এর পরিবর্তে, নাখোদার মত যে জুবিনের মৃত্যু “কেবলমাত্র একটি দুর্ভাগ্যজনক ও মর্মান্তিক আকস্মিক ডুবে যাওয়ার ঘটনা” এবং কেউ তাঁকে জোর করে, চাপ দিয়ে বা ধাক্কা দিয়ে জলে নামায়নি। তাঁর স্পষ্ট মত, তাঁকে উদ্ধারকারী সাঁতারুরা ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর মুখ জলের নীচে চেপে ধরেছিল, এমন কোনও প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
নাখোদা বলেন, ৫২ বছর বয়সি জুবিন গর্গ মদ্যপ ছিলেন এবং সম্ভবত এটিই তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে ব্যাহত করেছিল। এর মধ্যে রয়েছে প্রথমবার সাঁতার কাটার সময় লাইফ জ্যাকেট খুলে ফেলা এবং ইয়টের ক্যাপ্টেন ও অন্যান্য যাত্রীরা সরঞ্জামটি পরতে বলা সত্ত্বেও দ্বিতীয়বার সাঁতার কাটার সময় সেটা ব্যবহার না করার ক্ষেত্রে তাঁর অনড় থাকা।
advertisement
প্রসঙ্গত ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, উত্তর-পূর্ব ভারত উৎসবে গান গাওয়ার নির্ধারিত দিনের ঠিক একদিন আগে, । সিঙ্গাপুর ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি উৎসবে যোগ দিতে গায়ক সিঙ্গাপুরে ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুর খবর পেয়ে উৎসব বাতিল করা হয়। আদালতকে জানানো হয়, অসম রাজ্যের এবং সম্ভবত উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় গায়ক হিসেবে জুবিনকে ওই উৎসবে গান গাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
আরও পড়ুন : ঢেঁড়শ খেলেই কিডনিতে জমবে পাথরের পাহাড়? আর কোন কোন রোগে ভুলেও দাঁতে কাটবেন না এই সবজি? জানুন
মৃত্যু-সমীক্ষক জানান যে, জুবিন গর্গ বিলাসবহুল জলযানে জলবিহারে রাজি হয়েছিলেন এবং তাঁকে এতে বাধ্য করা হয়েছিল এমন কোনও প্রমাণও পাওয়া যায়নি। প্রায় ২০ জনের একটি দল ল্যাজারাস দ্বীপ এবং সেন্ট জোনস দ্বীপের মধ্যবর্তী স্থানে তাঁদের ইয়টের নোঙর ফেলে এবং মদ্যপান, সাঁতার ও কায়াকিংয়ের মতো কার্যকলাপে অংশ নেয়।
চ্যানেল রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রত্যক্ষদর্শীরা গর্গকে মদ্যপান করতে দেখেছেন এবং তাঁদের মধ্যে একজন বলেছেন যে তিনি কয়েক কাপ লিকার, জিন ও হুইস্কির পাশাপাশি কয়েক চুমুক গিনেস স্টাউট (বিয়ার) পান করেছিলেন। জুবিনকে প্রথমবার লাইফ জ্যাকেট পরে সাঁতার কাটতে গেলেও, পরে তা খুলে ফেলেন এবং ল্যাজারাস দ্বীপের দিকে দ্বিতীয়বার সাঁতার কাটার সময় আরও একটি জ্যাকেট নিতে অস্বীকার করে।
ইয়টে থাকা দলের সদস্যরা তাঁকে ফিরিয়ে আনার জন্য চিৎকার করেন, কারণ তাঁর গায়ে লাইফ জ্যাকেট ছিল না। জুবিন ঘুরে নৌযানের দিকে সাঁতরাতে শুরু করলে জলেই নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করে ইয়টে ফিরিয়ে আনা হয় এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি মারা যান। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবে জলে ডুবে যাওয়াকে চিহ্নিত করা হয়।
তদন্তকারী জানতে পারেন যে, জুবিন গর্গ তাঁর মৃত্যুর আগের দিনগুলো এবং মৃত্যুর দিনেও মদ্যপান করছিলেন। আদালতকে এর আগে জানানো হয়েছিল যে, একটি টক্সিকোলজি বিশ্লেষণে দেখা গেছে জুবিনের দেহে প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে ৩৩৩ মিলিগ্রাম অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল, যা তীব্র নেশার ইঙ্গিত দেয় এবং এর ফলে তাঁর শারীরিক সমন্বয় ও প্রতিবর্ত ক্রিয়া ব্যাহত হয়েছিল। তুলনার জন্য বলা যায়, সিঙ্গাপুরের মানদণ্ডে প্রতি ১০০ মিলি রক্তে এর আইনি সীমা হল ৮০ মিলিগ্রাম। জুবিন গর্গের মূত্রের নমুনাতেও উচ্চ মাত্রার ইথানল পাওয়া গিয়েছে।
