Guess the Actress: শয্যাসঙ্গী প্রেমিককে 'ভাই' বানিয়ে...! মাদক যোগ থেকে সন্ন্যাসিনী, ১২ বছর যোগিনী থাকার পর ফের বোল্ড লুকে বলিউড কাঁপাচ্ছেন, বলুন তো কে এই নায়িকা?
- Published by:Riya Das
Last Updated:
Guess the Actress: ৯০-এর দশকে বলিউডে অনেক নতুন অভিনেত্রীর আগমন ঘটে। মাত্র ৭-৮ বছরের মধ্যেই নিজেদের নাম প্রতিষ্ঠা করেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। 'করণ অর্জুন'-এর মতো সুপার ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দেন। এমনকি ভালবাসার জন্য সবকিছু বাজি রেখেছিলেন। যাকে তিনি 'ভাই' হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, তিনিই পরে তাঁর প্রেমিক হয়ে ওঠেন। কে এই অভিনেত্রী?
advertisement
1/8

বলিউড অভিনেত্রী মমতা কুলকার্নির জীবন কোনও সিনেমার চেয়ে কম নয়। তিনি তাঁর মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে বলিউডে এসেছিলেন। একটি সাক্ষাৎকারে এই কথাটি প্রকাশ করেন মমতা কুলকার্নি। অভিনেত্রী বলেন, 'আমার মা তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে হংকং গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি একটি ক্যামেরা নিয়ে আসেন। তিনি আমাকে কয়েকটি পোজ দেওয়ার জন্য বলেন। আমার পোজগুলো তাঁর পছন্দ হয়েছিল। তাঁর মনের ইচ্ছা ছিল আমি যেন বলিউডে কেরিয়ার গড়ি। এভাবেই, মায়ের কারণে আমি বলিউডে আসি।'
advertisement
2/8
'তিরঙ্গা' (১৯৯২) ছবিতে মমতা কুলকার্নির অভিনয় প্রযোজক ও পরিচালকদের এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে, তাঁরা নিজেদের ছবিতে অভিনয়ের জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এই অভিনেত্রী 'আশিক আওয়ারা' (১৯৯৩), 'করণ অর্জুন' (১৯৯৫), 'আন্দোলন', 'সবসে বড়া খিলাড়ি' (১৯৯৫), 'নসীব', 'ছুপা রুস্তম', 'চায়না গেট', 'ক্রান্তিবীর', 'বেতাজ বাদশাহ' এবং 'বাজ'-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেন। কেরিয়ারের শীর্ষে থাকাকালীন অভিনেত্রী হঠাৎ বলিউড থেকে সরে দাঁড়ান। এর পেছনের কারণটি ছিল বেশ চমকপ্রদ।
advertisement
3/8
মমতা কুলকার্নি ড্রাগ লর্ড বিজয়ের প্রেমে পড়েছিলেন, যিনি ভিকি গোস্বামী নামেও পরিচিত ছিলেন। ভিকি আহমেদাবাদের পালদি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি একসময় আহমেদাবাদে অবৈধ মদ বিক্রি করতেন। তার নিজের একটি জেট প্লেন এবং হোটেল চেইন ছিল। ভিকি ছিলেন গুজরাটের অবসরপ্রাপ্ত ডিএসপি আনন্দগিরি গোস্বামীর ছেলে। মমতা কুলকার্নির বাবাও একজন কমিশনার ছিলেন। ১৯৯৭ সালে, দুবাই পুলিশ মাদক রাখার অভিযোগে ভিকিকে গ্রেফতার করে। তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার কারণে পাঁচ বছর পর তিনি খালাস পান।
advertisement
4/8
