রীতিমতো পেশাদার রাজনীতিকের ভাষা ও কায়দায় ঝাঁঝালো বক্তৃতা দিল একরত্তি। যা দেখে-শুনে কার্যত হতবাক সভাশুদ্ধু মানুষ। কংগ্রেসের মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বৃহস্পতিবার মুহূর্তে মানুষের মন জয় করে নিল সবেমাত্র ক্লাস ওয়ানে পড়া শিশু ‘রাজনৈতিক’। তাঁর ঝাঁঝালো বক্তব্য শুনে আপ্লুত এমনকি দুঁদে রাজনীতিবিদ অধীর রঞ্জন চৌধুরীও।
advertisement
মুর্শিদাবাদ বিধানসভার জিয়াগঞ্জ শহরের বাসিন্দা কংগ্রেস সভাপতি অনিরুদ্ধ ঘোষ ও তাঁর স্ত্রী মল্লিকা ঘোষ। ঘোষ দম্পতির সন্তান খুদে আর্যায়ন ঘোষ। একটি বেসরকারি স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। ছোটবেলা থেকেই তাঁর আবৃত্তি, গল্পের বই পড়া ও তাৎক্ষণিক বক্তৃতায় অংশ গ্রহণ করা। ছেলের এই আগ্রহকে উৎসাহ জুগিয়েছেন ঘোষ দম্পতি।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে ভারতীয় ১ টাকার ‘দাম’ কত হয়ে যাবে জানেন…? ‘উত্তর’ চমকে দেবে, শিওর!
জিয়াগঞ্জ টাউন কংগ্রেসের রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলন ছিল এদিন। প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরীর। ঠিক তখনই ছোট্ট আর্যয়ন বাবার কাছে আবদার রাখে কর্মী সম্মেলনে সে নিজে বক্তব্য রাখবে। সন্তানের এই আবদার ফেলতে পারেননি বাবা অনিরুদ্ধ ঘোষ। কর্মী সম্মেলনে বাবার সঙ্গে সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে কর্মী সম্মেলনে হাজির হয় একরত্তি।
মঞ্চে তখন বসে অধীররঞ্জন চৌধুরী থেকে জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী-সহ জেলা নেতৃত্ব। মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে আর্যায়ন শুরু করে, “আমাদের প্রিয় নেতা লোকসভার প্রাক্তন দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। সকল নেতৃত্ববৃন্দ ও সংগ্রামী মুর্শিদাবাদ জেলাবাসীকে বিপ্লবী শুভেচ্ছা। আজ আমরা দাঁড়িয়ে আছি ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদ শহরে। যে মাটি স্বাধীনতার ও গণতন্ত্রের স্বাক্ষী। এই মুর্শিদাবাদ কখনও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি। আজও করবে না। আজ দেশের মানুষ ভয়, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি আর বিভাজনের রাজনীতিতে জর্জরিত। সংবিধান আক্রান্ত। অধিকার প্রশ্নের মুখে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষা, চিকিৎসা ব্যবস্থার করুণ চিত্র। স্কুলে শিক্ষক নেই। বই নেই। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। হাসপাতালে বেড নেই। ডাক্তার নেই। চিকিৎসার অভাবে মানুষ কাঁদছে।এই অবস্থায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস একমাত্র শক্তি যে মানুষের পাশে থেকে লড়াই করেছে।” সব শুনে স্তম্ভিত অধীর রঞ্জন চৌধুরী। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা বলেন, “খুদে এই শিশু যা বক্তব্য রেখেছে, তাতে আমি আপ্লুত। আগামী দিনে পড়াশুনো করে ওই শিশু আরও উন্নতি করুক এটাই চাই।”
কৌশিক অধিকারী





