প্রসঙ্গত, SIR এর কারণে অনেক পরিযায়ী শ্রমিক রাজ্যে ফিরেছেন। অনেকেই আবার কাজ মিটিয়েই ফিরে গেছেন ভিন রাজ্যে কর্মসূত্রে। সেই সব শ্রমিকরা আবার ভোট দিতে আসবেন তো? লোকসভা ভোটের সময়ে এই আশঙ্কা কিছু জায়গায় সত্যি হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস মনে করে যে কারণে বেশ কয়েকটি আসনে ফলের হেরফের হয়েছে। বিধানসভা ভোটের ব্যাপ্তি রাজ্য জুড়ে অনেক বেশি। তাই ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে ‘বাংলা বলায়’ অত্যাচারিত ও মৃতদের কথা প্রচারে আনার ভাবনা শাসকদলের।
advertisement
ইতিমধ্যেই মালদায় পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে সভা করেছেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। সম্প্রতি পুণেতে মৃত পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতেও গিয়েছেন৷ সব মিলিয়ে এবার মূলত বিজেপি শাসিত রাজ্যে কীভাবে অত্যাচারিত হতে হচ্ছে সেই বার্তা ভোট প্রচারে রাখতে চায় শাসকদল।
রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদ সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ১১৪৭টি অত্যাচারিত হওয়ার অভিযোগ এসেছে। নানা অত্যাচারের অভিযোগ জমা পড়েছে পর্ষদের কাছে। দিল্লি, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশা, অসম, রাজস্থান, কর্ণাটক, ঝাড়খণ্ড থেকে অভিযোগ এসেছে। অভিযোগের ৩৮ শতাংশই ওড়িশার ঘটনা বলে দাবি পর্ষদের।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলার ১২ জন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে চার জন মারা গিয়েছেন মহারাষ্ট্রে। ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, অসম, রাজস্থান, হরিয়ানা, তামিলনাড়ু, ঝাড়খণ্ডে বিভিন্ন সময় মৃত্যু হয়েছে বাকিদের।
দীর্ঘদিন ধরে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করছেন সামিরুল ইসলাম। রাজ্যসভার সাংসদ জানাচ্ছেন, ‘‘দেশে আর কোনও রাজনৈতিক দল তো পরিযায়ী শ্রমিকদের উন্নয়নে কাজ করছে না। তাদের যে ধরনের অসুবিধার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে সেটা থেকে রেহাই দিতে কাজ করছে না। তাই বিজেপি শাসিত রাজ্যে যেভাবে অত্যাচারিত হচ্ছেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা, আশা করব, সেই অত্যাচার যাতে আর না হয়, সেটা বুঝে ভোটের লাইনে এসে দাঁড়াবেন।’’
