গোদা বাংলায় ভিনরাজ্য থেকে ভোটার তালিকায় নাম ‘ঢোকানোর’ অভিযোগ এনেছেন অভিষেক৷ বুধবার এসআইআর মামলার শুনানি চলাকালীনও প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের সামনে ফর্ম ৬ বিষয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেন তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়৷
advertisement
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বার হয়েছে। বিবেচনাধীনদের নামের নিষ্পত্তি করার কাজ চলছে। এই অবস্থায় বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম ৬ জমা পড়ছে। কোনও রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ করছি না। কিন্তু এখন কেন? আমাদের কাছে ভিডিও আছে দিস্তা দিস্তা ফর্ম ৬ জমা পড়ে রয়েছে সিইও অফিসে। আমাদের কাছে ভিডিও আছে৷” এ নিয়ে অভিযোগ জানাতেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘অনুমানের ভিত্তিতে বলবেন না৷’’
কল্যাণ জানান, ‘‘একজন ব্যক্তি ৩০ হাজার ফর্ম-৬ জমা করছেন? ’’ উত্তরে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘প্রায় প্রতি বারই এই অভিযোগ ওঠে, এটা নতুন কিছু নয়। নির্দিষ্ট করে আপনি আপত্তি তুলতে পারেন।” বিচারপতি বাগচি বলেন, “বিজ্ঞপ্তির পরে একটি নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত ভোটার তালিকা নিয়ে ভোট হয়। তার পরে কারও নাম ফর্ম ৬ দিয়ে উঠল মানেই তিনি ভোট দিতে পারবেন এমন নয়।” প্রধান বিচারপতি জানান, ‘‘এরকম হতে পারে। আপনাদের আপত্তি থাকলে সেটা জানান সেখানে৷’’
কমিশনের তরফে বলা হয়, ‘‘আইনে বলা আছে দেখুন ফর্ম ৬ জমা দেওয়া একটি চলমান পদ্ধতি। যে কেউ দিতে পারেন। কমিশন সব যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়।’’ কমিশনের আইনজীবী আদালতকে জানান, ‘‘আইনের অনুচ্ছেদ ২৩ অনুযায়ী, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত নাম অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। আজ কেউ যদি ১৮ বছরে পা দেন, তাঁরও (ভোটার তালিকায় নাম তোলার) অধিকার আছে। কারও আইনগত অধিকার থাকলে, তা কেউ বাধা দিতে পারে না।’’ কমিশন জানিয়েছে, কারও এই ফর্ম-৬ এর বিরুদ্ধে অবজেকশন থাকলে সেটা জানাতে পারে।
সব শুনে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির পর্যবেক্ষণ, ‘‘কেউ যদি এখন তালিকায় থাকেন, কিন্তু পরে বাদ পড়েন, সে ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। তাই মনে রাখতে হবে—কেউ যদি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না-পারেন, তার মানে এই নয় যে, তাঁর ভোটাধিকার চিরতরে কেড়ে নেওয়া হবে।’’
