওয়া হয়েছিল শিশু ও পরিবারের জন্য উপযোগী এক কল্পনার জগৎ। ফলে নতুন প্রযুক্তি ভয় নয়, আনন্দের মাধ্যম হয়ে ওঠে।
advertisement
7/8
ছবিটি মুক্তির পর দর্শকদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। সিনেমা হলের বাইরে লম্বা লাইন, থ্রিডি চশমা পরে ছবি দেখার রোমাঞ্চ—সব মিলিয়ে এটি এক সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়। ১৯৯৮ সালে ছবিটি হিন্দিতে ‘ছোটো চেতন’ নামে ডাব হয়ে মুক্তি পায় এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যেও সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
advertisement
8/8
ডিজিটাল প্রযুক্তি তখনও না থাকায় ছবিটির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল বাস্তব কৌশল ও সৃজনশীলতা। সীমিত প্রযুক্তির মধ্যেও কীভাবে অভিনব ভিজ্যুয়াল তৈরি করা যায়, তার অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে এই ছবি। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় সিনেমায় সিজিআই, ভিএফএক্স ও আইম্যাক্সের ব্যবহার বাড়লেও, ভারতের প্রথম থ্রিডি ছবি হিসেবে ‘মাই ডিয়ার কুট্টিচাথান’-এর পথপ্রদর্শক ভূমিকা আজও অমলিন।