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, মমতা কুলকার্নি কখনও ভিকি গোস্বামীকে তাঁর ভাই, আবার কখনও তাঁর প্রেমিক বলে ডাকতেন। কখনও তিনি নিজেকে কুমারী বলে ঘোষণা করতেন, কখনও দাবি করতেন যে ভিকি তাঁর স্বামী। কখনও তিনি এও বলতেন যে তিনি ভিকির সঙ্গে ১৫ বছর কাটিয়েছেন। তাঁর একটি সাক্ষাৎকারে মমতা বলেছিলেন,'আমি ৪০টি বলিউড ছবি ছেড়ে দিয়েছিলাম। আমার বাবা একজন কমিশনার ছিলেন। আমার আগে থেকেই দুটো গাড়ি ছিল। আমি খুব উঁচু পদে ছিলাম। আমার ১০ জন কর্মী, দু'জন ড্রাইভার, দুটো গাড়ি, দু'জন চাকর, তিনটি ফ্ল্যাট ছিল। আমি সারা বিশ্বে ৫০টি কনসার্ট করেছি। আমি যখন দুবাইতে ছিলাম, আমার ভাই জেলে ছিল। সে আমাকে একটি গাড়ি আর একজন ড্রাইভার দিয়েছিল। আমার ভাই ভিকিই এই সবকিছুর ব্যবস্থা করেছিল।'
advertisement
5/8
মমতা টিভি এবং গণমাধ্যমে বিভিন্ন বিবৃতি দিয়েছেন। কখনও তিনি বলিউড ছাড়ার কারণ হিসেবে আধ্যাত্মিকতাকে উল্লেখ করেছেন, আবার কখনও ভিকির প্রতি ভালবাসাকে। ইউটিউবে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'হ্যাঁ, এটা সত্যি যে আমার জীবনে একজন পুরুষের আগমন ঘটেছিল। এটা ১৯৯৬ সালের ঘটনা। ভিকি গোস্বামীর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয় দুবাইতে। আমাদের দেখা হওয়ার চার-পাঁচ মাস পরেই তিনি গ্রেফতার হন। তিনি দুবাই জেলে ছিলেন। আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যেতাম। এটা ১৯৯৭ সালের ঘটনা।'
advertisement
6/8
ভিকি গোস্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মমতা কুলকার্নি বলেছিলেন, '২০১২ সালে আমাকে আটক করা হয়েছিল। ভিকিও জেল থেকে বেরিয়ে আসে। তারপর সে কেনিয়া চলে যায়। আমি ২০১২ সালে ১০ দিনের জন্য এলাহাবাদ কুম্ভ মেলায় গিয়েছিলাম। তারপর তার সঙ্গে দেখা করতে যাই। সে ৫ বছর জেলে ছিল। আমি তার সঙ্গে ১৫ বছর কাটিয়েছি। আমার হৃদয়ে আধ্যাত্মিকতার জাগরণ ঘটে। আমি একটি নতুন পথ বেছে নিই এবং ভিকিকে ছেড়ে দিই।'
advertisement
7/8
মমতা কুলকার্নির জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০২৫ সালের প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভের সময়। অভিনেত্রী যখন কিন্নর আখাড়ার মহামণ্ডলেশ্বর হন, তখন সবাই অবাক হয়ে যান। তিনি তাঁর নাম পরিবর্তন করে যামাই মমতা নন্দ গিরি রাখেন। তবে, মাত্র ১৭ দিন পরেই এই পদটি প্রত্যাহার করা হয়। ব্যাপক বিতর্ক, দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ এবং সাধুদের তীব্র বিরোধিতার মধ্যে কিন্নর আখাড়ার প্রতিষ্ঠাতা ঋষি অজয় দাস তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেন। মমতা দাবি করেন যে তিনি ২৫ বছর ধরে তপস্যা করেছেন।
advertisement
8/8
মমতা কুলকার্নি, যিনি মহা কুম্ভ মেলায় গেরুয়া পোশাক পরে সন্ন্যাসী জীবন গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেছিলেন, একটি টিভি শো-তে ফিরে এসেছেন। এরপর তিনি গেরুয়া পোশাক খুলে আধুনিক পোশাক পরে গোয়া ভ্রমণ করেন। তাঁর এই স্টাইল পরিবর্তনে ভক্তরা অবাক হন এবং কেউ কেউ তাঁকে ট্রোলও করেন। অভিনেত্রী বন্ধুদের সঙ্গে বসে থাকা নিজের একটি ভিডিওও শেয়ার করেছেন, যেখানে টেবিলে বিয়ার ভর্তি একটি মগ রাখা ছিল। অন্য একটি ভিডিওতে তিনি তাঁর গোয়া ভ্রমণের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।