রাজ্যে জ্বালানি সঙ্কট কাটাতে উদ্যোগী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে নয় দফা এসওপি জারি করেছেন এবং নবান্নে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে, সেই প্রসঙ্গ তুলেই তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলনকে কটাক্ষ করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, তৃণমূল বুঝে গেছে নির্বাচনের পরে তাদের পথে নামতেই হবে, তাই এখন থেকেই আন্দোলনের নাটক শুরু হয়েছে।
advertisement
দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, খড়গপুরের এক গ্যাস এজেন্ট তাঁর কাছে এসে জানিয়েছেন যে ডিস্ট্রিবিউটর থেকে এত বেশি পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে যে রাখার জায়গা পর্যন্ত নেই। উপর থেকে সিলিন্ডারের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশও নাকি দেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি সংবাদমাধ্যমকে উদ্দেশ করে বলেন, “তৃণমূলের মিথ্যা প্রচার করবেন না, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাবেন না।”
এদিকে, রাজ্যে খুব শীঘ্রই নির্বাচন ঘোষণার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। কমিশন সূত্রে খবর, সম্ভবত সোমবারই ভোট ঘোষণা হতে পারে এবং এক থেকে তিন দফায় ভোটগ্রহণ হতে পারে। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, বিজেপিও অপেক্ষা করছে। দ্রুত নির্বাচনের ঘোষণা হোক। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষিত হলেই দলীয় কর্মীরা মাঠে নেমে পড়বেন। প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়েও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। দিলীপ ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যদি ক্ষমতায় ফিরে আসেন তবেই তো কাউকে আবার পদে বসাতে পারবেন। আইন না মানলে সবাইকেই শোকজের মুখে পড়তে হবে। নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে চলাই উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের ডিএ না মেলার বিষয়েও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি পূরণ না করে বরং তাদের বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। কর্মচারীদের সম্মান ও স্বার্থ রক্ষা করতে না পারলে সেই সরকার কীভাবে মানুষের আস্থা পাবে, প্রশ্ন তোলেন তিনি। সব মিলিয়ে খড়গপুরের এই অনানুষ্ঠানিক চা চক্রেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একের পর এক তোপ দাগতে দেখা গেল বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষকে।
