Bankura News: শুশুনিয়া পাহাড়ের এতিহ্য, পাথরের গুঁড়োয় গড়া ইতিহাস রয়েছে এই থালায়
- Reported by:Nilanjan Banerjee
- hyperlocal
- Published by:Riya Das
Last Updated:
Bankura News: শুশুনিয়া পাহাড়ের পাদদেশে পাথরের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি কারুশিল্প আজ বাঁকুড়ার এক অনন্য পরিচয়। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রেখে শিল্পীরা পর্যটকদের হাতে তুলে দিচ্ছেন শুশুনিয়ার ইতিহাসের এক টুকরো।
advertisement
1/6

বাঁকুড়া জেলার শুশুনিয়া পাহাড় শুধুমাত্র একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চলও বটে। হাজার হাজার বছর ধরে এখানে ব্যবহৃত ও নির্মিত পাথরের নিদর্শনের প্রমাণ মিলেছে। সেই প্রাচীন ইতিহাসের ধারাবাহিকতাই আজ নতুন রূপে ধরা দিচ্ছে আধুনিক পাথর কারুশিল্পে, যা পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। ছবি ও তথ্য নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
advertisement
2/6
এক সময় শুশুনিয়া পাহাড় পাথরের প্রাচুর্যের জন্য পরিচিত ছিল। পাহাড়ের গা থেকে পাথর কেটে তৈরি হত নানা শিল্পদ্রব্য। তবে দীর্ঘদিন ধরে পাথর উত্তোলনের ফলে পাহাড়ের ক্ষয় বাড়তে থাকায় বন দফতরের আইন অনুযায়ী এখন আর পাহাড় থেকে পাথর সংগ্রহ করা যায় না। তবুও থেমে যায়নি শুশুনিয়ার পাথর শিল্প—কারণ শিল্পীরা এখন পাথরের গুঁড়ো ব্যবহার করেই তাঁদের সৃষ্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
advertisement
3/6
ঐতিহ্যগত ও উত্তরাধিকার সূত্রে শুশুনিয়া গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন বহু দক্ষ পাথরশিল্পী। নয়ন কর্মকার, সনাতন কর্মকার, হীরালাল কর্মকারের মতো শিল্পীরা তাঁদের কাজে জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাঁদের তৈরি পাথরের পাত্র, থালা, বাটি, হামান-দিস্তা, অ্যাশট্রে, ধূপের স্ট্যান্ড ও দেব-দেবীর ভাস্কর্য শিল্পমানের দিক থেকে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
advertisement
4/6
এই সমস্ত শিল্পদ্রব্য বিক্রি হয় শুশুনিয়া পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত শুশুনিয়া বাজারে। সারি সারি স্টলে সাজানো থাকে নানা ধরনের পাথরের সামগ্রী। শীতের মরশুমে পর্যটকদের ভিড় বাড়লে এই বাজারেও প্রাণ ফিরে আসে। শিল্পী বাবলু কর্মকার জানান, এই থালা বিক্রি হয় প্রতি বছর শীতের সময়। সারা বছর পাওয়া গেলেও বিক্রির সংখ্যাটা বাড়ে এই সময়টাতে কারণ পর্যটক এর সংখ্যা বেশি।
advertisement
5/6
শীতকালে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ‘শুশুনিয়া’ লেখা পাথরের থালা। দেখতে রঙিন হলেও এই থালাগুলি বেশ হালকা ও টেকসই, কারণ এগুলি পাথরের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি। সাইজ অনুযায়ী এই থালার দাম ৭০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
advertisement
6/6
পাথরের শিল্পদ্রব্য তৈরি করতে যথেষ্ট খাটনি লাগে, কিন্তু সেই তুলনায় মুনাফা খুব বেশি নয়। তবুও শিল্পীরা দিনের পর দিন তাঁদের শিল্পদ্রব্য নিয়ে বাজারে বসেন পর্যটকদের অপেক্ষায়। শুশুনিয়া পাহাড়ের পাদদেশে এই পাথর শিল্প আজও বহন করে চলেছে বাঁকুড়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরিশ্রমী মানুষের পরিচয়।