এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মালদহের কালিয়াচকের সাম্প্রতিক অশান্তি নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, কালিয়াচক, সুজাপুর বা মোথাবাড়ির মতো এলাকায় বছরের পর বছর ধরে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে। তাঁর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে বাংলায় ‘দেশবিরোধী’ শক্তির বাড়বাড়ন্ত হয়েছে এবং প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি তোলেন।
advertisement
দিলীপবাবুর সাফ কথা, ‘‘যেভাবে আদালত, প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ জানান হচ্ছে এবং বিচারকদের উপর হামলা হচ্ছে, তাতে রাষ্ট্রপতি শাসন ছাড়া অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট হওয়া অসম্ভব।’’ তৃণমূল নেতাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর কটাক্ষ, যে সমস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের মামলা রয়েছে, তাদের জনগণের টাকায় পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সুরক্ষা না দিয়ে পুলিশ কেন তৃণমূলের বুথ সভাপতিদের পাহারা দিচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “তৃণমূল নেতাদের এবার মানুষের মুখোমুখি হতে হবে, পুলিশ দিয়ে আর কতদিন রক্ষা পাওয়া যাবে?”
অন্যদিকে, খড়গপুরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিজেপির ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ তুলে তিনি সরাসরি তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকারকে নিশানা করেন দিলীপ। তাঁর দাবি, হেরে যাওয়ার ভয়েই তৃণমূল এখন এই ধরনের নোংরা রাজনীতি শুরু করেছে ঘাসফুল শিবির।
নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়েও এদিন নিজের মতামত জানান দিলীপ ঘোষ। ফর্ম-৬ এর মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইনে নাম তোলার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এতে অনেক বঞ্চিত মানুষ আবার তালিকায় ফেরার সুযোগ পাবেন।’’ পরিশেষে মালদহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোড শো এবং প্রচারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে, তাই মুখ্যমন্ত্রীকে এখন গলিতে গলিতে ঘুরে হাতজোড় করতে হচ্ছে। কিন্তু এতেও শেষ রক্ষা হবে না।’’
সব মিলিয়ে, মনোনয়ন দাখিলের আগেই দিলীপ ঘোষের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ মেদিনীপুরের নির্বাচনী লড়াইকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।